Category: Bangla Blogs

ধরুন ব্যক্তি ‘ক’ ব্যক্তি ‘খ’ কে একটা ঘুষি দিল

ধরুন ব্যক্তি ‘ক’ ব্যক্তি ‘খ’ কে একটা ঘুষি দিল। এখন ব্যক্তি ‘ক’ কোন পেশার তার উপর নির্ভর করে পত্রিকার পাতার শিরোনাম লেখা হবে।

যদি ব্যক্তি ‘খ’ একজন সাংবাদিক হন তাহলে শিরোনাম আরো ইন্টারেস্টিং হবে।
যদি ব্যক্তি ‘ক’ সাধারণ মানুষের সাথে বেশি ইন্টারএকজশন হয় এই ধরনের পেশা যেমন পুলিশ, ডাক্তার, ইন্টার্ন ডাক্তার(এটা বিশেষ ভাবে লিখলাম), সরকারী অফিসার, ব্যাংক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ইত্যাদি হন তাহলে নিউজ এর টাইটেল এবং লেখার ধরনে আলাদা কিছু হবেই হবে।

মানে যে ঘুসি দিচ্ছে আর যে খাচ্চে তাদের পেশানুসারে নিউজ এর টাইটেল এবং খবরের গল্পটা সাজানো হয়। সাজানো হয় কারণ ধরুন কেউ দিনাজপুর থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকা আসল সেইটা নিউজ হতে পারে ‘অমুক পায়ে হেঁটে দিনাজপুর থেকে ঢাকা আসল’ আবার কেউ লিখতে পারে ‘অমুক দিনাজপুর থেকে ঢাকা আসল’।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষ সেই নিউজ এর টাইটেল এবং মূল খবর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা করে। যেমন ধরুন একবার একটা নিউজ এই রকম ছিল, ‘ডাক্তার ইনজেকশন পুশ করার পরপরই রোগী মারা যায়’ … এটা কোন মিথ্যা নিউজ ছিল না কারণ ডাক্তার ইনজেকশন পূশ করেছিল এটা যেমন সত্য এবং এরপর রোগী মারা গিয়েছিল সেটাও সত্য। তবে রোগী ছিলেন মরাপন্ন আর ডাক্তার প্রচন্ড সংকটাপন্ন রোগীকে যে চিকিৎসা দেওয়া উচিৎ ছিল সেইটাই দিয়েছেন, না দিলেও যে রোগী বাঁচত এটা কেউ দাবী করতে পারবে না আবার ইনজেকশন দেওয়ার কারণে যে রোগী মারা গেছে তা ঠিক নয় কারণ সেটা রোগীকে বাঁচানোর জন্যই দেওয়া হয়েছে। যেমন, প্রচন্ড জ্বর হলে রোগীকে ট্যাবলেট বা লিকুইড ওষূধ না দিয়ে পাছার ফুটো দিয়ে ডুকানোর ওষূধ দেওয়া হয় কারণ এটা সবচেয়ে তাড়াতাড়ি কাজ করে, ধরেন কেউ এই ওষূধ গ্রহন করার পরপর মারা গেল তাহলে নিউজটা কেমন হবে ?

“পাছার ফুটো দিয়ে ওষূধ ঢোকানোর পরপর রোগী মারা গেল !”

আমাদের সব পেশার মানুষের সাথে পেশায় নিযুক্ত থাকা কালীন সময়ে সাধারণ মানুষের সাথে ইন্টারএকশন হয় না। পুলিশ, ডাক্তার, ইন্টার্ন ডাক্তার(এটা বিশেষ ভাবে লিখলাম), সরকারী অফিসার, ব্যাংক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ইত্যাদি পেশার মানুষের বেশি হয়। অনেকসময় শরীর স্পর্শ করা বা খুব কাছাকাছি থেকে সেবা দেওয়া লাগে। শিক্ষিত মানুষ আর ভদ্র মানুষ আলাদা, কারো দুইটা গুন থাকে, কারো একটা এবং কারো কোনটাই থাকে। সমস্যাটা বাধে এই খানে। কেউ হয়তো একজন মহিলা পেশাজীবীর গায়ে হাত দিয়েই ডাকতেছে, “ওআপা ওআপা” … বিষয়টার ইমপ্যাক্ট অনেক রকম হতে পারে এবং সেই ইমপ্যাক্ট এর ফলাফল পত্রিকার পাতায় ভিন্ন ভিন্ন ভাবে লেখা হতে পারে, নির্ভর করবে ‘কে’ এবং ‘কাকে’ ঘুষিটা দিচ্ছে তার উপর।

দেখেন পূরা লেখার ভেতর কিন্তু “পাছার ফুটো দিয়ে ওষূধ ঢোকানোর পরপর রোগী মারা গেল !” এই লাইনটা আপনি বিশেষ ভাবে খেয়াল করেছেন। এখন যদি এটা নিউজের টাইটেল হয় তাহলে অনেক হিট হবে তাই না ? যদি রোগী ডাক্তারকে পেটায় সেই নিউজ কেউ খাবে না, কিন্তু ডাক্তার যদি রোগীকে পেটায় তাহলে সেই নিউজের টাইটেল কিন্তু লোকজন খাবে। ধরুন দুজন দুজনকেই পেটাল কিন্তু নিউজে করার সময় একটা নিউজ হাউজ কিংবা সাংবাদিক কিন্তু ‘ডাক্তার রোগীকে পেটাল !’ এটাকেই বেছে নিবে।

ধন্যবাদ

Ref: Facebook post

বাংলাদেশে আইটির উন্নতির জন্য ব্যক্তির চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতি বেশি জরুরী

প্রথম ফ্রিল্যান্স শব্দটি শুনেছিলাম সাংবাদিকতা পেশার সাথে যুক্ত একজনের কাছ থেকে। একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনার পেশা কি বা কি করেন, উত্তরে উনি বলেছিলেন, আমি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। তাৎক্ষনিক ভাবে বুঝতে পারলাম না, ও আচ্ছা বলে সায় দিয়েছিলাম। পরে বুঝতে পারলাম, উনি স্বাধিন ভাবে সংবাদ সংগ্রহ করেন, সেটা কোন নিউজপেপারে কন্ট্রিবিউট করেন, বা নিউজ বেঁচেন , কোন কোন সময় ফিচার লিখে জমা দেন বা বিক্রি করেন।

এক সময় আমি প্রায় ২/৩ বছর ফ্রিল্যান্স পেশার সাথে ছিলাম। তবে আমি স্বাধিন ভাবে বেচতাম প্রোগ্রামিং এর দক্ষতা। আমি জানতাম এটা কখনই আমার সারাজীবনের জন্য পেশা হবে না। তখন ৬ মাস চাকরির(ওটাই আমার একমাত্র চাকরি যা পরে পড়ালেখা শেষ করার জন্য ছেড়ে দেই যা নিয়ে লিখতে গেলে আর একটা বড় গল্প হয়ে দাঁড়াবে) অভিজ্ঞতা ছিল। সব সময় মাথায় ছিল স্বাধিন পেশা থেকে এটাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এবং সেটাই গন্তব্য হওয়ার কথা ছিল এবং আমি তাই করেছি। আমি বিশ্বাস করি না যারা এখন টেক ফ্রিল্যান্স করেন তারা যদি রিমোটলি কোন কম্পানীতে পার্মানেন্ট চাকরি না করেন তাহলে কেউ আগামী পাচ বা দশ বছর পর ফ্রিল্যান্স কাজ করবেন।

একটা দেশ এমনি এমনি গঠন হয় না, এটাতে পরিকল্পনা করে তৈরি করতে হয়। যেমন কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট একটা সময় প্রচন্ড লোডশেডিং থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করেছিল বটে তবে তা পার্মানেন্ট সল্যুশন ছিল না কোন দিনই এবং হবার কথা না। একটি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য দরকার দীর্ঘ মেয়াদী এবং স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা। স্বল্পমেয়াদী আপনাকে আপাতত ঠেকার কাজ চালাতে সাহায্য করতে পারে তবে তা কিছুদিনের ভেতর অকার্যকর হবে এটা নিশ্চিৎ।

আলোচনার সুবিধার্তে যারা রিমোটলি কাজ করেন তাদের ফ্রিলান্সার না বলে যারা শুধুমাত্র অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ করেন তাদের ফ্রিল্যান্সার হিসাবে ধরে নিচ্ছি।

একজন মানুষ তার জীবন ধারণের জন্য টাকা উপার্জন করবে এবং সেইটার একটা ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। যেমন, ৫ দিন অসুস্থ থেকে যদি অফিসে না যেতে পারেন আপনার চাকরিতে আপনি মাস শেষে পুরা বেতনই পাবেন। যিনি ব্যবসা করছেন বা কম্পানী চালাচ্ছেন তিনিও যদি অসুস্থ থাকেন তাহলে ৬ষ্ঠ দিনে তিনি আবার তার প্রতিষ্ঠানে ফিরবেন।

আইটিতে বাংলাদেশ মাত্র কিছু করা শুরু করেছে। আমাদের দরকার প্রচুর দেশীয় আইটি প্রতিষ্ঠান, দেশীয় আইটি প্রফেশনাল ( ফ্রিল্যান্সার নয়) এবং দেশীয় আইটি প্রডাক্ট ও সার্ভিস কনজুমার। দেশীয় প্রতিষ্ঠান গুলো অবশ্যই দেশী এবং বিদেশী উভয় শ্রেনীর ক্লায়েন্টকে সার্ভ করতে পারে। তবে শুধু মাত্র বিদেশী ক্লায়েন্ট নির্ভর হয়ে টিকে থাকা অনেকাংশে ঝুঁকি থেকে যায় যদি না প্রডাক্ট বা সার্ভিস যা অফার করা হচ্ছে তা শুধুমাত্র গ্লোবাল ক্লায়েন্টদের জন্য।

একজন ফ্রিল্যান্সার যদি একা ইনকাম করে পরিবারের চারো ৪-৫ জনের পেট চালান তাহলে একজন আইটি বিজনেস ম্যান ৫০ জন শনের খোরাক ম্যানেজ করছেন। একজন ফ্রিল্যান্সার যা আয় করেন একটা প্রতিষ্ঠান তার অনেক গুন আয় করছে। প্রতিষ্ঠান গুলো অনলাইন মার্কেট প্লেসের উপর যদি ১০% নির্ভরশীল হয় তো ফ্রিল্যান্সাররা প্রায় ৯০% ভাগ। প্রায় শুনি অমুক অনলাইন মার্কেট প্লেসে বাংলাদেশ থেকে কাউকে নতুন ভাবে এপ্রুভ করছে না আবার যদি একাউন্ট ব্যান করে দেয় তাহলে পুনরায় নতুন করে শুরু করতে হবে !

কয়েক বছর ধরে দেখছি সরকারী ভাবে যতটা না প্রতিষ্ঠান গুলোতে এগিয়ে নিতে সাহায্য করা দরকার তার চেয়ে বেশি আগ্রহ ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে যা অবশ্যই হাস্যকর এবং এটা কোন ভাবেই দীর্ঘ মেয়াদী হতে পারে না। শিক্ষিত ত্রুনদের অনেকটা ভুল পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি একজন ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে যে রেটে নতুন কিছু শিখে বাসায় একা কাজ করলে তার ২০%ও শিখতে পারে না। অন্যদিকে অনেক বেশি ফ্রিল্যান্স পেশা নিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়ার কারণে দেশীয় প্রতিষ্ঠান গুলো পেশাজীবি পাচ্ছে না, এগোতে পারছে না, অনেকে ডলারে আসক্ত হয়ে পড়ায় টাকার অংকে দেশীয় কম্পানীতে চাকরি করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

সাম্প্রতিক পেপাল এবং জুম নিয়ে অনেক বিতর্ক হচ্ছে আমি এটার ভেতর যাব না, সরকারের চিন্তা কেউ যেন হুন্ডি করে টাকা না আনে, আমার জানা মতে ফ্রিল্যান্সাররা এটা করে না, এটা করে শ্রমিক হিসাবে যারা দেশের বাইরে যায় তারা এবং এর কারণ হচ্ছে বৈধ পথে টাকা পাঠাতে অনেক খরচ। জুম দিয়ে শুধু ব্যক্তিগত টাকা আনা যায় , প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীক লেনদেন না অথবা যদি ওরা বুঝতে পারে এটা ব্যবসায়িক লেনদেন তাহলে সেই ট্রান্সজেকশন আটকিয়ে দিতে পারে।

কেন এত কথা বলছি ? ভাবুন দেশের সব শিশু স্কুলে না গিয়ে বাসায় বসে পড়ালেখা করছে। দেশীয় স্কুল কলেজ,ইউনিভার্সিটি সব বন্ধ। বিষয়টা ভাবতে অবাক লাগছে নিশ্চয়। যদি দেশের আইটি ইন্ডাস্ট্রিকে সত্যিই এগিয়ে নিতে হয় তাহলে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে সকল প্রচারণা বন্ধ করুন, যদি কেউ ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে সাময়ীক কিছুদিনের জন্য করে সেটা ব্যতিক্রম হিসাবে নেই।

LICT প্রজেক্ট আলাদা করে না করে এই টাকা দিয়ে ভকেশনাল গুলোকে উন্নত করা যেত, এখন কেউ পাওয়ার টিলার চালানো শিখতে ভকেশনালে কেন কেউ যাবে, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এখন যে ধরনের কোর্স করানো দরকার সেই গুলো চালু করা যেত, নতুন এবং আধুনিক কোর্স। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি থেকে যারা আইটির উপযোগী সাবজেক্ট থেকে বের হচ্ছে তাদের জন্য কোর্সকারিকুলাম ঢেলে সাজানো যেত, LICT প্রজেক্টের কিছু টাকা টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিগুলোকে দেওয়া যেত।

স্বল্প মেয়াদি এই সব কোর্স করে কোনদিনও প্রফেশনাল কাজ করা সম্ভব না বা এটা দেশকে দীর্ঘ মেয়াদী কিছু দিতে পারবে না। তাই যদি দেশের আইটি ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিতে হয় প্রতিষ্ঠান টার্গেট পরিকল্পনা করুন, প্রযুক্তি টার্গেট পরিকল্পনা করুন, প্রফেশনাল তৈরি করুন তারা যেন ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করে প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য প্রস্তুত থাকে।

অনেকে শুধু অভিযোগ করে আমি পরামর্শ দিলাম। পরামর্শে মামুর বেটা বেজার হলে হোক।

লেখাটি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম

কেন আমি ‘শাহবাগী’, ‘চেতনাবাজ’ এই শব্দ গুলো ঘৃনা করি

লেখার কিছু অংশ এক ছোট ভাইয়ের পোস্টে কমেন্ট আকারে লিখেছিলাম, সাথে আরো কিছু যুক্ত করে নিজের প্রোফাইলে পোস্ট করলাম।

সম্পর্কে আমার শালা নয় এই রকম কাউকে ‘শালা’ বললে সেইটা যাকে বলা হবে সে গালি হিসাবে নিবে। ‘শব্দ’ এর গুরুত্ব এমনই। শুধু ব্যক্তি ক্ষেত্র নয়, শব্দের ব্যবহার এর ক্ষেত্র অনুসারেও অর্থ পাল্টে যায় যেমন, ছোট বেলায় আমার বোন(দিদি) মা অসুস্থ থাকার জন্য একজন মা বাড়িতে রান্না বান্নাসহ গৃহস্থলী যেসব কাজ করেন তার সবই আমার দিদি করত। তো একদিন দিদিকে বললাম, দিদি তুইতো ভারি ‘কাজের মেয়ে’ রে ! আমার দিদি আমার বাবার কাছে নালিশ দিয়েছিল যে আমি তাকে ‘কাজের মেয়ে’ বলেছি। শব্দের গুরুত্ব এবং ক্ষমতা কতখানি বুঝতে পারছেন।

সচরাচর দুইটা শব্দ শুনতে আমার বেশ ঘেন্না লাগে।

একঃ “শাহবাগী”

শাহবাগী শব্দটা শুনতে আমার কাছে নোংরা লাগে। কারণ রাজাকারদের ফাঁসীর দাবী নিয়ে অনেকেই শাহবাগে গিয়েছিল কোন রকম রাজনৈতিক ফায়দা ছাড়াই, মানে প্রানের দাবী নিয়ে। এরপর থেকে এখনো যে কোন দাবী নিয়ে প্রায় মানুষ শাহবাগে আন্দোলন করে। বিশেষ করে রাজাকারদের ফাঁসীর দাবীর আন্দলোনের সময় এর বিরোধী যারা তারা “শাহবাগী” শব্দটা ব্যবহার করত। সহজ একটা উদাহরন, ধর্ম প্রতিষ্ঠানে কেউ প্রেয়ার এর জন্য যায় কেউ জুতা চুরি করতে যায় তার মানে ধর্ম প্রতিষ্ঠানমুখি মানুষকে খারাপ বলা ঠিক না কারণ কেউ কেউ জুতা চুরি করতে যায়। আমাদের দেশটা যেহেতু আদর্শ কোন ইকো সিস্টেমে চলে না তাই সব কিছুতেই ফায়দা লোটা লোক আছে। তবে শাহবাগে গিয়ে কেউ ফায়দা লুটতেছে তাদের নিয়ে কেউ যদি কিছু বলতে চায় সেইটা বলার জন্য অন্য পন্থা খুঁজে বের করা যেতে পারে।

দুইঃ “চেতনাবাজ বা চেতনাধারী”

সাধারণত এই শব্দটা বেশি ব্যবহার করে ৭১ এর পরাজিত শক্তির আদর্শধারণকারীরা আর কেউ কেউ না বুঝে তাদের ট্রেন্ড ফলো করে। চেতনা কি খারাপ কিছু? প্রতি ১০ জনের ভেতর ৮/৯ জন্য ধর্মীয় চেতনা ধারণা করে, এটা কি খারাপ কিছু ? এই যে বন্যা নিয়ে আমরা কত চেতনা দেখাচ্ছি এইটা কি খারাপ কিছু। কোন কিছু নিয়ে সজাগ হওয়া, সেইটার জন্য চিন্তা করা, সেই আদর্শ ধারণ করা এইটাই তো চেতনা, নাকি ? কেউ যদি ৭১, ধর্ম, আর্তমানবতার সেবা নিয়ে সজাগ থাকে তাহলে খারাপ কিছু দেখি না। যারা এটা নিয়ে ফায়দা লুটে তাদের জন্য অন্য কোন শব্দ ব্যবহার করুন।

আমি আবারও বলব, আমাদের দেশটা যেহেতু আদর্শ কোন ইকো সিস্টেমে চলে না তাই সব কিছুতেই ফায়দা লোটা লোক আছে। তাদের নিয়ে যদি আপনি ঘৃনা প্রকাশ করতে চান তাহলে স্পেসিফিক ভাবে করুন, জেনারালাইজড মন্তব্য করা উচিৎ না। শব্দ মানুষকে আঘাত করে বৈকি !

বিঃ দ্রঃ এই পোস্ট কোন রকম কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন। কমেন্ট মডারেশন বা উত্তর দেওয়ার সময় নাই। চাইলে লাইক লুইক দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে পারেন। এই লেখা আমার একান্ত নিজস্ব চিন্তা।

জন্মদিন ২০১৭

জন্মদিনে যারা শুভকামনা জানিয়েছেন এবং যারা জানাতে ভুলে গেছেন সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাদের এই শুভাশীস আমার জন্য চরম পাওয়া। একে একে সবাইকে উত্তর দেওয়ার চেস্টা করব তবে যদি কাউকে উত্তর দিতে ভুল হয়ে যায় তার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

বাসায় জন্মদিনের ছোটখাট কোল্ডড্রিংসের পার্টিতে এসেছিল বিবাহিত বন্ধু Pallab Das এবং অবিবাহিত বন্ধু Sujit Biswas কিন্তু ইদানিং জন্মদিনের পার্টিতে এসে অনেকেই বিপদে পড়ছেন তাই রাত বাড়ার আগেই ওরা কেটে পড়ছে ! Subrata Nag Partho ছোট ভাই তাই ওকে এই আলোচনার বাইরে রাখলাম।

এবছর একটা বিষয় খেয়াল করলাম যে, সামাজিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের ভার্চুয়াল মাধ্যম হিসাবে লিঙ্কডইন আগের থেকে এগিয়েছে অথবা লিঙ্কডইনে বাংলাদেশ থেকে ব্যবহারকারি বেড়েছে কারণ লিঙ্কডইনে এবছর আগের যেকোন সময় থেকে বেশি জন্মদিনের শুভেচ্ছা পেয়েছি।

আজকের দিন একটা বড় ঘটনা হল প্রথমবারের মত দরকারি কাজে আইফোনের ভার্চুয়াল এসিস্টেন্স ‘Siri’ র সাহায্য নিলাম যা আইফোন প্রায় নষ্ট হবার পরে। ‘Siri’ কে আপনি ভয়েস কমান্ড দিয়ে বলবেন বাছা ‘Siri’ তুমি আমার বউয়ের জন্মদিনের এক সপ্তাহ আগে, একদিন আগে, জন্মদিনের দিন সকালে, দুপুরে এবং রাত ১২ টার মনে করায়ে দিবা, একই রকম বিষয় বিয়ে বার্ষিকীতেও করবা বলে তোমার ক্যালেন্ডার যুক্ত করে নাও, ব্যাস, আপনি এবার নাকে তেল দিয়ে ঘুমান আপনার বউয়ের জন্মদিন, বিয়ে বার্ষিকী কিছুতেই মিছ যাবে না।

গতকাল সকাল থেকে আজকে এখন পর্যন্ত আমার কিছুটা নার্ভাসনেস যাচ্ছে কারণ গতকাল নাকি তার আগেরদিন সকালে একটা কম্পানীর মালবাহী ভ্যান টাইপ গাড়ি পেছন থেকে আমাকে ধাক্কা দিয়েছে, লেগেছে পিঠের মাংশপেশীতে, তাই সামান্য ব্যাথা আর যেখানে লেগেছে সেখানে লাল হয়ে আছে। তবে যদি আমি চার ইঞ্চি খাট হতাম লোহার রডের মত কিছু একটা ঠিক আমার ঘাড় বরাবর নিশ্চিৎ আঘাত করে খারাপ কিছু করে ফেলত, হতে পারত আমি ৩৩ তম জন্মদিনের আগেই কুপোকাত ! এই যে বেঁচে আছি, হাত পা ছুড়ছি, ফেসবুকে বড় বড় লেকচার দিচ্ছি এই গুলো জীবনের পরম প্রাপ্তি। রাগে ফুঁসে প্রথমে ভেবেছিলাম ভ্যানগাড়ির চালককে দুঘা বসিয়ে দেই কিন্তু নিজের রাগ সম্বরন করে তাকে মাপ করে দিলাম। তবে জীবনের সবক্ষেত্রে এই রকম রাগ চাপতে পারি না, কখনও কখনো রাগের মাথায় বন্ধু, পরিবার, বউ কিংবা অফিসের কলিগের সাথে চিৎকার চেচামেচি করে ফেলি, বেশির ভাগ সময় পরে খারাপ লাগে। এইতো সেদিন ফুটপাথের এক খারাব বিক্রেতাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে শেখাতে গিয়ে অপমানিত হলাম। সে আমাকে উত্তর দিল, আপনি আমাকে কি শেখাবেন। সেদিন রাত ৪টা পর্যন্ত আমার মাথার ভেতর শুধু এই অপমান বাক্যটি বার বার ঘুরঘুর করেছে। পরে মনে সান্তনা দিয়েছি যে, যেখানে মানুষ খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার থেকে খাওয়ার পরে হাত ধোয়াকে বেশি গুরুত্ব দেয় সেখানে ফুটপাতের খাবার বিক্রেতাকে শেখাতে যাওয়া আমারই ভুল। ইদানিং এই আমারই ভুল এই অনুভূতি আমি গিলতে শুরু করেছি। মাঝে মাঝেই আমার বউ অভিযোগ করে জানো আজকে বাসে একজন যাত্রী বা হেল্পার খারাপ ব্যবহার করল কিন্তু বাস ভর্তি কোন পুরুষ মানুষ একটা প্রতিবাদ করল না, পেছন থেকে কেউ কেউ আবার দাঁত কেলিয়ে হাসতেছিল আমি কি উত্তর দেব বুঝতে পারি না। মাঝে মাঝে খুব আশাবাদিদের মত উত্তর দেই, সম্ভবত দুই চারজন ভালো পুরুষ ছিল যারা এখন নুরুত্তাপ হয়ে গেছে।

Rajesh Saha এবং Abdullah Md Wasim কে ধন্যবাদ অফিসে (Codeboxr) এ আমার জন্মদিন উপলক্ষে কেক এবং মিষ্টির আয়োজন করার জন্য। অফিস আমার জন্য ২য় পরিবার যদিও আমার বউ মনে করে আমি বাসার থেকে অফিস নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকি(গোপন কথা হচ্ছে সবার বউই এক রকম চিন্তা করে আর যদি আপনি এন্ট্রাপ্রানার হন তাহলে আপনি আমার সাথেই তাল মিলিয়ে বলবেন, ‘ভাই আমিও সেইম টু সেইম’)।

বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ আমার একমাত্র বউ Supriti Nandi কে লুচি, তরকারি এটাসেটা রান্না বান্না করে খাওয়ানোর জন্য। আমার উচিৎ ছিল লেখার শুরতেই বউকে এই ধন্যবাদ জানানো, কারণ ঘরের লক্ষীকে খুশি রাখা সব পুরুষের প্রধান দ্বায়িত্ব।

আচ্ছা মা ছাড়া এটা আমার প্রথম না দ্বিতীয় জন্মদিন ঠিক মনে করতে পারছি না। আমার বউ হয়তো জানে, ‘আমার বউ সব জানে’।

সবাইকে শুভরাত্রি।

স্কুল শেষে রাস্তা কাঁদা দেখলেই দুইটা পলিথিন বের করে দুই পায়ে জড়িয়ে …

ছোটবেলায় আমি যে প্রাইমারি স্কুলে পড়েছি তার নাম সীতারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলে যাওয়ার জন্য তখন নড়াইল যশোর মেইন রোড থেকে কিছুটা পথ কাঁচা রাস্তা ছিল। তো কাঁচা রাস্তা যা হয় আরকি, সামান্য বৃষ্টিতে যাচ্ছেতা অবস্থা। তার উপর এঁটেলে মাটি। প্রতিদিন স্কুল শেষে স্কুল থেকে ঐ নড়াইল যশোর মেইন রোড পর্যন্ত ঐ কাঁচা রাস্তা দিয়ে হেটে এসে বাসে বা ভ্যানে উঠে বাসায় আসতে হত। আমার বাবা যেহেতু ঐ স্ক্লে শিক্ষকতা করতেন তাই আমি বাবার সাথে বাড়িতে ফিরতাম। স্কুল শেষে বাবাসহ অন্যান্য শিক্ষক এবং শিক্ষিকারাও এক সাথে বের হতেন এবং সবাই পায়ে হেটে । বৃষ্টি হলেই রাস্তায় কাঁদা হত আর খালি পায়ে ছাড়া চলা যেত না। অন্য দিকে কাঁদা রাস্তা পার হতে গুড়ালির উপরে কাঁদা লেগে যেত, মেইন রোডে পৌচ্ছে সবাই আবার রোডের পাশের খাল থেকে পা ধুয়ে নিতেন।

যেহেতু যে কোন দিন বৃষ্টি হতে পারে এবং রাস্তা কাঁদা হবে এবং খালি পায়ে কাঁদা মেখে স্কুল থেকে মেইন রোড পর্যন্ত যেতে হবে তাই আমি চিন্তা করলাম কি করা যেতে পারে। হঠাৎ মাথায় আইডিয়া আসল পলিথিন ব্যাগের। স্কুল ব্যাগের ভেতর সবসময় কিছু পলিথিন ব্যাগ রেখে দিতাম। স্কুল শেষে রাস্তা কাঁদা দেখলেই দুইটা পলিথিন বের করে দুই পায়ে জড়িয়ে স্যান্ডেল হাতে নিয়ে সবার আগে আগে হেঁটে যেতাম, মেইন রোডে পৌচ্ছে ময়লা পলিথিন ফেলে আমি দিব্যি রেডি হয়ে যেতাম বাড়ি যাবার জন্য। দুই একদিন পরে দেখি একজন শিক্ষক এবং দুইজন শিক্ষিতা আমার কৌশল নিজেরাও ফলো করা শুরু করেছে।

আমি যতদূর জানি আমার সেই প্রাইমারি স্কুলে যাবার সেই কাঁচা রাস্তা এখন পাকা বা আধাপাকা হয়েছে এবং রাস্তায় আর কাঁদা হয় না। নিশ্চয় এখন যারা ঐ স্কুলে পড়ছে তারা নতুন কোন সমস্যার খুব সহজ সমাধান নিয়ে ভাবে।

কাওরান বাজারে বিউটিপার্লারঃ নতুন ব্যবসা আইডিয়া

এই পোস্টের টাইটেল চিন্তা করে বউকে জানালাম, বউ বলল, “খেয়ে কাজ নাই তোমার ?” আমি কিঞ্চিৎ বিচলিত না হয়ে লেখায় হাত দিলাম। ডিজিটাল যুগ, কীবোর্ডের কালি শেষ হয় না, যত ইচ্ছা লেখা যায়।

প্রিকোয়েলঃ

সেদিন শাহীনা আপু বলতেছিল, জানো সবুজ এবার ইন্ডিয়াতে ইদের বাজার করতে গিয়ে দারুন এক অভিজ্ঞতা। দেখি অদ্ভুতশাড়ীজ এর মিজান ভাইও গেছে। জিজ্ঞাসা করলাম, আপনিও ইদের বাজার করতে আসছেন, ভাবী কই ? মিজান ভাই, তো তো করে চলে গেল অন্য দিকে। শাহীনা আপু বলল, জানো মিজান ভাই এর দোকান থেকে যে শাড়ি ৮ হাজার দিয়ে কিনতাম সেইটা ৪ হাজারে কিইন্যা আনলাম। আপুর চোখে মুখে জিতে যাবার হাসি চিক চিক করতেছিল, মনে হচ্ছিল উনি উদ্ভুৎশাড়ীজ এর মিজান ভাই এর মাথায় অনেক গুলো পচা ডিম ছুড়ে মেরেছেন আর মিজান ভাই ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন।

বর্তমান এবং বাস্তবতাঃ
আমি যেখানে থাকি সেখান থেকে কাওরান বাজার খুব বেশি দূর না। আমার বউ প্রায় বলে সকাল দশটা পর্যন্ত না ঘুমিয়ে একদিন সকালে উঠেতো কাওরান বাজারে যেতে পার। আমি প্রতিবার তাকে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলে দেখি ঘুমের সাইকেলটা ঠিক হোক। আমি ঠিক করেছি একদিন খুব ভোরে কাওরান বাজার থেকে বাজার করে এনে বউকে চমকে দেব। আমার ব্যক্তিগত ভাবে ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় থাকার সুবাদে অন্তত ৫/৬টা কাঁচাবাজারে বাজার করার অভিজ্ঞতা আছে। এর ভেতর পলাশী কাঁচা বাজারে গিয়ে আমি কোন সময় দামাদামি করিনা, কারণ আমি জানি যে দামাদামির কারণে দামতো কমবে না অন্যদিকে দামাদামির কারণে সম্ভোষন ‘স্যার’ থেকে ‘ভাই’ তে নেমে আসবে এবং যখন বুঝবে এই দামে আমি কিনব না তখন পেছন থেকে শুনতে হবে, ভাই এই দামে না কিনলে আর অমুক জিনিস খাওয়া লাগবে না ! পলাশী কাঁচাবাজার যদি হেড স্যার হয় তাহলে হাতিরপুল কাঁচাবাজার সেকেন্ড স্যার। বেশির ভাগ তরকারি বিক্রতা কাওরান বাজার থেকে ভোর বেলা মাছ এবং তরকারি কিনে দুই গুন দামে বেচা শুরু করে এবং দুপুরে দাম কমিয়ে দেড় গুন এবং সন্ধ্যার পর ৫-১০ টাকা কেজিতে বেশি রেখে বলে কেনা দামে দিয়ে দিচ্ছি স্যার, তারপরেও যদি কন দাম বেশি !

গ্রুপে বাজার করাঃ

ইলিশ মাছ বেশি বড় হলে স্বাদ থাকে না, মাঝারি গুলোরই স্বাদ বেশি, এরপরও কিছুলোক সারাজীবন বাজারে গিয়ে সবচেয়ে বড় ইলিশ মাছই কিনবে। কিন্ত একটা শ্রেনী আছে যারা মাছ বাজারের এপাশ থেকে ওপাশ ঘুরে দাম দেখে বুঝে শুনে এরপর মাছ কিনবে নাকি কিনবে না ঠিক করে। এই শ্রেনীর জন্য একটা ভালো ব্যাপার হতে পারে তাদের বউয়ের পরামর্শ শুনে কাওরান বাজার থেকে বাজার করা। এখন কাওরান বাজারে আপনি হাফ কেজি কিনতে পারবেন না, আপনাকে কিনতে হবে পাল্লা অনুসারে মানে ৫ কেজি , ১০ কেজি এই রকম। এতো বেশি মাছ বা তরকারি কেনাও সমস্যা। তাই ফেসবুকে গ্রুপ তৈরি করে ছোট ছোট গ্রুপে বাজার করা যেতে পারে।

কাওরান বাজারে বিউটিপার্লারঃ নতুন ব্যবসা আইডিয়াঃ

এবার আসি মূল টপিকে। কাওরান বাজারে মানুষ সবজি কিনতে যাইতে পারে, মাছ মাংস কিনতে যাইতে পারে কিন্তু বিউটিপার্লারে কি করবে। যেহেতু আমার বউ মাঝে মাঝে বলে, তুমিতো কাওরান বাজার থেকে একদিন ঘুরে আসতো পারো, আমার ধারণা কাওরান বাজারে অন্তত ২/৩ কিলোর মধ্যে যত বিবাহিত ভাবী আর আপুরা আছেন কমবেশি সবাই এই রকম ডায়গল দেন। আবার ভাবিদের আপুদের মাঝে মাঝে বিউটিপার্লারে যাওয়াই লাগে। তাই কাওরান বাজারের খুব কাকাকাছি একটা বিউটিপার্লার দেওয়া যায়, নামও আমি চিন্তা করছি, ব্রান্ড নেমঃ “আলমাছ”, ট্যাগ লাইনঃ ব্রু প্লাক করাতে করাতে পানির দামে মাছ কিনুন। বিভিন্ন প্যাকেজ থাকতে পারে, অমুক সার্ভিস+ ৫কেজি রুই মাছ = ৮০০ টাকা, ত্মুক সার্ভিস+১০ কেজি আলু = ২০০ টাকা। এর সাথে দেশী বাইক শেয়ারিং সার্ভিস যুক্ত করা যেতে পারে, ভোর বেলা ভাবীদের বাসা থেকে নিয়ে আসবে, পার্লার এর কাজ শেষ সাথে সপ্তাহের কাঁচাবাজার নিয়ে বাসায় দিয়ে আসবে। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, শুধু ভাবী আর আপুরা কেন, ভাইয়ারা কেন বাদ যাবে ? না, আইডিয়াটা সবার জন্যই হতে পারে, শুধু মেয়েদের বিউটিপার্লার কেন ছেলেদের সেলুনও হতে পারে।

বিঃ দ্রঃ যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হয়েছে সবই ছদ্মনাম।

ভাবী জানে?

আমার ফেসবুকের বিবাহিত বন্ধুরা নিশ্চয়ই মাঝে মাঝে এই ধরনের মন্তব্য শুনে থাকে। যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই মন্তব্য দাতা এবং ভাবীর সাথে বাস্তব জীবনে পরিচয় হওয়া তো দূরের কথা, ভাইয়ার সাথেই হয়ত দেখা সাক্ষাৎ ফেসবুকের বন্ধুত্ব পর্যন্ত। কিন্তু এই “ভাবী জানে ?” এই ধরনের মন্তব্য কেন করা হয় এবং কেন করা উচিত না সেইটা নিয়ে আমাদের একটু চিন্তা করা উচিত।

