পথ চলার গল্প (পুরাতন লেখার সংগ্রহ)

ইন্টারনেটে বাংলা লেখার শুরুর দিকে ইয়াহুর ব্লগ সার্ভিস ইয়াহু৩৬০ তে লিখতাম । সেইদিনগুলোতে পথচলার গল্প নিয়ে লিখতাম যা পরে প্রজন্ম ফোরাম এবং সামহোয়ার ব্লগে লিখেছিলাম। আজকে হঠাৎ মনে পড়ে গেল। আর লেখাগুলো যাতে হারিয়ে না যায় কোন ভাবে তাই এখন নিজের ব্লগেই আর্কাইভ করার চেস্টা করছি।

পথে পথে ,মানচুমাহারার পথ চলা-১

বিকাল আসলে আমার ভেতর একটা অস্থিরতা তৈরি হয় মনে হয় কখন বের হব রাস্তায়,মুক্ত হাওয়ায় কখন ঘুরে বেড়াবো।প্রায় প্রতিদিনই আমি বিকালে ১/২ ঘন্টার জন্য রাস্তা ঘাটে হাঁটি।এটা এখন আমার অভ্যাস হয়ে গেছে মনে হচ্ছে।বেশির ভাগ দিনেই একাই হাঁটি কারন মাঝে মাঝে ২/১ বন্ধুকে বললে রাজি হয়।একা তো কি হইছে পথে কতো মানুষ !
শুধু যে পথে হেঁটেই চলি তা ঠিক নয়।প্রায়ই পথের প্রেমে পড়ে যায়।আর প্রতিদিনই নিজেকে পথের মাঝে নতুন করে আবিস্কার করি।নিজের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসাবে আমি এই সময়টাকে বেছে নিয়েছি…।
প্রতিদিন নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হয়।ভাবছি মাঝে মাঝে আমার পথের আনন্দ-দুঃখ গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
আমি বেশ খামখেয়ালী,আবার কখনো সিরিয়াস।একদিন রিক্সার ঘুরবো ভাবলাম।এক রিক্সাওয়ালাকে বললাম ভাই যাবেন।সে রাজি হলো ভাড়া চাইলো ২০ টাকা।আমি বললাম ঐখানে ভাড়া ১৫ টাকার বেশি হয় না।ঠিক আছে আমি আপনাকে ১৮ টাকা দেবো।সে আমাকে বেশ তুচ্ছ করে বললো ২ টাকা আবার কোন ব্যাপার নাকি।আমার কথাতা বেশ খারাপ লাগলো।আমি বললাম ২টাকা আপনার কাছে কোন ব্যাপার না।আমি যত দূর জানি দিন মজুর কিংবা খেটে খাওয়া মানুষের ২ টাকা আয় করতেই গায়ের ঘাম ঝরাতে হয়।আমি তাকে বললাম ঠিক আছে,”আপনার কাছে তো ২ টাকা কোন ব্যাপার না,তাহলে আমারে ২ টা টাকা দেন”, সে আশেপাশের রিক্সাওয়ালাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমাকে পকেট থেকে ২ টাকা বের করে দিলো।আমি ঐ ২ টাকা আমার নিজের পকেটে রেখে আমার গন্তব্যের দিকে আবার পায়ে হেঁটেই চলা শুরু করলাম।মাঝে মাঝে একবার পেছেন ফিরে চেয়ে দেখালাম ঐ রিক্সাওয়ালা আমার দিকে করুন দৃষ্টুতে চেয়ে আছে।
আমি জানি না আমি পাপ করেছিলাম না ঠিক করেছিলাম।আমি সেই দিন ঐ ২ টাকা নিয়ে চলে এসেছিলাম পৃথিবীর সব খেটে খাওয়া মানুষকে শ্রদ্ধা জানাতে।আজ এই টুকুই …।
“আমি আজন্ম ভবঘুরে,
মৃত্যুহীন পথিক ।
একদিন তুই ও এই পথে আসবি কিন্তু
সেই দিন পথিক থাকবে না।।”

পথে পথে,মানচুমাহারার পথচলা-২

সেদিন দুপুরের খাওয়ার জন্য সেন্ট্রাল ক্যাফেতে গেলাম ৩ বন্ধু মিলে। খাওয়া দাওয়ার এক পর্যায়ে একটা ছোট্ট ছেলে প্রতি দিনের মতো কিছু প্রায় শুকিয়ে যাওয়া গোলাপ ফুল নিয়ে আসলো আমাদের সামনে। স্যার একটা ফুল নেন-২টাকা- ভাত খাবো। আমরা প্রতিদিন যা করি তাই করলাম…”যা ঐ টেবিলে যা, দেখা ঐখানে অনেক আপু আছে…ঐ খানে জুটি আছে।”…কোন কোন দিন ফুল নিই না তবে ২/১ টাকা তাকে দিয়ে দিই কেউ।
সেদিন বার বার আমাদের কাছে আসছিলো স্যার একটা ফুল নেন ভাত… আমি এক পর্যায়ে বললাম ভাত খাবি ?… সে মাথা নাড়ালো। আমি নিজের জন্য যা অর্ডার দিলাম ওর জন্য তাই অর্ডার দিলাম। খুব আনন্দের সাথে হাত ধুয়ে এসে সে খেতে বসলো। আমরা সবাই তাকে চেয়ে চেয়ে দেখলাম। এক সময় তার বড় এক ভাই ,প্রায় সমান বয়সী, তাকে পেছন থেকে এসে বললো,কি খাইতেছিস… কিছুক্ষন পর দেখলাম ছেলেটা তার খাওয়া অর্ধেক শেষ করে তার বড় ভাইকে খেতে দিচ্ছে…………………………।।
আমাদের খাওয়া প্রায় শেষ। চলে আসলাম সবাই ।বিকালে এক ফ্রেন্ড (সিয়াম) বললো তুই কয় জনকে পারবি এই ভাবে খাওয়াতে।
আমি হয়তো পারবো না। কিন্তু আমরা সবাই চেষ্টা করলে পারবো। আর যে বয়সে একটা শিশুর স্কুলে যাওয়ার কথা, মার কোলে বসে গল্প শোনার কথা সেই বয়সে তাকে ফুল বিক্রি করতে হয় নিজের খাওয়া জোগাড় করতে…।
খাওয়ার এক পর্যায়ে দেখলাম ক্যাফের মালিক ছেলেটার কানে কানে বলে গেলো খাওয়ার পর তোকে যেন এই ক্যাফে আর দেখিনা।
পথের গল্পগুলো পথেই শেষ করি। পারলে কিছু করার চেস্টা করি না পারলে চুপচাপ বলে দেই, “যা সামনের টেবিলে যা, দেখ অনেক আপা আছে”।

মানচুমাহারা

ঈশ্বরের কিংবা অঈশ্বরের কাছাকাছি-পথে পথে মানচুমাহারা-৩

ঈশ্বর কোন মন্দিরে থাকেন আমি জানি না। মানুষের হৃদয় কিংবা ইট-বালি-পাথরের তৈরি মন্দিরে…।
আমি কখনও ঈশ্বরের খোঁজে মন্দিরে যাইনি, যেতে চাইও না।মানুষের মাঝে ,পথের মাঝে ঈশ্বরের খোঁজে মাঝে মাঝেই বের হই। আমার পথের গল্প গুলোর আজ তৃতীয় পর্ব। বেশি সময় নষ্ট করবো না আপনাদের।।

আমাদের হলের (বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল) সামনের রাস্তায় এক বৃদ্ধা মহিলা প্রতিদিন বসে থাকেন, সারাদিন। কেউ পাশ দিয়ে গেলে তার দিকে একটা থালার মতো পাত্র বাড়িয়ে দেন। কেউ কেউ দেয়, কেউ দেয় না। আমি মাঝে মাঝে খুচরা পয়সা থাকলে কোন কোন দিন দিই। আমি আমার প্রশংসা করতে লিখতে বসিনি। আজ দুপুরে যখন ক্লাস থেকে হলে ফিরছিলাম তখন খেয়াল করলাম সেই বৃদ্ধাকে ঘিরে কিছু ছোট ছোট মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি একটু আগ্রহ নিয়ে লক্ষ্য করলাম। ওরা মনে হয় প্রাইমারী স্কুলে পরে। স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছে। যে জন্য লেখা তা হচ্ছে, ৩/৪ জনের ভেতর একজন তার টিফিন থেকে কয়েকটা রুটি ঐ বৃদ্ধা মহিলাকে দিয়ে বলছে দাদী এখনি খেয়ে ফেল, এখনি খান……… দাদী যাই……. ।।

বিকালে অনেক পথ হাঁটাহাঁটির পর পলাশী বাজার হয়ে হলে ফিরছিলাম। এক মুড়িওয়ালার কাছে ঝাল মুড়ি খাব বলে দাঁড়ালাম। মুড়িওয়ালা মুড়ি বানাতে বানাতে বললো একটা ছেলে একটু আগে মুড়ি নিল কিন্তু টাকা না দিয়ে ঝারি দিয়ে চলে গেল। তার আগে সে একটা রিক্সায় করে ঐখানে নেমেছে কিন্তু রিক্সাওয়ালাকে টাকা দেয় নাই। বলছে মাপ করো……..।।

হুমম ঈশ্বরের দেখা রাস্তায় মেলে সত্যি। কখনও তিনি হাসি মুখে ভিখারী বৃদ্ধা মহিলাকে রুটি দিয়ে যান, আবার কখনও রিক্সাওয়ালা, মুড়িওয়ালার টাকা ফাঁকি দেন। তাঁকে বোঝা এতো সহজ কি?তবে এটুকু বুঝি যে ঈশ্বরের খোঁজে বের হলে শয়তানের দেখাও মিলে যায় মনে হয়।

আমার পথের গল্প আজ এইটুকুই।।

বিঃদ্রঃ এখানে আমি আমার কল্পনার ঈশ্বরের কথা বলেছি

বিয়ের পরে প্রেম মানচুমাহারার পথচলা-৪

যদি আপনার একটু ফ্রি সময় থাকে তো আসুন। আমি নিজের জীবন থেকে নেওয়া একটা মজার অভিজ্ঞতার কথা বলতে চাই। কারো কাছে যদি মজার না মনে হয় তাহলে কিন্তু আমি দায়ী নই। তাহলে শুনুন আমার পথের গল্প-৪ আর অতি অবশ্যই কোন সিরিয়াস বিষয় নয়।

ঘটনাটা ভাংচুর করে শেষ বারের মতো যখন বুয়েট বন্ধ হয়ে গেলো তখন করার মতো তেমন কোন কাজ ছিলো না। কারন ছিলাম কাকুর বাসায় আর কম্পিউটার কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগও তেমন পেতাম না। যাই হোক দুইটা টিউশনি ছিল। প্রতিদিন তো আর থাকতো না। কিন্তু সারাদিন করবো কি…….. তাই যখন যেদিক মন চাইতো চলে যেতাম হাঁটতে হাঁটতে। একদিন আমার খুব কাছের বন্ধ সুজিত টিউশনিতে যাবে লাল বাগ কেল্লার কাছাকাছি। আমি ওর সাথে গেলাম। কিন্তু আমিতো আর ওর সাথে স্টুডেন্ট এর বাসায় যেতে পারি না। অগত্যা আমি গিয়ে ঢুকলাম লাল বাগ কেল্লায়। দুপুর রোদ। জুটিদের এমনই ভীড় যে আমি অনেক কষ্টে একটু নিরিবিলি জায়গা বের করতে রীতিমত গলদঘর্ম। অবশেষে বেশ ফাঁকা একটা জায়গা পেলাম। আর একটা কথা বলে রাখি সুজিত আমার এক জন্মদিনে আমাকে একটা ডায়েরী দিয়েছিলো। সেই থেকে আমার কবিতা লেখা শুরু(আসলে কবিতা হয় কিনা জানি না,আমি বিনয় দেখাচ্ছি না), আমার সাথে সব সময় ঐ সময় ঐ ডায়েরী আর একটা কলম থাকতো। পথে ঘাটে যেখানে মাথায় যা আসতো সেইসব লিখে রাখতাম। আর মাঝে মাঝে আপনাদের সামনে সেই গুলি নিয়ে আসি। মনে হচ্ছে প্যাঁচাল বেশি হয়ে যাচ্ছে। তাই মেইনটপিকে চলে আসি।

দুপুর রোদ। তাই ভাবলাম রোদ নিয়েই একটা কবিতা লিখে ফেলি। শুরু করলাম
চিক চিকে রোদ, মিষ্টি রোদ, ফুটফুটে রোদ,
…………

কিছুক্ষন যেতে না যেতেই এক জুটি এসে আমাকে বললো,ভাই আমরা কি এখানে বসতে পারি। আমি সহজ সরল ভাবে উত্তর দিলাম অন্যকে বিরক্ত না ,কেল্লার সুস্থ পরিবেশ বজায় রেখে সে কোন জায়গায় বসতে পারেন। হা হা হা….. আসলে বলেছিলাম আপনাদের ইচ্ছা হলে বসবেন,আমাকে জিজ্ঞাসা করার কোন দরকার নাই। কিছুক্ষন পর জুটির পুরুষ লোকটি বললো,ভাই আপনি কি কবিতা লেখেন ? আমি বল্লাম,চেস্টা করছি। বলার অপেক্ষা রাখে না যে তাদের ফিসফিসানিতে যে আমার মেজাজ বাঁজখাই হয়ে যাচ্ছিলো।

আরো কিছুক্ষন পর একটা বড় দল দেখালাম। সব মনে হয় জাপানী অথবা ঐ রকম চেহারার লোকজন। তাদের ভেতর এক জন বাংলাদেশী । উনারা আমাদের কাছাকাছি কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে ছিলো। তো জুটির পুরুষ লোকটা ঐ বাংলাদেশীকে লোকটাকে বললো,ভাই আপনি কোন কলেজে পড়েন ? লোকতা স্তম্ভিত হয়ে বললেন,আমাকে দেখে কি কলেজের ছাত্র মনে হলো আপ্নার?আমি ১৯৮০ সালে এইচ এস সি পাস করেছি….!!!!!

এক সময় জুটির ঐ লোকটা তার সাথের মেয়েকে বলছে,আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বেশ জোড়ে……

জানো সবাই প্রেম করে বিয়ের আগে আর আমরা প্রেম করছি বিয়ের পরে

আমি তো শুনে থ..

আমি শুধু মনে মনে বল্লাম, আবে হালাই তুই বিয়া করছিস ঠিকই,তয় এইটা তোর বউ না। নিজের বউরে নিয়ে কেউ এই ঘর্মাক্ত দুপুরে কেল্লায় পিরিত করতে আসে না…

অবশেষে আমার কবিতা প্রায় শেষ করে ফেললাম আর আমার বন্ধু সুজিতও শেষ করে ফেললো পড়ানো। আমি চলে আসলাম। তবে আজও ঘটনাটা মনে পড়লে আমার হাসি হাসে, হয়তো একা একাই হাসতে থাকি। যা হোক কৌতুক হয় বানানো,এটা আমার বাস্তব জীবনের গল্প থেকে। কাউকে বিন্দু মাত্র আনন্দ দিতে পারলে অনেক খুশি আমি।

মানচুমাহারার পথ চলা-৫

ইদানিং একটা প্রশ্নের কোন ভাবেই উত্তর দিতে ইচ্ছে করে না। কেমন আছি…! সে ভালো থাকি বা খারাপ থাকি। সব থেকে সহজে যে উত্তরটা দেই তাহলো ‘হুম’ অথবা তার চেয়ে ও দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নের সহজ উত্তর ‘জানি না’.. হা হা হা।
আমার পথা চলার গল্পগুলো আসলে নিতান্তই আমার নিজের ও অবশ্যই সত্য ঘটনা। মাস দুয়েক হলো একটা জব শুরু করেছি। এরপর থেকেই আমার সেই অদ্ভুত ছন্নছাড়া দিনগুলো হারায় গেছে… কাকে খেয়ে গেছে মনে হচ্ছে। এখন ইচ্ছে হলেও বেশি রাত জাগতে পারি না, পারি না বিকালের দিকে হাতে একটা ল্যাংটা আইস্ক্রিম নিয়ে ঘুরে বেড়াতে… ঘুম থেকে উঠেই অফিস আবার অফিস থেকেই এক কথায় ঘুমের আগের আড়ম্বরটুকু সারি… দিনে যতটুকু সময় পাই তার মাঝে মাঝে একটু আধটু আমাদের প্রযুক্তি ফোরাম, প্রজন্ম ফোরাম, সামহোয়ারে ঢুঁ মারি। প্রজন্মতে তেমন লেখা হয় না কিন্তু সুযোগ পেলেই পোস্ট পড়ি। আর যেহেতু প্রযুক্তি ফোরামের এডমিন আমি তাই বাধ্য হয়েই … কেমন যেন হারিয়ে গেছে সারা রাত জেগে সেই শেষ রাতের দিকে এক ফোঁড় কবিতা লেখার দিনগুলো। সেই দিনগুলো মনে হচ্ছে আসলেই উদ্বায়ু হয়ে ঊড়ে গেছে, টেরপাইনি। আসলে মাঝে মাঝে মনে হয় ব্যস্ততা থেকে মুক্তি চাই। কিন্তু আবার ভাবি এটাতো কেবল শুরু। এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, যেতে হবে অনেক দূর। কিছুই শেখা হয় নাই এতোদিন, জানি না তেমন কিছুই। মানুষকে ভালোবাসতে শিখি নাই, মিথ্যা বলতে শিখি নাই… কি করেছি এতো দিন !…
হ্যাঁ আসল কথাটাইতো বল্লাম না। যখনই কোন ভালো কাজ করি আমার খুব চিৎকার করে সবাইকে বলতে ইচ্ছা করে। গতকাল আমি ১৬তম বার কাউকে রক্তদান করলাম। প্রতিবার রক্ত দেওয়ার পর বেশ একটা আত্মতৃপ্তি পাই। মনে হয় নিজে থেকে কিছু করলাম…। রক্তদেওয়ার পর একটু খারাপ লাগছিলো(প্লাটিলেটের জন্য নাকি একটু বেশি রক্ত টানে, তবে তেমন বেশি না) কিন্তু উনাদের জানতে দেয়নি। বাসায় ফিরলাম রাত প্রায় ১১টার দিকে। পথে একটা ঘটনা ঘটলো… হাসির না কষ্টের জানি না…
রক্ত দেওয়ার পর সাধারনত যারা নিয়ে যায় বা ফোন করে যেতে বলে তারা স্বভাবতই সফট ড্রিকস খাওয়ায়। হাতে একতা পেপ্সির বোতল, অর্ধেক আছে এখনো। রিক্সায় আসছি, পথে আসাদ গেটের কাছে জ্যামের কারনে কিছুক্ষন এক জায়গায় স্থির রিক্সা। হঠাৎ তিনতা পথ শিশু … ভাইয়া পেপ্সি দেন। আমি বল্লাম না , দেবো না। বলে দেন না… দিয়ে দিলাম , কিন্তু এই বার দেখি ওরা মারামারি শুরু করছে। যা বাবা… এই খানেও ভ্যাজাল। একজন বলে ভাইয়া কারে দিছেন। আমি বল্লাম সবাইরে। ঝগরা মিটে গেলো। আমার রিক্সা আবার চলা শুরু করলো। ফিরে আসলাম আবাসস্থলে।
এভাবেই কেটে যাচ্ছে এক একটা অতি ছোট দিন…ছোটই তো। একটু আগেই তো ঘুম থেকে উঠে অফিসে গেলাম এখন দেখি কিভাবে আবার ঘুমের সময় এসে গেছে। অনেক কিছুই লিখতে ইচ্ছে করছিলো কিন্তু ফোরামে এতো বড় লিখলেই গলাগলির চেয়ে গালি খাবো হয়।
একটু বড় কিছু লিখতে গেলেই বানান, বিরাম চিহ্নের ভুলের বন্যা বইয়ে দেয়। আশা করি যেখানে যা কিছু দরকার দিয়ে পড়ে নেবেন।
শুভ রাত্রি

Last Update on December 30th, 2011

This entry was posted in Bangla Blogs, Personal. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>