মানচুলোচনা-1

//মানচুলোচনা
//তারিখঃ ০৯/০৪/২০১৫

একঃ কোন মানুষকে জাজ করার জন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। সেই সময় এর জন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে যে সময় স্বার্থের দ্বন্দ্ব হবে তার আগে পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাক থাকে। আমি আমার কাছের মানুষগুলোর অন্ধকার দিক দেখার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি।

দুইঃ কারো সাথে কুট কৌশল বা চালাকি মার্কা কথা বলার আগে ভালো করে ভেবে নিন যার সাথে বলছেন তার বুদ্ধিমত্তা কেমন না হলের অপরজন আপনাকে বোকা ই মনে করবে। কেউ আমার সাথে খুব চালাকি করে কথা বলার চেস্টা করলে আমার বিরক্ত লাগে, প্রচন্ড বিরক্ত লাগে।

তিনঃ মানুষ গরু না কিন্তু গরুর সাথে মানুষের একটা নিখাঁদ মিল আছে আর তা হচ্ছে মানুষের চিন্তা করার শক্তি আর গরুর ঘাস খাবার গন্ডি। গরু মাঠে যে দড়িতে বাঁধা থাকে তার যে দৈর্ঘ্য গরু সেই ব্যাসার্ধের গোল জায়গায় ঘাস খায়। মানুষের চিন্তা শক্তি বা বুদ্ধিমত্তা এই রকম নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের ভেতর আবদ্ধ। অতি অবশ্যই সত্যি যে আমি নিজেও এর কোন না কোন ব্যাসার্ধের গোলকে অবস্থান করি।

চারঃ কোন কিছু সম্পর্কে ভালো করে বুঝার জন্য অনেক সময় তার ভেতর থেকে নিজেকে বের করে আনতে হয়, না হলে আপনি অন্ধ ভাবে বিবেচনা করবেন। মানে খেলার মাঠ থেকে নিজেকে থার্ড আম্পায়্যার এর অবস্থানে না নিলে আপনি নিজেও যে খেলার মাঠে আছেন তা নিয়ে কোন ঝামেলাকে আপনি সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করতে পারবেন না। কোন কিছু নিয়ে বিচার করার আগে আমি নিজেকে কাঠ গড়ায় দাড় করানোর চেস্টা করি।

পাঁচঃ রাগের মাথায় কারো সাথে তর্ক করবেন না, তাতে আপনার ভেতর খারাপ দিক গুলো দ্রুত বের হয়ে যাবে। পোশাক খুলে ফেললে আমরা সবাই ই নাঙ্গা হয়ে যায় কিন্তু আমরা খুলি না, কারণ আমাদের কিছু সামাজিক এবং পারিবারিক দ্বায়বদ্ধতা থাকে। আমাদের উচিৎ না হুট হাট করে নাঙ্গা হয়ে যাওয়া তাতে সামাজিক এবং পারিবারিক সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

ছয়ঃ আমাদের চাওয়া গুলো অনেকটা আমাদের নিজের চিন্তা ফসল। আপনি কি চাইছেন সেটা আপনার নিজের ব্যাসার্ধের সাথে সম্পর্কিত। যদি অন্যের চাওয়ার সাথে নিচের চাওয়ার হিসাব মেলাতে থাকেন তাহলে নিশ্চিৎ ভাবে আপনার এবং অন্যের ব্যাসার্ধের সাথে তুলনা করতে শিখবেন। অনর্থক চাওয়া আপনার মানসিক পীড়ার কারণ হতে পারে। আপনি ভুল তুলনার করতে পারেন কিংবা আপনি কেজি আর লিটার কেন এক পরিমান নয় সেটা বুঝতে না পেরে অযথা অস্থির হতে পারেন।

সাতঃ আপনি অনেক ব্যস্ত তাই সামাজিক সম্পর্ক রাখতে পারেন না এটা বলে নিজেকে অনেক ভারী এবং দামী করার চেস্টা করা বোকামী কারণ আপনার মত আরো অনেকেই ব্যস্ত। যদি নিজের ব্যস্ততাকে সম্মান দিতে চান তাহলে অন্যেরটাও দিন। আর আপনি যদি আপনার স্বাভাবিক ক্ষমতার চেয়ে বেশি কাজ করে বেশি ব্যস্ত থাকেন তাহলে সেটা আপনার সমস্যা, এটা অন্যের সাথে কমপেয়ার করতে যাওয়া উচিৎ না। এতে ভারসাম্য নষ্ট হয়। আপনার চাওয়া পাওয়াটা ভুল সমীকরনে চলে যাবে। আপনি চাইবেন একটা আপনার আশেপাশের মানুষরা সেটালে গুরুত্ব দিবে না কারণ আমি আগে উল্লেখ করেছি আপনি আপনার ক্ষমতার থেকে বেশি পরিশ্রম করতে গিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকছেন যা আপনার সমস্যা অন্যের নয়। তাই এটা নিয়ে অন্যের কাছে নিজেকে ভারী করে তোলার কিছু নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *