ধরুন ব্যক্তি ‘ক’ ব্যক্তি ‘খ’ কে একটা ঘুষি দিল

ধরুন ব্যক্তি ‘ক’ ব্যক্তি ‘খ’ কে একটা ঘুষি দিল। এখন ব্যক্তি ‘ক’ কোন পেশার তার উপর নির্ভর করে পত্রিকার পাতার শিরোনাম লেখা হবে।

যদি ব্যক্তি ‘খ’ একজন সাংবাদিক হন তাহলে শিরোনাম আরো ইন্টারেস্টিং হবে।
যদি ব্যক্তি ‘ক’ সাধারণ মানুষের সাথে বেশি ইন্টারএকজশন হয় এই ধরনের পেশা যেমন পুলিশ, ডাক্তার, ইন্টার্ন ডাক্তার(এটা বিশেষ ভাবে লিখলাম), সরকারী অফিসার, ব্যাংক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ইত্যাদি হন তাহলে নিউজ এর টাইটেল এবং লেখার ধরনে আলাদা কিছু হবেই হবে।

মানে যে ঘুসি দিচ্ছে আর যে খাচ্চে তাদের পেশানুসারে নিউজ এর টাইটেল এবং খবরের গল্পটা সাজানো হয়। সাজানো হয় কারণ ধরুন কেউ দিনাজপুর থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকা আসল সেইটা নিউজ হতে পারে ‘অমুক পায়ে হেঁটে দিনাজপুর থেকে ঢাকা আসল’ আবার কেউ লিখতে পারে ‘অমুক দিনাজপুর থেকে ঢাকা আসল’।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষ সেই নিউজ এর টাইটেল এবং মূল খবর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা করে। যেমন ধরুন একবার একটা নিউজ এই রকম ছিল, ‘ডাক্তার ইনজেকশন পুশ করার পরপরই রোগী মারা যায়’ … এটা কোন মিথ্যা নিউজ ছিল না কারণ ডাক্তার ইনজেকশন পূশ করেছিল এটা যেমন সত্য এবং এরপর রোগী মারা গিয়েছিল সেটাও সত্য। তবে রোগী ছিলেন মরাপন্ন আর ডাক্তার প্রচন্ড সংকটাপন্ন রোগীকে যে চিকিৎসা দেওয়া উচিৎ ছিল সেইটাই দিয়েছেন, না দিলেও যে রোগী বাঁচত এটা কেউ দাবী করতে পারবে না আবার ইনজেকশন দেওয়ার কারণে যে রোগী মারা গেছে তা ঠিক নয় কারণ সেটা রোগীকে বাঁচানোর জন্যই দেওয়া হয়েছে। যেমন, প্রচন্ড জ্বর হলে রোগীকে ট্যাবলেট বা লিকুইড ওষূধ না দিয়ে পাছার ফুটো দিয়ে ডুকানোর ওষূধ দেওয়া হয় কারণ এটা সবচেয়ে তাড়াতাড়ি কাজ করে, ধরেন কেউ এই ওষূধ গ্রহন করার পরপর মারা গেল তাহলে নিউজটা কেমন হবে ?

“পাছার ফুটো দিয়ে ওষূধ ঢোকানোর পরপর রোগী মারা গেল !”

আমাদের সব পেশার মানুষের সাথে পেশায় নিযুক্ত থাকা কালীন সময়ে সাধারণ মানুষের সাথে ইন্টারএকশন হয় না। পুলিশ, ডাক্তার, ইন্টার্ন ডাক্তার(এটা বিশেষ ভাবে লিখলাম), সরকারী অফিসার, ব্যাংক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ইত্যাদি পেশার মানুষের বেশি হয়। অনেকসময় শরীর স্পর্শ করা বা খুব কাছাকাছি থেকে সেবা দেওয়া লাগে। শিক্ষিত মানুষ আর ভদ্র মানুষ আলাদা, কারো দুইটা গুন থাকে, কারো একটা এবং কারো কোনটাই থাকে। সমস্যাটা বাধে এই খানে। কেউ হয়তো একজন মহিলা পেশাজীবীর গায়ে হাত দিয়েই ডাকতেছে, “ওআপা ওআপা” … বিষয়টার ইমপ্যাক্ট অনেক রকম হতে পারে এবং সেই ইমপ্যাক্ট এর ফলাফল পত্রিকার পাতায় ভিন্ন ভিন্ন ভাবে লেখা হতে পারে, নির্ভর করবে ‘কে’ এবং ‘কাকে’ ঘুষিটা দিচ্ছে তার উপর।

দেখেন পূরা লেখার ভেতর কিন্তু “পাছার ফুটো দিয়ে ওষূধ ঢোকানোর পরপর রোগী মারা গেল !” এই লাইনটা আপনি বিশেষ ভাবে খেয়াল করেছেন। এখন যদি এটা নিউজের টাইটেল হয় তাহলে অনেক হিট হবে তাই না ? যদি রোগী ডাক্তারকে পেটায় সেই নিউজ কেউ খাবে না, কিন্তু ডাক্তার যদি রোগীকে পেটায় তাহলে সেই নিউজের টাইটেল কিন্তু লোকজন খাবে। ধরুন দুজন দুজনকেই পেটাল কিন্তু নিউজে করার সময় একটা নিউজ হাউজ কিংবা সাংবাদিক কিন্তু ‘ডাক্তার রোগীকে পেটাল !’ এটাকেই বেছে নিবে।

ধন্যবাদ

Ref: Facebook post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *