একদিন যে শর্ট ফিল্মটা আমি বানাবো

সেদিন ইস্টার্ন প্লাজার বাম পাশে নতুন গড়ে ওঠা চা দোকানে চা খাচ্ছি আর মার্কেট এর কাস্টমার বের হওয়া ও প্রবেশ দেখছিলাম, সাথে মার্কেটের সামনে চিরস্থায়ী গাড়ী/বাইকের হর্ণ যুক্ত জ্যাম এনজয় করছিলাম। খেয়াল করলাম এক মহিলা চায়ের দোকান থেকে সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করছেন। আমাকে খেয়াল করলেও আমার দিকে আসেননি। মার্কেট এর সামনে যাকে পাচ্ছেন তার কাছে হাত পাতছেন। হঠাৎ খেয়াল করলাম এক বিদেশী (চেহারায় বাংলাদেশ এর পাহাড় অঞ্চল কিংবা থাইল্যান্ড/মিয়ানমার এর নাগরিক মনে হচ্ছিল) সাথে এক বাংলাদেশী গাইড বা সঙ্গী।

ভিক্ষুক মহিলা ঐ বিদেশীর কাছে হাত পাতলে সে(বিদেশী) তার সাথে থাকা বাংলাদেশী ব্যক্তিকে ইশারা দিয়ে ঐ মহিলা কি বলে শোনার জন্য ইঙ্গিত দিল। দূর থেকে যা বুঝলাম বাংলাদেশী লোকটা হাতের ইশারা দিয়ে মহিলাকে চলে যেতে বলব !

এবার ভিক্ষুক মহিলা চায়ের দোকানের সামনে(দোকানে পাশে আমি দাঁড়ানো এক মাত্র লাইভ ক্রেতা হিসাবে যে এখনো কাঁচের কাপ থেকে চুক চুক করে চা খাচ্ছে আর সামনের ঘটনা পর্যবেক্ষন করছে ) এসে চায়েক দোকানদার ছোকরাকে বলব, দেখলি, শালা বাঙালী … (বেশ খারাপ গালি) আমাকে ভিক্ষা দিতে দিল না, বিদেশী কিন্তু আমাকে দিতে চাইছিল। … মহিলা আর এক প্রস্থ একই কায়দায় কিছু বলার পর চায়ের দোকানের ছেলেটার দিকে হাত পাতলে ছেলেটা বাঙালীর ইজ্জত বাজাতে দুটাকা তাঁর হাতে দিল। আমার দিকেও মহিলা হাত বাড়িয়ে ভিক্ষার জন্য ইশারা(আবেদন) করল। আমি অভ্যস্থ বাঙালীর মত মাথা ঝাকিয়ে না বোধক উত্তর দিয়ে চায়ের কাপ শেষ করার দিকে মনযোগ দিলাম। মহিলাম অবশ্য আমাকে নিয়ে কোন কটুক্তি না করে ভিক্ষার কাজে মনযোগ দিলেন।

আমার শর্টফিল্মের কাহিনী এই টুকুই। এটা আমি বানাবো ৫ মিনিট এর কাহিনী হিসাবে তবে শর্ট ফিল্মের দৈর্ঘ্য এত ছোট বা ৫ মিনিট হবে না। এটার কাহিনী প্রথমে আমি যা লিখেছি তা দেখানো হবে, এরপর আবার শুরুতে আসবে, এবার কাহিনী দেখানো হবে চাওয়ালা ছোকরার চোখ দিয়ে মানে সে বাড়িয়ে গিয়ে তার কচি বউ বা বাড়ির অন্যদের কাছে ঘটনা কিভাবে বর্ণনা করছে… এভাবে আবার ৫ মিনিট, এরপর ভিক্ষুক মহিলা, সেই হাইব্রিড বিদেশী, সেই বাংলাদেশী/বাঙালী, এবং আশেপাশের অন্য কোণ ব্যক্তিবর্গ যাকে আমি খেয়াল করিনি কিন্তু সে এই ঘটনা খেয়াল করেছে।

যদি শর্ট ফিল্ম বানাতে টাকার ঘাটতি পরে আর আপনাদের কাছে হাত পাতি আপনারা বাঙালীর ইজ্জত রাইখেন কিন্তু !

একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম যে, আপনারা বাংলাদেশী আর বাঙালী জাতিয়তা যা নিয়েই লাফ বা ফাল দেন না কেন প্রসংশা বা গালি বা সমালোচনার করার সময় সবাই ‘বাঙালী’ তুলে কথা কয়।

ও হর্ণওয়ালা, তুমি আর একটু ভেপু বাজাও

হে তরুন ভালোবেসে
তোমাকে দিলাম একখন্ড গালি,
এলাকার সেরা বাছাই করা খিস্তি বুলি।

তোমাকে আরো দেব একটা ভেপু বা হরেন বা হর্ণ বা
বা … তোমার মটর বাইকে তোমার আঙুলের কাছে সেই চিরচেনা বাটন বা … তোমার প্রাইভেট কারের ড্যাশবোর্ডে বসানো যেই সুচারু বাটন …
যা তুমি টিপবে, তুমি টিপবে। তোমার সারা জীবনের যত স্ট্রেস তুমি ঐ বাটনে চেপে চেপে ঢাকার রাস্তায় উগ্রে দিবে।

তুমি … তুমি টিপবে, তুমি টিপবে, তুমি হরেনের বাটন চেপে চেপে আমার কান ফাটাবে।

হে তরুন, হে অচেনা বাইকার, হে অমুক ডেরাইভার
তোমাকে ভালোবেসে আমি দেব খন্ড খন্ড গালি।

তুমি … তুমি টিপবে, তুমি টিপবে, তুমি হরেনের বাটন চেপে চেপে আমার কান ফাটাবে।

তোমার গুষ্টির সবার সুখ শান্তির জন্য দৈব চয়নে বাছাই করে
আমি ঢাকার রাস্তার কোন এক চৌরাস্তার মোরে প্রার্থনা পূজায় বসব।
ঈশ্বরকে স্বাক্ষী রেখে আমি তোমাকে উদ্দেশ্য করে মনে মনে আওড়াবো বাছাই করা খিস্তি বুলি। আমার সামনে পেছনে তোমাদের ভীড় লেগে যাবে, তোমরা হর্ণ বাজিয়ে বাজিয়ে বাজিয়ে উলুধ্বনি দিবে।

হে তরুন ভালোবেসে
তোমাকে দিলাম একখন্ড গালি,
এলাকার সেরা বাছাই করা খিস্তি বুলি।

হে তরুন, হে অচেনা ডেরাইভার তোমার পশ্চাৎদ্বেশে হর্ণ বাজাও
হর্ণ বাজিয়ে বাজিয়ে আমার কানের পর্দা ফাটিয়ে দাও।

[নোটঃ জানেন ভাবি অমুক তারিখে ফেসবুকে আমার এই কবিতাটা গেছিল।]

হইচই

প্রিয়তমা,

এই সুন্দর পরিবেশে এসো আমরা দুদন্ড হইচই করি।

তুমি এক মুঠো কাঁদা আমায় ছিটিয়ে দাও, আমিও এক মুঠো তোমার গায়ে।

এরপর এই কাঁদাকাঁদির সুন্দর পরিবেশে এসো আমরা আলিঙ্গন করি, হইচই করি।

প্রিয়তমা,

তোমাকে এই সুন্দর পরিবেশে যে কোন মূল্যে হইচই করতে হবে। সুন্দর দিনের শেষে তুমি আমার গায়ে পানি ঢেলে দাও, আমিও তোমার গায়ে … পানি ঢেলে দেই…ই ?

প্রিয়তমা,

দিন শেষে রাতের সুন্দর পরিবেশেও তোমাকে হইচই করত হবে। ডিসি না মার্ভেল এর মুভি দেখব এটা নিয়ে আমাদের ভেতর তুমুল হইচই হবে।

প্রিয়তমা,

গভীর রাতের সুন্দর পরিবেশে আমরা হইচই করতে করতে একে উপরের গায়ে এলিয়ে পড়ব।

আমরা তুমুল হইচই করব।
আমরা তুমুল হইচই করব।
আমরা তুমুল হইচই করব।

//২৮/০৮/২০১৯

ফাঁসীর রায়ের নথি হারিয়ে গেছে!

ছোট গল্পঃ

এক উদভ্রান্ত প্রেমিক রাগের মাথায় জনসমক্ষে তার প্রেমিকাকে খুন করে ফেলল। তারপর অনুতপ্ত হয়ে নিজেই নিজের নামে থানায় গিয়ে মামলা করে দিল। দীর্ঘ বিচার এর সময় প্রেমিক প্রচন্ড অন্তর্জালায় জর্জরিত হল।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর এক দিন আদালত তার ফাঁসীর রায় দিল। ফাঁসী কার্যকর করার দিন শোনা গেল ফাঁসীর রায়ের নথি হারিয়ে গেছে!

হিরকরাজার ডাস্টবিন দর্শন

ছোট গল্পঃ
একদিন হিরকরাজা গেলেন একটা ডাস্টবিনের ভেতর বেড়াতে। গিয়ে দেখলেন, ডাস্টবিনে কোন ময়লা নাই, ডাস্টবিন এর ভেতর সুগন্ধি বাতাস বয়ে যাচ্ছে। উনি তখন সবাইকে ঝাড়ি দিলেন, তোমরা শুধু শুধু ডাস্টবিনকে দোষারোপ কর, আমিতো দেখছি এটা চেটে খাওয়া যায়।

এরপর কিছুদিন পর জাহিদ সাহেব ( Anarja Adim) যাচ্ছিলেন ঐ ডাস্টবিনের পাশ দিয়ে, দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চেপে যেতে যেতে অনুভব করলেন সমস্যা তার নাকে।

কোন এলাকায় ব্রীজ হলে সেই এলাকার মাঝিরা পেশা বদল করে !

সারা দিন কাজের স্ট্রেস এর কারণে কতবার রেগে গিয়ে রাগ প্রকাশ করলাম আর কতবার করলাম না সেই হিসাব নিয়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে খেয়াল করলাম বাসার কাছেই স্বপ্ন চেইন শপ নতুন শাখা খুলেছে। বাসার পাশের দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করলাম ওমুক নাম্বার এর বাসাটা কোন দিকে, দোকানদার বলল, কি ‘স্বপ্ন’ এর ঠিকানা জানতে চাইছেন। অন্যদিন এর তুলনায় আজকে তার চেহারা কিছু্টা ম্লান। অন্যদিন কোন কিছুর দাম ২টাকা কম রাখতে বল্লে মুখের উপর না বলে দিতেন, আজকে দেখলাম মনে হয় কিছুর দাম জিজ্ঞাসা করলেই বলে দেবেন ভাই, আপনি আমাকে প্রতিটি জিনিসের দাম ১০ টাকা কম দিয়েন এখন থেকে। তার দোকান থেকে বের হবার সময় আমাকে খুব যত্ন করে বলল, ভাই আমাদের ভুলে যাবেন না তো!

এরপর গেলাম স্বপ্ন এর নতুন শাখা দেখতে। ঢুকার মুখেই বেশ জটলা। মনে হচ্ছে ৫ টাকা কেজি দরে পোলাউ এর চাল বেচতেছে কেউ ! ভেতরে আর ঢুকা হলা না কারণ প্রচুর লোক আসছে আর কিনতেছে। স্বপ্ন থেকে বের হবার সময় স্বপ্নে প্রবেশ করতে করতে এক কাস্টমার দেখলাম বলতেছে, আজকেই সব কিনে নিয়ে যাবে মনে হচ্ছে !

স্বপ্ন যে বিল্ডিং এ নতুন শাখা খুলেছে আমি তার সামনে থেকে কাচা তরকারি কিনতাম একজনের কাজ থেকে। অনেক দিন ধরে ভ্যানে করে তরকারি বেচত। তার ভালো দিক হচ্ছে, সে দামাদামিতে কিছুটা দাম কম রাখত। সর্বমোট দামের উপর আবার কিছু কম রাখত। আবার বাজার নিয়ে চলে আসার সময় যত্ন করে বলত, স্যার আইসেন, কম রাখার চেস্টা করব যত টুকু পারি। সেই লোকটা আজকে আর সেই জায়গায় নাই। স্বপ্নের সামনে নিশ্চয় ভ্যানে করে কাঁচা তরকারির দোকান দিতে পারবে না।

বাস্তবতা হচ্ছে এক জনের স্বপ্ন অন্যের দুঃস্বপ্নের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমি অবশ্য কাউকে দোষারোপ করছি না। কোন এলাকায় ব্রীজ হলে সেই এলাকার মাঝিরা পেশা বদল করে !

গুটেনবার্গ চিন্তা: ওয়ার্ডপ্রেস

#গুটেনবার্গ_চিন্তা #ওয়ার্ডপ্রেস

গুটেনবার্গ এডিটরের ক্ষেত্রে একটা পারফরমেন্স সমস্যা করবে অসংখ্য প্লাগিন থেকে ব্লক এর জন্য জাভাস্ক্রিপ্ট এবং সিএসএস ফাইলে লোডিং নিয়ে। রহিমের বানানো দুইটা ব্লক এবং করিমের বানানো দুইটা ব্লক … এই রকম ব্লক যুক্ত করতেই থাকবে ব্যবহারকারিরা। কেউ বলতে এখন যে সব বিজুয়াল পেজ বিল্ডার আছে তাদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। হ্যাঁ ঠিক, তবে কেউ চাইলে এখন পেজ বিল্ডার ছাড়া ক্লাসিক্যাল এডিটর ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু গুটেনবার্গকে এগিয়ে নিতে ওয়ার্ডপ্রেস কয়েক বছর পর ক্লাসিক্যাল এডিটর ফেলে দিবে কোর থেকে। মানে সবাই ডিফল্ট বাধ্য হবে গুটেনবার্গ ব্যবহার করতে যদি নিজে থেকে অন্য এডিটর প্লাগিন ইনস্টল না করে। আমি কিছু কমিউনিটি আলোচনাতে গুটেনবার্গ এডিটর দিয়ে আগের লেখা কনটেন্ট লোডিং টাইম অনেক বেশি এই ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। যদিও আমি জানি শুরুতে পারফর্মেন্স সমস্যা থাকলে আস্তে আস্তে এটা ইম্পরুভ হবে, একদিন আমরা ভুলে যাব ক্লাসিক্যাল এডিটর বলে কিছু ছিল। অন্যদিকে দ্রুপালও গুটেনবার্গকে ফর্ক করে আগাচ্ছে।

মানচু ‘কুফি’ হাউজ

#উদ্যোগ #উদ্যোগের_পরিবেশ #নতুন_উদ্যোগ

যে কোন ব্যবসার জন্য একটা চিন্তা থাকে আমার পন্য বা সেবা কে কিনবে। আমাদের দেশের জনসংখ্য ১৫/২০ কোটি। মানে কেনার মত লোক আছে আমাদের দেশে। আমাকে একজন বলেছিল আমাদের দেশে এত মানুষ এত মানুষ যে পাড়ার এক মহল্লার মুদি দোকান থেকে যদি একই ব্যক্তি ২য়বার ক্রয় না করে তাহলেও ঐ মুদি দোকান এর ব্যবসা তেমন কোন ক্ষতি হবে কারণ দোকানের সামনে দিয়ে সারাদিন এত ফ্লোটিং কাস্টমার আসা যাওয়া করে তাতেই অনেক।

অনেক বড় বড় কম্পানী উন্নত দেশে সার্ভিস দিলেও আমাদের দেশে আসে না। কিন্তু চিন্তা করেন আমাদের দেশে কত মানুষ। এরপরেও কেন আসে না। এই যেমন গত প্রায় ১০ বছর ধরে দেশে কেন পেপ্যাল আসে না এইটা নিয়ে কত আলোচনা- সমালোচনা। কিন্তু কিন্তু কেউ বলে নাই দেশে কেন উবার আসে না। অথচ উবার দেশে এসে হাজির! আপনি এদেশের ২০ কোটি মানুষ সবার কাছে এক কেজি চাল বেচতে পারবেন কিন্তু সবার কাছে একটা স্মার্টফোন বেচতে পারবেন না। কিংবা যারা স্মার্টফোন কেনার যোগ্যতা রাখে তারা সবাই আইফোন কিংবা দামী এন্ড্রয়েড ফোন কেনার সামার্থ রাখে না। যেদিন এপল মনে করবে এদেশেও লাইন ধরে আইফোন কেনার মত অবস্থা তৈরি হয়েছে প্রয়োজনে ওরা আমেরিকার দুইটা রিটেইল বন্ধ করে বাংলাদেশে চালু করবে ১০টা। কারন তখন ওরা মনে করবে আমেরিকা আর বাংলাদেশে উভয় দেশে সেম কোয়ালিটির কাস্টমার কিন্তু বাংলাদেশে কাস্টমার এর ডেন্সিটি বেশি।

দেশে মানুষ অনেক, কাস্টমারও অনেক কিন্তু কাস্টমার এর কোয়ালিটি এবং ধরন অনুসারে এক একটা ব্যবসা চলে। যেহেতু প্রায় এখন সবাই স্মার্টফোন ব্যবহার করে এবং যেহেতু আমাদের দেশে বছরের পর বছর পাবলিক যানবহনের তেমন কোন উন্নতি হয়নি, বরং অবনতি হয়েছে তাই এদেশে উবার ব্যবসা হবে মনে করেছে। গ্রামে মটর বাইকে মানুষ টানাকে ট্যাবু হিসাবেও দেখে, অনেকে বলে ঐ শালা মটর সাইকেলে খ্যাপ মারে। ওর বাইক বেশি দিন টিকবে না। অথচ দেখেন সেই শহরের লোক পাশাপাশি গ্রামে খ্যাপ মারত যারা তারাও এখন ঢাকায় এসে হাজির বাইক নিয়ে !

ধরুন আপনি ERP সফটওয়্যার বেচেন, আপনার কাস্টমার যদি হয় ১০ জন অন্য দিকে মোবাইল লেনদেন বিকাশ এর কাস্টমার সেই অনুপাতে এক লাখ ! আপনি যত টাকায় ERP বেচেন না কেন বিকাশ এর এক ঘন্টা বা এক দিনের আয় এর সমান সারা মাসে করতে পারবেন না। বিকাশ এর পাশাপাশি আরো কিছু মোবাইল পেমেন্ট এসেছে তারাও আপনার ERP থেকে বেশি ব্যবসা করছে কারণ মোবাইল মানি দেশের ২০কোটি সবাই ব্যবহার করার মত, কিন্তু আপনার ERP এর কাস্টমার গুটি কয়েক।

আমাদের দেশ(মানে আপনার কাস্টমার বা ক্লায়েন্ট যদি হয় শুধুমাত্র বাংলাদেশ) বর্তমানে আইটি বিজনেস এর বদলে আইটি এনাবল ‘লো টেক’ বা খুব সহজ টেকনলজি বিজনেস এর জন্য উপযুক্ত।

কিছুদিন আগে কো-ওয়ার্কিং স্পেস ভাড়া দেওয়ার কিছু কম্পানী শুরু হয়েছিল, আরো কিছু আসবে, কিন্তু ইতোমধ্যে কিছু বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল নর্থএন্ড কফিতে আমরা বেশ কয়েক জন্য বন্ধু বান্ধব(যারা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এর সাথে যুক্ত) আড্ডা দিচ্ছিলাম। দেখলাম অনেকে ২৫০ টাকা দিয়ে কফি কিনে দিব্যি বসে ল্যাপটপ এনে কাজ করছে, কেউ কেউ দুই তিন জন বসে জমায়ে গল্প করছে। এর মানে দাড়াচ্ছে, কোওয়ার্কিং স্পেস এর বিজনেস চলার সময় আসে নাই কিন্তু এক সাথে জমায়ে বসে দামী কফি খাওয়ার বিজনেস আমাদের দেশে এখন সম্ভব। কো-ওয়ার্কিং স্পেস না দিয়ে যত বলত, “কফি খান, দরকার হলে বসে কাজ করেন” তাহলে কিন্তু চলবে শিউর!

আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি “মানচু কুফি হাউজ” নামে কিছু একটা চালু করব। আমার অফিসের পাশে আমজাদ এর জিঙ্গারা ভালো, ওদের কাছ থেকে ১০ টাকা সিংগারা কিনে আমার শপে ৫০ টাকায় বেচব, সাথে নর্থএন্ড এর মত চা কফি থাকবে। তবে অতিরিক্ত হিসাবে শুধু চেয়ার টেবিলে বসে না খেয়ে শুয়ে শুয়ে খাওয়ার ব্যবস্থা রাখব। চেয়ার টেবিলের মত বাথ টাব, বাথ টাবে চার পাশ বন্ধু বসে পানি খেলতে পানি খেলতে বসে কফি খাওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। যদি পার্টনার হিসাবে কেউ ইনভেস্ট করতে চান ইনবক্সে জানান।

আপনি আইটি উদ্যোক্তা হিসাবে আপনাকে সফটওয়্যার বেচতে হবে এমন কোন কথা নাই। এদেশে আপমর জনগনের সফটওয়্যারতো দরকার নাই, শুধু শুধু ব্যবসার শুরুতে কেন আপনার কাস্টমার এর ডোমেইন ছোট করবেন। অনলাইনে যদি বেচতে হয় , বেচেন দই না হলে বই।

এক জোড়া দামী স্যান্ডল

ধরুন বর্তমানে যে ছ্যান্ডল জোড়া আপনি পরতেছেন তা নতুন এবং দামি(কত দামি সেইটা এখানে উহ্য থাক)।

এটার বর্তমান অনুভূতি হচ্ছে, আপনার এক জোড়া দামী স্যান্ডল আছে।

এক সময় ছ্যান্ডল জোড়া পুরাতন হবে এবং ছিড়ে যাবে।

তখন অনুভূতি হবে, “আপনার এক জোড়া দামী ছেড়া ছ্যান্ডল আছে”।

এক সময় বেশি পুরাতন হওয়ায় আপনি তা ফেলে দিবেন, তখন আপনার অনুভূতি হবে, “আপনার এক জোড়া দামী ছ্যান্ডল ছিল”

এখানে খেয়াল করার বিষয় হচ্ছে, নতুন এক জোড়া ছ্যান্ডল পরতে পরতে ছিড়ে যাবার পর ফেলে দিয়ে তা আবার নতুন হয়ে গেল।

ঠিক এই কারণে শয়তান বজ্জাত টাইপ লোক মারা যাবার পর লোকজন তার শয়তানি ভুলে যেতে থাকে এবং তাকে আবার ভালো ভাবা শুরু করে।

কবিতা ও ক্যাফেঃ দই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না

কাঁটাবন মোড়ের খুব কাছেই বসে বসে বই পড়া এবং চা কফি খাওয়ার আরও একটা জায়গা খুঁজে পেয়েছি, নাম ‘কবিতা ও ক্যাফে’। ঘটনা হচ্ছে, সেদিন সন্ধ্যার দিকে ঐদিক দিয়ে ফিরতেছি, অনেক দূর থেকে চোখে পড়ল “দই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না” । হ্যাঁ আমি এটাই পড়েছি। যেহেতু পড়ার পর নিজের ভেতরে একটা অস্থির অনুভূতি হচ্ছিল তাই অন্ধকারে আবার পরিস্কার করে পড়ার চেস্টা করলাম। এবার ঠিক ঠাক পড়লাম “বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না”

এখন কেউ হয়তো বলতে পারেন, কেন আপনি ভুল পড়লেন এটার উত্তর আমার কাছে নাই। কেউ বলতে পারেন, আপনি বই এর মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফান করতেছেন। আমার কাছে বিষয়টা এমন না। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে যেমন মানুষ ভুল করে সেই ভাবেই ভুল পড়েছি। ভুল করার পর আবার নিজের ভুল বুঝতে পেরে সুধরে নিলাম। এখন যত বার আমি কাটাবন মোড় দিয়ে যাচ্ছি তত বার আমার মাথায় প্রতিধবনি হচ্ছে, “দই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না”!

দই খাওয়ার লোভে গিয়েও যদি একটা বই এর দুটো পাতা পড়ি তাহলেও খারাপ কি?