অনেকে যেমন এটিএম বুথ থেকে একবারে ৫০০ টাকার বেশি তুলে না তেমন অনেকে ফেসবুকে বন্ধু হিসাবে যুক্ত করে জানা শোনা আছে এবং অনেক কিছু চেক করে, মানে অচেনা অজানা কাউকে ফেসবুকের বন্ধু হিসাবে একসেপ্ট করে না এবং তাদের অধিকাংশের ফেসবুক প্রোফাইলের প্রাইভেসি ফ্রেন্সড অনলি। ফ্রেন্ডস অনলি এর মানে হল তার প্রোফাইলের সব এক্টিভিটি শুধুমাত্র ফেন্ড ছাড়া অন্য কেউ দেখতে এবং শেয়ার দিলেও দেখতে পারবে না। কিন্তু আমাদের অনেকেই আছে যারা পেশাগত এবং কমিউনিটি ওয়ার্ক এর জন্য ফেসবুক প্রোফাইলে ১০০% পাবলিক। ৯৯% পোস্ট আমরা দেই পাবলিক। একারনে অনেকে সময় ব্যক্তিগত ছবি, পারিবারিক ছবি, বউ ছেলে মেয়ের ছবি শেয়ার করি। একদিকে যেমন প্রোফাইল ১০০% পাবলিক এবং অন্যদিকে ৯৯% বন্ধুই ভার্চুয়াল তাই কিছু সমস্যা প্রায় ফেস করি। এটা শুধুমাত্র আমার একার সমস্যা না, অনেকেই এই একই সমস্যা ফেস করছে।

কঃ ভাবী জানে?

ভাবী জানে? টাইপ এর মন্তব্য বেশ কমন। যাদের সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় আছে তারা সাধারণত এই ধরনের মন্তব্য করে না, যাদের সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় নেই তাদের এই ধরনের আগ্রহ বেশি। আমার পরামর্শ কেউ ব্যক্তিগত কিছু পোস্ট করলে বিষয়টা ব্যক্তিগত পর্যায়ে রাখা ভালো। এই ধরনের পোস্টে পোষ্ট দাতার বউ বা ছেলে মেয়েকে ট্যাগ করা বা তাদের উদ্দেশ্যে লেখা উচিত না যদি না আপনি ঐ ব্যক্তির সাথে বা তার পরিবারের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে যুক্ত না থাকেন। আপনাকে বন্ধু তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে মানে আপনি যা ইচ্ছা তা বলার অধিকার রাখেন না।

খঃ ভাইয়ার বিষয়ে ভাইয়ের প্রোফাইল থেকে খুঁজে ভাবীকে জানানো

সেদিন এক বড় ভাই ফেসবুকে কি কবিতা লিখেছে সেইটা নিয়ে একজন তার ওয়াইফকে ফেসবুকে মেসেজ করেছে। এটা অবশ্যই বেয়াদবি বা অনধিকার চর্চা। নিশ্চয় ঐ ভাইয়ার দরকার হলে তার ওয়াইফকে এটা দেখাবেন বা তার ওয়াইফ ফেসবুকে ঢুকলে এটা দেখতে পারবেন। এই ধরনের অনধিকার চর্চা থেকে বিরত থাকুন।

গঃ ভাইয়ার প্রোফাইল থেকে খুঁজে ভাবীকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানো

আবারও বলি, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে পরিচয় আছে তাদের জন্য এটা নয়। যাদের পরিচয় নাই তাদের জন্য। ‘লুল পুরুষ’ বলে একটা শব্দ আছে। এটার মানে সবাই জানে আশা করি। বাস্তব জীবনে মেয়ে দেখলেই যাদের লোল ঝরে এই ধরনের পুরুষেরা ফেসবুকেও আছে। এদের স্বভাব হচ্ছে, ভাইয়ার প্রোফাইল থেকে খুঁজে ভাবীকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানো এবং এরপর ভাবীকে এটা ওটা বলে মেসেজ পাঠানো। আজক জানলাম একজন ভাবী মনে করে ভাইয়াকেই মেসেজ পাঠিয়ে দিয়েছে।

ক, খ এবং গ এর মত অসংখ্য উদাহরন আছে কিন্তু এত লিখতে গেলে আরও সময় লাগবে যা অনেক দুর্লভ , তাই আজক এই টুকু।

বিঃ দ্রঃ এই নোটের শিরোনাম অনেক আকর্ষনীয়, তাই না ?
বিঃ দ্র ২ঃ বানান ভুল, শব্দ বিপর্যয় , বর্ণ বিপর্যয় ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

হালুম এবং মালুম

স্বপ্নে দেখলাম একটা বাঘের খাঁচায় জোড় পূর্বক আমাকে ফেলে দেওয়া হল।
বাঘটি আমাকে দেখে কিঞ্চিৎ বিরক্ত হল এবং কোন প্রকার হালুম মালুম করল না ! বাঘটি নিরামিষভোজি ছিল।
আমি অপমানিত বোধ করলাম এবং রেগে ক্ষেপে বাঘের ঘাড়ে কামড় দিয়ে হালুম এবং মালুম অনুভব করলাম।
দেখি ঘুম ভেঙে গেছে, জানালা দিয়ে ভোরের সাদা আলো আভা ঢুকছে রুমে।

RIP আলমগীর ভাই

অনন্ত যাত্রার যাত্রী আমরা সকলেই
কেউ কেউ বলে, যাত্রীকে ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্ন ট্রেনে পুনরায় নতুন পরিচয়ে ফিরতে হয়
কেউ কেউ বলে ফিরতে হয় না
রহস্যটা যাত্রা এবং যাত্রীর ভেতরই থাক।

আমরা সহযাত্রির সাথে কাছাকাছি, পাশাপাশি কিংবা সাংঘর্ষিক অবস্থানে থেকে যাত্রা পথের যহযাত্রী হই,
কেউ কেউ আগে আর কেউ পরে
শেষমেশ সেই অনন্ত যাত্রা।
হে অনন্ত পথের যাত্রি যেভাবে থাক ভালো থেক।

#RIP আলমগীর ভাই