কাওরান বাজারে বিউটিপার্লারঃ নতুন ব্যবসা আইডিয়া

এই পোস্টের টাইটেল চিন্তা করে বউকে জানালাম, বউ বলল, “খেয়ে কাজ নাই তোমার ?” আমি কিঞ্চিৎ বিচলিত না হয়ে লেখায় হাত দিলাম। ডিজিটাল যুগ, কীবোর্ডের কালি শেষ হয় না, যত ইচ্ছা লেখা যায়।

প্রিকোয়েলঃ

সেদিন শাহীনা আপু বলতেছিল, জানো সবুজ এবার ইন্ডিয়াতে ইদের বাজার করতে গিয়ে দারুন এক অভিজ্ঞতা। দেখি অদ্ভুতশাড়ীজ এর মিজান ভাইও গেছে। জিজ্ঞাসা করলাম, আপনিও ইদের বাজার করতে আসছেন, ভাবী কই ? মিজান ভাই, তো তো করে চলে গেল অন্য দিকে। শাহীনা আপু বলল, জানো মিজান ভাই এর দোকান থেকে যে শাড়ি ৮ হাজার দিয়ে কিনতাম সেইটা ৪ হাজারে কিইন্যা আনলাম। আপুর চোখে মুখে জিতে যাবার হাসি চিক চিক করতেছিল, মনে হচ্ছিল উনি উদ্ভুৎশাড়ীজ এর মিজান ভাই এর মাথায় অনেক গুলো পচা ডিম ছুড়ে মেরেছেন আর মিজান ভাই ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন।

বর্তমান এবং বাস্তবতাঃ
আমি যেখানে থাকি সেখান থেকে কাওরান বাজার খুব বেশি দূর না। আমার বউ প্রায় বলে সকাল দশটা পর্যন্ত না ঘুমিয়ে একদিন সকালে উঠেতো কাওরান বাজারে যেতে পার। আমি প্রতিবার তাকে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলে দেখি ঘুমের সাইকেলটা ঠিক হোক। আমি ঠিক করেছি একদিন খুব ভোরে কাওরান বাজার থেকে বাজার করে এনে বউকে চমকে দেব। আমার ব্যক্তিগত ভাবে ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় থাকার সুবাদে অন্তত ৫/৬টা কাঁচাবাজারে বাজার করার অভিজ্ঞতা আছে। এর ভেতর পলাশী কাঁচা বাজারে গিয়ে আমি কোন সময় দামাদামি করিনা, কারণ আমি জানি যে দামাদামির কারণে দামতো কমবে না অন্যদিকে দামাদামির কারণে সম্ভোষন ‘স্যার’ থেকে ‘ভাই’ তে নেমে আসবে এবং যখন বুঝবে এই দামে আমি কিনব না তখন পেছন থেকে শুনতে হবে, ভাই এই দামে না কিনলে আর অমুক জিনিস খাওয়া লাগবে না ! পলাশী কাঁচাবাজার যদি হেড স্যার হয় তাহলে হাতিরপুল কাঁচাবাজার সেকেন্ড স্যার। বেশির ভাগ তরকারি বিক্রতা কাওরান বাজার থেকে ভোর বেলা মাছ এবং তরকারি কিনে দুই গুন দামে বেচা শুরু করে এবং দুপুরে দাম কমিয়ে দেড় গুন এবং সন্ধ্যার পর ৫-১০ টাকা কেজিতে বেশি রেখে বলে কেনা দামে দিয়ে দিচ্ছি স্যার, তারপরেও যদি কন দাম বেশি !

গ্রুপে বাজার করাঃ

ইলিশ মাছ বেশি বড় হলে স্বাদ থাকে না, মাঝারি গুলোরই স্বাদ বেশি, এরপরও কিছুলোক সারাজীবন বাজারে গিয়ে সবচেয়ে বড় ইলিশ মাছই কিনবে। কিন্ত একটা শ্রেনী আছে যারা মাছ বাজারের এপাশ থেকে ওপাশ ঘুরে দাম দেখে বুঝে শুনে এরপর মাছ কিনবে নাকি কিনবে না ঠিক করে। এই শ্রেনীর জন্য একটা ভালো ব্যাপার হতে পারে তাদের বউয়ের পরামর্শ শুনে কাওরান বাজার থেকে বাজার করা। এখন কাওরান বাজারে আপনি হাফ কেজি কিনতে পারবেন না, আপনাকে কিনতে হবে পাল্লা অনুসারে মানে ৫ কেজি , ১০ কেজি এই রকম। এতো বেশি মাছ বা তরকারি কেনাও সমস্যা। তাই ফেসবুকে গ্রুপ তৈরি করে ছোট ছোট গ্রুপে বাজার করা যেতে পারে।

কাওরান বাজারে বিউটিপার্লারঃ নতুন ব্যবসা আইডিয়াঃ

এবার আসি মূল টপিকে। কাওরান বাজারে মানুষ সবজি কিনতে যাইতে পারে, মাছ মাংস কিনতে যাইতে পারে কিন্তু বিউটিপার্লারে কি করবে। যেহেতু আমার বউ মাঝে মাঝে বলে, তুমিতো কাওরান বাজার থেকে একদিন ঘুরে আসতো পারো, আমার ধারণা কাওরান বাজারে অন্তত ২/৩ কিলোর মধ্যে যত বিবাহিত ভাবী আর আপুরা আছেন কমবেশি সবাই এই রকম ডায়গল দেন। আবার ভাবিদের আপুদের মাঝে মাঝে বিউটিপার্লারে যাওয়াই লাগে। তাই কাওরান বাজারের খুব কাকাকাছি একটা বিউটিপার্লার দেওয়া যায়, নামও আমি চিন্তা করছি, ব্রান্ড নেমঃ “আলমাছ”, ট্যাগ লাইনঃ ব্রু প্লাক করাতে করাতে পানির দামে মাছ কিনুন। বিভিন্ন প্যাকেজ থাকতে পারে, অমুক সার্ভিস+ ৫কেজি রুই মাছ = ৮০০ টাকা, ত্মুক সার্ভিস+১০ কেজি আলু = ২০০ টাকা। এর সাথে দেশী বাইক শেয়ারিং সার্ভিস যুক্ত করা যেতে পারে, ভোর বেলা ভাবীদের বাসা থেকে নিয়ে আসবে, পার্লার এর কাজ শেষ সাথে সপ্তাহের কাঁচাবাজার নিয়ে বাসায় দিয়ে আসবে। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, শুধু ভাবী আর আপুরা কেন, ভাইয়ারা কেন বাদ যাবে ? না, আইডিয়াটা সবার জন্যই হতে পারে, শুধু মেয়েদের বিউটিপার্লার কেন ছেলেদের সেলুনও হতে পারে।

বিঃ দ্রঃ যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হয়েছে সবই ছদ্মনাম।