গরু, ঘাস এবং বৃত্তের গল্প

একদিন এক অংক ক্লাসে স্যার ছাত্রছাত্রিদের বৃত্ত সম্পর্কে পড়ানো শুরু করলেন। তিনি বিন্দু, বৃত্ত ইত্যাদি বিষয়ে পড়ালেন কিন্তু ছাত্রছাত্রিরা কিছুতেই বুঝতে পারছে না। স্যারও পড়লেন বিপদে। এমন সময় হঠাৎ করে ক্লাসের জানালাতে একটা গরু ফিক করে হেসে দিল। স্যার হুংকার দিয়ে বলল, কে ওখানে, কে হাসে রে ?

গরু মুখ কাচুমাচু করে স্কুলের জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে বলল, “স্যার আমি গরু !”

স্যার বল্লেন, “বুঝলাম তুই গ্রু কিন্তু মাঠে ঘাস না খেয়ে তুই এখানে কি করিস আর এমন ফিক করে হেসে দিলি ক্যান ?”

গরু বলল, “আজকে আমার মালিক ঠিক মত আমার গলার দড়ির সাথে যুক্ত খুটো মাটিতে পুতে দেয় নাই তাই আমি ছাড়া পেয়ে স্কুলে আসছি পড়ালেখা করতে। এসে জানালায় উকি দিতেই দেখি আপনি বৃত্ত পড়াচ্ছিলেন কিন্তু ছাত্রছাত্রিরা বুঝতে পারছে না দেখে হেসে দিলাম। এতো সহজ একটা বিষয় এরা বুঝতে পারছে না !”

স্যার কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বল্লেন, “বটে ! তা তুই কি পারবি বৃত্ত কি বুঝাতে ?”
গরুটা ঠিক এই সুযোগ এর অপেক্ষায় ছিল। প্রতিদিন মাঠে ঘাস খেতে খেতে সে ক্লান্ত। সে সমাজিক কর্মকান্ডে অংশ নিতে চায়। গরু বলল, “অবশ্যই পারব স্যার তবে তার জন্য সবাইকে যেতে হবে মাঠে।”

স্যার ছাত্রছাত্রিদের নিয়ে গরুর পেছন পেছন মাঠে গেলেন। মাঠের মাঝ খানে গিয়ে গরু বলল, ‘স্যার এবার আমার গলার দড়ির সাথে যুক্ত খুটোটা মাটিতে ভালো করে পুতে দেন’। স্যার তাই করলেন আর এবার গরু শুরু করল বৃত্ত পড়ানো।

… এই খুটোটা মাটিতে যে গর্ত তৈরি করল এটা হল বিন্দু। এখন আমি এই খুটো থেকে সবোর্চ দুরত্ব যতদূর দড়ি যাবে সেই বরাবর ঘাস খাব। দেখতে দেখতে গরু ঘাস খেতে খেতে মাটিতে পুতে রাখা খুটোর চারপাশে একটা পাক দিয়ে দিল। তৈরি হয়ে গেল বৃত্ত। গরু হাফাতে হাতে বলল, এই যে খুটো থেকে দড়ি টান টান রেখে আমি যে বরাবর খাস খেলাম এইটা একটা বৃত্ত তৈরি হল। আর আমার দড়ির দৈর্ঘ হল এই বৃত্তের ব্যাসার্ধ। এই রকম দৈর্ঘের দুইটা দড়ি মিলালে হবে ব্যাস। আর আমি যে বরাবর ঘাস খেলাম সেইটা হচ্ছে পরিধি …

ছাত্রছাত্রিরা হাত তালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করল। এখন বৃত্ত, বিন্দু, ব্যাসার্ধ, পরিধি সব স্বচ্ছ পানির মত পরিস্কার সবার কাছে। স্যারও গরুকে বাহবা দিল। “ঘাস খাওয়া থেকে যদি ভালো কিছু হয় হোক তবে …”

গরুকে বিদায় জানিয়ে স্যার যখন ছাত্রছাত্রিদের নিয়ে ক্লাসে ফিরে যাচ্ছিলেন, গরুটা তখন তার গলার দড়ির সাথে যুক্ত খুটোটা আবার উন্মক্ত করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করল। কিন্তু সেই অনুরোধ না রেখে সবাই আবার ক্লাসে ফিরে গেল।

উৎসর্গঃ যে সকল শিশুদের খেলার মাঠ নেই, যাদের স্কুলের মাঠে গরু চড়ে না, যারা স্কুলের জানালা দিয়ে মাঠে গরু চড়ানো দেখতে পারে না …

একদিন একটা লেংটি ইঁদুর একটা প্যান্ট পরা কচ্ছপকে বলল!

একদিন একটা লেংটি ইঁদুর একটা প্যান্ট পরা কচ্ছপকে বলল চল অমুক ইউনিভার্সিটির ক্যান্টিন/ডাইনিং এর ডালের গামলাতে জল কেলি করে আসি।

প্রতিবছর জন্মদিনে বেঁচে থাকার এক একটা মাইলস্টোন পূর্তির ফূর্তিটা খারাপ না

যারা জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যারা জানাতে ভুলে গেছেন, যারা ‘শুভেচ্ছা না জানালেও চলে’ স্টাইলে চুপচাপ বসে ছিলেন, যারা আগামী জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোর দৌড়ে বৌনি খাপ মারবেন সবাইকে ধন্যবাদ। প্রতিজনকে আলাদা ভাবে উত্তর না দিয়ে একবারে শর্টকাট মাইরে দিলাম। গিফট খুব বেশি পাইনি, লুকজন খুব কিপটা আর খারাপ, একটু বয়স বাড়লেই আর জন্মদিনে কিছু গিফট দিতে চায়না অথচ ছোট বেলায় যখন বাচ্চারা কিছুই বুঝে না তখন হাতি ঘোড়া নিয়ে হাজির হয়। আর ফেসবুক আসার পর বিষয়টা পানির উপর তেল ভাসার মত হালকা হয়েছে। কমেন্টে, মেসেঙজারে কিংবা টাইমলাইনে “শুভ জন্মদিন” লিখে খালাস। আরে বাবা ৩/৪ হাজার বন্ধু যদি সবাই এক প্যাকেট করে বিড়ি গিফট দিতেন তাহলে সেই বিড়ি ফুকে বছর পার করে দিতে পারতাম। আপসোস।

প্রতিবছর জন্মদিনের দুই একদিন আগে থেকে মনটা খুব নরম হয়ে যায়। মন নরম হলেই আমি ভাবতে শুরু করি। অফিসের চেয়ারে বসি ভাবি, টয়লেটের প্যানের উপর বসে ভাবি, রাতে ঘুমোতে যাবার আগে ভাবি, শুধু ভাবতেই থাকি। আর একটু পরপর মাথায় গল্প বা কবিতা বা কোন দুষ্টু বুদ্ধি এসে হাজির হয়। এবছর জন্মদিনের দুইদিন আগে থেকে শুধু “গরুর ঘাস খাওয়া আর বৃত্ত” বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় এসে মাথায় হাজির হচ্ছে। এই ধরনের বিষয় নিয়ে একটা দুই লাইন গান বেধে নিজে গেয়ে মানুষ হাসিয়ে, ভাবিয়ে সাউন্ডক্লাউড হয়ে ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছিলাম। এরপর থেকে আরো দুইটা গল্প গুচ্ছ এসে হাজির হয়েছে মাথায় যা আগামী দুই একদিনের ভেতর ফেসবুক বা অন্য কোন মাধ্যমে প্রসব করার ইচ্ছা রাখি।

মানুষের জন্ম, জন্মদিন পালন আর মৃত্যু আর মৃত্যুদিন পালন বিড়ি ফুকার মত। আপনি বিড়ি ফুকবেন, ধোয়া এনজয় করে আবার ছেড়ে দিবেন, অন্যদিকে বিড়ি আগুনে জ্বলে জ্বলে ছোট হতে হতে এক সময় আপনার হাত থেকে পরে রাস্তায় গড়িয়ে হারিয়ে যাবে। আপনি হিসাব করতে পারেন ‘আহা বিড়িটা যা টানলাম না !” অথবা “আহা বিড়িটা শেষ হয়ে গেল, আস্ত একটা বিড়ি টেনে শেষ করে দিলাম !” আমি কিভাবে চিন্তা করি সেটা আমার ভেতরে থাক।

বিঃ দ্রঃ অনেকে আছে লেখার শেষ অংশ পড়ে উজবুকের মত কমেন্ট করবে ‘দাদা আপনি বিড়ি খান ?’ … বেটা থাবড়ায়ে পাছা লাল করে দেব।

বিঃ দ্রঃ – ২ আমি বিড়ি পান করি না। কখনও একবার টেনে পরিক্ষাও করি নাই। বিড়ির গন্ধ আমার সহ্য হয় না, পারলে আমার সামনে বিড়ি টানবেন না।

সবাইকে ধন্যবাদ। বেঁচে থাকার ভেতর একটা আনন্দ আছে। প্রতিবছর জন্মদিনে বেঁচে থাকার এক একটা মাইলস্টোন পূর্তির ফূর্তিটা খারাপ না। সবাই দোয়া/আশীর্বাদ করবেন যেন সব সময় সুস্থ থাকি।

For the Sake of Bloody Story!

সিনেমায় ধর্ষনের দৃশ্য রসিয়ে রসিয়ে কেন দেখানো হয়? এই প্রশ্নের উত্তর সবাইকে খুঁজতে হবে। সিনেমায় ধর্ষনের দৃশ্য দেখানো বন্ধ করতে হবে। অবশ্যই এই ধরনের ঘটনা বুঝানোর জন্য বিকল্প উপায় বের করা যেতেই পারে এবং তা খুব বেশি কঠিন নয়।

অফিস থেকে বাসায় ফিরে টিভি দেখছিলাম, চ্যানেলের নাম মনে নেই, রিমোট চাপতে চাপতে সামনে যা আসে টুকটাক দেখি। জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার এর প্রস্তুতি নিয়ে একটা টিভি প্রতিবেদনে এফডিসি গিয়ে টিভি সাংবাদিক বেশ কয়েকজনের ছোট ছোট মন্তব্য নিলেন। এক নায়িকা বার বার জোর দিয়ে বলল, অবশ্যই যেন ভালো ভালো গল্প লেখা হয় এবং সেই গল্পে সিনেমা তৈরি হয়। বিষয়টা আমাকে বেশ ভাবালো। চিন্তা করে দেখলাম গল্পের প্রয়োজনে সাহসী শট গুলো নায়িকাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় অথচ গল্পটা সিনেমা সংশ্লীষ্ট কেউ না কেউ লেখে। এই বিষয়টা নিয়ে আমার মাথায় একটা দুষ্টু গল্প এসে হাজির হয়েছিল কিছুদিন আগে যা আমার এক বন্ধুর সাথে শেয়ার করেছিলাম যদি এটা দিয়ে একটা শর্টফিল্ম বানানো যায়। দেখি সময় সুযোগ পেলে আমিই বানাবো। তাহলে গল্পটা বলি।

গল্পঃ
নতুন একটা সিনেমা রিলিজ হয়েছে আর তা নিয়ে হৈচৈ পড়ে গেছে। রেডিও, টিভি, ফেসবুক সব জায়গায় বিরাট আলোচনা চলছে সিনেমার একটা দৃশ্য নিয়ে।

পরিচালক বিভিন্ন মাধ্যমে বক্তব্যে বলছেন, ” এটা আর্ট হিসাবে নিতে হবে, আর তা ছাড়া গল্পের প্রয়োজনে এই রকম কিছু হলে ক্ষতি কি? আমরাতো মানুষের জীবনের গল্পই দেখাচ্ছি … ”

নায়ক আর এক কাঠি সরেস, ” হ্যাঁ দৃশ্যটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল, নায়িকা বেশ হেল্প করেছে আমাকে আর আমি চেষ্টা করেছি পুরাটা দেবার জন্য … ”

নায়িকা বরাবরের মত, ” গল্পের প্রয়োজনে এই রকম সাহসী শটতো দিতে হয়। আমার পরিবার সব সময় আমার পাশে থাকে তাই গল্পের প্রয়োজনে যে কোন ধরনের অভিনয় করতে আমার কোন ভয় লাগে না। আমার হাজব্যান্ড এই ব্যাপারে আমার প্রতি বেশি সাপোর্টিভ … ”

প্রযোজক এড়িয়ে গেলেন, ” আমি এখনো সিনেমাটা দেখার সুযোগ পাইনি, আশা করি সব সমালোচনা পেছনে ফেলে সিনেমাটা দর্শকের মন জয় করতে পারবে … ”

অবশেষে অনেক খুঁজে বের করা হল সিনেমার গল্প যিনি লিখেছেন মানে কাহিনীকার। তার বক্তব্য, “আমিতো লিখেছিলাম বিদ্যুৎ না থাকায় লিফট বন্ধ ছিল , নায়ক নায়িকা সিড়ি বেয়ে হেঁটে উঠে ৬ তলায়, বাসায় ঢুকেই দুইজনের শ্বাসপ্রশ্বাস ঘন হয়ে আসে … ! ”

ধন্যবাদ

ফেসবুক ভিত্তিক ব্যবসা আর ফুটপাথের ব্যবসার ভেতর তেমন কোন পার্থক্য নাই

ফেসবুক ভিত্তিক ব্যবসা আর ফুটপাথের ব্যবসার ভেতর তেমন কোন পার্থক্য নাই। প্রথম লাইন পড়েই যারা ফেসবুকে ভিত্তিক ব্যবসা করেন তারা আমার উপর বিরাট খেপে যাবেন, মুখে গালি আসবে, অভদ্রতার খাতিরে সেই গালি দিয়েও দিতে পারেন। মাঝে মাঝে যখন ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদ হয় তখন হকাররা হাই হাই শুরু করে, বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ মানি না, মানবা স্লোগান দেয় অথচ ফুটপাথে ব্যবসাই অবৈধ। অবৈধ ব্যবসা তুলে দেওয়ার বৈধতা না মানাও অবৈধ কার্যক্রম। ফুটপাথে বাদাম ফুট বেচা সাময়িক বা ভ্রাম্যমান ব্যবসা হতে পারে।

প্রায় ৭/৮ মাস ধরে ফেসবকে Slovakia, Cambodia, Guatemala সহ আর কিছু দেশে ব্যক্তগত প্রোফাইলে বিজনেস পেজের আপডেট দেখাচ্ছে না। ফলাফল স্বরূপ প্রায় ৮০-৯০ ভাগ ভিজিটর কমে গেছে। ঐদেশ গুলোতে একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন দিলেই শুধুমাত্র কোন পেজের সেই পোস্ট ব্যক্তিপ্রোফাইলে দেখাবে।

গত দুই বছরে দেশে ব্যাঙের ছাতার মত ফেসবুকে কমার্স শুরু করছে অনেকে, কেউ কেউ ভালো ব্যবসা করতেছে কিন্তু সামনে যখন বাংলাদেশেও ফেসবুকের নিউজ ফিডের পরিবর্তন আসবে এই ব্যবসা ঠিকবে না বার ফেসবুক থেকে হকার উচ্ছেদ এর মত ঘটনা ঘটবে। হাবিজাবি ২৪ নিউজ গুলোও ধাক্কা খাবে যাদের একমাত্র ট্রাফিক ফেসবুক এবং একমাত্র আয় গুগল এডসেন্স আর নিউজের একমাত্র সোর্স প্রতিষ্ঠিত নিউজ সাইট থেকে নিউজ কপি করে পেষ্ট করা।

ফেসবুক আসার আগে দেশীয় সাইট গুলোর একটা অর্গানিক থ্রোথ ছিল। দেশীয় একটা সাইট থেকে অন্য সাইটে যেত অনেকে। দেশিয় সাইটে ট্রাফিক আনার এখন একমাত্র সহজ লভ্য মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক, অন্য উপায় গুলোর অনেক খরচ যেমন রেডিও, টিভি, পেপার কাগুজে কপিতে বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড ইত্যাদি। ফেসবুক যদি তাদের নিউজ ফিডে পরিবর্তন করে তাহলে দেশীয় সাইট গুলোর মার্কেটিং নিয়ে যারা কাজ করে তাদের অবশ্যই নড়েচড়ে বসতে হবে।

এখনি সময় ফেসবুকের বিকল্প চিন্তা করতে। প্রয়োজনে ফেসবুক বা এই রকম যে সাইট গুলো আমদের নিজেদের ইকো সিস্টেমে অনেক বেশি প্রভাব ফেলছে সেই গুলো আগামি ৫ বছরের জন্য বন্ধ রাখা। এতে করে অনলাইন বেসড বিজনেস এর সঠিক ভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিৎ করা যাবে।

ভাই ঘুষি যখন মারবেন তখন একটু আস্তে মাইরেন

ধরুন একটা গুন্ডা টাইপ লোক, যাকে আপনি কোন ভাবেই বুঝাতে পারছেন না এবং সে আপনাকে ঘুষি দিবেই। এই পরিস্থিতিতে আপনি যদি গুন্ডা মানুষকে বলতে পারেন, ভাই ঘুষি যখন মারবেন তখন একটু আস্তে মাইরেন।

যদি আপনার কথা শুনে হেসে ফেলে তাহলে নিশ্চিত আপনি ঘুষি থেকে মুক্তি পাবেন। যদি তাও না হয় সে লজ্জা পেয়ে আস্তেই ঘুষি দিবে। এবং আপনি তাকে এটা মানতে বাধ্য করছেন যে লোকটা ঘুষিখোর।

এখন একজন গুন্ডা ঘুষিখোরের যদি আপনি আত্মসম্মান বাড়াতে পারেন তাহলে কেল্লা ফতে।

অবশ্য অতীত ইতিহাস যা বলে, মানুষের আত্মসম্মান বাড়ানো খুব কঠিন কাজ। একবার দেশে আলোচিত একটা ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছিল। যেখানে মা বলেছিল, বাবা আমার মেয়েটা খুব ছোট তোমরা একজন একজন করে আসো। যদি ধর্ষন ইচ্ছুক বা ধর্ষকদের সামান্যতম আত্মসম্মান বোধ থাকত তাহলে এই কথা শুনে তাদের মুখ নিচু করে চলে যাবার কথা ছিল।

তাই অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ভাই আস্তে ঘুষি মাইরেন এটা বলেও ঘুষি মারা থামানো যাবে না।

কিছুদিন সময় দিলে অনলাইন কোচিং আর লোকাল কোচিং মাঝামাঝি জায়গায় এসে হ্যান্ডশেক করবে

যদি লোকাল কোচিং সেন্টার গুলো ২ ঘন্টা বা ১০ ঘন্টা স্কুল নামে অনলাইন লার্নিং সাইট খুলে তাহলে এদের হোয়াইট লিস্ট করে নিবেন? কেন জিজ্ঞাসা করছি কারণ কোচিং সেন্টার এর বিজনেসকে ভালো চোখে দেখে না অনেকে। লোকাল কোচিং সেন্টারগুলোর কিন্তু নলেজ বেস রেডি, শুধু তাদের দরকার ভিডিও লেকচার রেকর্ড করা এবং তারা প্রতিদিন এতো বেশি ক্লাস নেয় যে দুই একদিন প্রাকটিস করলেই যে কোন ক্লাস পুরাটা ভিডিও করলে অনলাইন লেকচার হিসাবে চালিয়ে দিতে পারবে। এরপর এরা ২ ঘন্টার ক্লাস থেকে ১০ মিনিটের মিনি ভিডিও বানিয়ে ফ্রি দিবে, এর পুরাটা দেখতে হলে টাকা লাগবে। অন্য দিকে যারা ১০ মিনিটের ভিডিও বানাচ্ছে তারা কিছুদিন পর দুই ঘন্টার ভিডিওর জন্য টাকা চাইবে।

এরপরের দিন দুইজন শিক্ষিত ব্যক্তি আসলেন একইভাবে ধান খেতের আইল ধরে

নড়াইল জেলায় একজন কবি ছিলেন(উনি মারা গেছেন) নাম বিপিন সরকার। উনি স্বভাব কবি বিপিন সরকার নামে পরিচিত। আমাদের বাড়ির পাশে রহমান চাচা ছিলেন। উনি শেষ বয়সে সময় কাটানোর জন্য একটা ছোট মুদি দোকান রাস্তার পাশে চালাতেন, বসে থাকতেন, বই পড়তেন এই রকম। আমি মাঝে মাঝে উনার দোকানে গিয়ে উনার সাথে গল্প করলাম। তখন হাই স্কুলে পড়ি না হলে প্রাইমারি। আমি এলাকার মুরুব্বী আরো একজনের সাথে মিশতাম , উনি জলিল চাচা। তার কাছ থেকে দাবা খেলা শিখেছিলাম। জলিল চাচা সময় কাটানোর জন্যই দাবা খেলতেন। যাই হোক, একদিন রহমান চাচার দোকানে বসে আছি, দেখি উনি একটা খাতা থেকে কিছু পড়ছেন, হাতে লেখা কিছু। জিজ্ঞাসা করলে বল্লেন, এটা স্বভাব কবি বিপিন সরকারের কবিতার একটা খাতা, উনাকে পড়ার জন্য দিয়েছেন। সেই দিন উনি বেশ কিছু কবিতা আমাকে শোনালেন যার একটা কবিতার অর্থ আমার এখনো মনে আছে।

কবিতা বা ছড়াটা ছিল ধান খেতের আইল নিয়ে, যারা ধান খেতে গিয়েছেন দেখবেন পাশাপাশি দুইটি জমি ভেতর সরু একটা পা দেওয়ার মত করে আইল বা রাস্তা তৈরি থাকে। এই আইলের উপর দিয়ে একজন মানুষই হাঁটা কষ্টকর হয়ে যায়, দুইজন যেতে গেলে ঝুঁকি থাকে। কবিতাটাতো মনে নেই তবে ভাবার্থ এই রকম যে, দুই ডাকাত ধান খেতের আইল দিয়ে হাটতে হাটতে সামনা সামনি পড়ছে, কেউ কারে রাস্তা ছাড়ে না। শেষ পর্যন্ত হাতাহাতি, মারামারি, সেই মারামারিতে দুই ডাকাতের তাদের স্ব স্ব গ্রামের লোকের অংশ গ্রহন(একে গ্রাম্য ভাষায় বলে কাইয্যা বা কায্যে) বিরাট হুলুস্থুল ব্যাপার।

এরপরের দিন দুইজন শিক্ষিত ব্যক্তি আসলেন একইভাবে ধান খেতের আইল ধরে সামনাসামনি। তারা উভয় উভয়কে যাওয়ার যায়গা দিতে গিয়ে দুইজনই আইল থেকে নেমে ধান খেতের কাঁদার ভেতর নেমে গেলে, দুজন দুজনকে সালাম দিয়ে চলে গেলেন।

জলিল চাচা চলে গেছেন অনেক আগে যার সাথে দাবা খেলতাম, আমার যদি ভুল না হয় রহমান চাচাও নাই এখন। তবে সেইদিন তার দোকানে বসে স্বভাব কবি বিপিন সরকারের যে কবিতা শুনেছিলাম তারই প্রতিফলন পেলাম সাম্প্রতিক লক্ষীপুরের একজন এডিসি এবং সাবেক সিভিল সার্জন এর কে পথ ছাড়বে সেইটা নিয়ে ঝগড়া থেকে হাতাহাতি, জেল জরিমানা ইত্যাদি নিউজ পড়ে। তবে বিপিন সরকারের কবিতার ডাকাত আর শিক্ষিত ব্যক্তি এখানে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।

বিপিন সরকার বেঁচে থাকলে এই কবিতা পুনরায় লিখতেন এটা আমরা আশা করতেই পারি।

ধরুন ব্যক্তি ‘ক’ ব্যক্তি ‘খ’ কে একটা ঘুষি দিল

ধরুন ব্যক্তি ‘ক’ ব্যক্তি ‘খ’ কে একটা ঘুষি দিল। এখন ব্যক্তি ‘ক’ কোন পেশার তার উপর নির্ভর করে পত্রিকার পাতার শিরোনাম লেখা হবে।

যদি ব্যক্তি ‘খ’ একজন সাংবাদিক হন তাহলে শিরোনাম আরো ইন্টারেস্টিং হবে।
যদি ব্যক্তি ‘ক’ সাধারণ মানুষের সাথে বেশি ইন্টারএকজশন হয় এই ধরনের পেশা যেমন পুলিশ, ডাক্তার, ইন্টার্ন ডাক্তার(এটা বিশেষ ভাবে লিখলাম), সরকারী অফিসার, ব্যাংক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ইত্যাদি হন তাহলে নিউজ এর টাইটেল এবং লেখার ধরনে আলাদা কিছু হবেই হবে।

মানে যে ঘুসি দিচ্ছে আর যে খাচ্চে তাদের পেশানুসারে নিউজ এর টাইটেল এবং খবরের গল্পটা সাজানো হয়। সাজানো হয় কারণ ধরুন কেউ দিনাজপুর থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকা আসল সেইটা নিউজ হতে পারে ‘অমুক পায়ে হেঁটে দিনাজপুর থেকে ঢাকা আসল’ আবার কেউ লিখতে পারে ‘অমুক দিনাজপুর থেকে ঢাকা আসল’।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষ সেই নিউজ এর টাইটেল এবং মূল খবর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা করে। যেমন ধরুন একবার একটা নিউজ এই রকম ছিল, ‘ডাক্তার ইনজেকশন পুশ করার পরপরই রোগী মারা যায়’ … এটা কোন মিথ্যা নিউজ ছিল না কারণ ডাক্তার ইনজেকশন পূশ করেছিল এটা যেমন সত্য এবং এরপর রোগী মারা গিয়েছিল সেটাও সত্য। তবে রোগী ছিলেন মরাপন্ন আর ডাক্তার প্রচন্ড সংকটাপন্ন রোগীকে যে চিকিৎসা দেওয়া উচিৎ ছিল সেইটাই দিয়েছেন, না দিলেও যে রোগী বাঁচত এটা কেউ দাবী করতে পারবে না আবার ইনজেকশন দেওয়ার কারণে যে রোগী মারা গেছে তা ঠিক নয় কারণ সেটা রোগীকে বাঁচানোর জন্যই দেওয়া হয়েছে। যেমন, প্রচন্ড জ্বর হলে রোগীকে ট্যাবলেট বা লিকুইড ওষূধ না দিয়ে পাছার ফুটো দিয়ে ডুকানোর ওষূধ দেওয়া হয় কারণ এটা সবচেয়ে তাড়াতাড়ি কাজ করে, ধরেন কেউ এই ওষূধ গ্রহন করার পরপর মারা গেল তাহলে নিউজটা কেমন হবে ?

“পাছার ফুটো দিয়ে ওষূধ ঢোকানোর পরপর রোগী মারা গেল !”

আমাদের সব পেশার মানুষের সাথে পেশায় নিযুক্ত থাকা কালীন সময়ে সাধারণ মানুষের সাথে ইন্টারএকশন হয় না। পুলিশ, ডাক্তার, ইন্টার্ন ডাক্তার(এটা বিশেষ ভাবে লিখলাম), সরকারী অফিসার, ব্যাংক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ইত্যাদি পেশার মানুষের বেশি হয়। অনেকসময় শরীর স্পর্শ করা বা খুব কাছাকাছি থেকে সেবা দেওয়া লাগে। শিক্ষিত মানুষ আর ভদ্র মানুষ আলাদা, কারো দুইটা গুন থাকে, কারো একটা এবং কারো কোনটাই থাকে। সমস্যাটা বাধে এই খানে। কেউ হয়তো একজন মহিলা পেশাজীবীর গায়ে হাত দিয়েই ডাকতেছে, “ওআপা ওআপা” … বিষয়টার ইমপ্যাক্ট অনেক রকম হতে পারে এবং সেই ইমপ্যাক্ট এর ফলাফল পত্রিকার পাতায় ভিন্ন ভিন্ন ভাবে লেখা হতে পারে, নির্ভর করবে ‘কে’ এবং ‘কাকে’ ঘুষিটা দিচ্ছে তার উপর।

দেখেন পূরা লেখার ভেতর কিন্তু “পাছার ফুটো দিয়ে ওষূধ ঢোকানোর পরপর রোগী মারা গেল !” এই লাইনটা আপনি বিশেষ ভাবে খেয়াল করেছেন। এখন যদি এটা নিউজের টাইটেল হয় তাহলে অনেক হিট হবে তাই না ? যদি রোগী ডাক্তারকে পেটায় সেই নিউজ কেউ খাবে না, কিন্তু ডাক্তার যদি রোগীকে পেটায় তাহলে সেই নিউজের টাইটেল কিন্তু লোকজন খাবে। ধরুন দুজন দুজনকেই পেটাল কিন্তু নিউজে করার সময় একটা নিউজ হাউজ কিংবা সাংবাদিক কিন্তু ‘ডাক্তার রোগীকে পেটাল !’ এটাকেই বেছে নিবে।

ধন্যবাদ

Ref: Facebook post