তোমার মুক্তি নাই!

আমাদের প্রজন্ম যেসব আইকনদের ফলো করে বা সাম্প্রতিক সময়ে যারা মারা গেলে আমরা প্রচন্ড আবেগ আপ্লুত হচ্ছি সেই আইকনদের মোটামুটি সবার গল্প একই আর সেইটা হচ্ছে তারা যা করতে চাইছে তাদের বাবা মা বা পরিবার সেইটাতে সাপোর্ট দেয় নাই। খুব কাছাকাছি উদাহরণ হচ্ছে ব্যান্ড সংগীত এবং গীটার শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। তিনি চেয়েছিলেন বাউল হতে আর তার বাবা বলে দিয়েছিলেন সংসারে বাউলের জায়গা হবে না। আমাদের বাবা মা একটা নির্দিষ্ট ফরম্যাটে চিন্তা করেন, ছেলে মেয়ে বড় হবে, পড়ালেখা করবে, পরীক্ষায় ফার্স্ট হবে, মোটামুটি অনার্স পাস করে চাকুরি শুরু করবে এবং কারি কারি টাকা আয় করবে, বিয়ে করবে বাচ্চা পয়দা করবে, বাচ্চা বড় করবে, সেই বাচ্চাকে আবার একই ফর্মুলায় ফেলে কড়াইতে রান্না করবে। আমি অবশ্য বাবা মা বা আত্মীয় স্বজনদের দোষ দেয় না কারণ তাদের বাবা মা তাদের কমন(কমন ফর্মূলা মানে পুরাতন বাংলা সিনেমায় যেমন দেখতাম নির্যাতিত বৌমা এক সময় শাশুড়ি হয়ে বৌমাকে নির্যাতন করত) ফর্মুলায় মানুষ করেছেন। প্রয়োজনে ছেলে মেয়েদের পোঙা থাপড়ায়ে লাল করে তাদের সাকসেস ফুল বানানোর প্রথা অনেক পুরাতন।

তুমি পৃথিবীতে এসেছ মানেই – তোমাকে সাকসেস ফুল হতেই হবে । তুমি যদি সাকসেস ফুল হতে নাও চাও তাও তোমাকে চিড়ে ভাঙানো মেশিনে বা ডাইসে বসিয়ে সাইজ করা হবে। তোমার মুক্তি নাই!

দেশীয় ইকমার্সদের “ব্যাঙের ছাতা” সাথে তুলনা ?

Amazon বাংলাদেশে আসার খবরে অনেকে দেশীয় ইকমার্সদের “ব্যাঙের ছাতা” সাথে তুলনা করে স্ট্যাটাস দিয়েছে। বিষয়টা খুব লজ্জা জনক, তবে যাদের ব্যাঙের ছাতা বলা হচ্ছে তাদের জন্য না, যে বলছে তার জন্য লজ্জাজনক হবার কথা। একটা দেশে বড় বড় প্রতিষ্ঠানও যেমন থাকে তেমন ফুটপাথের ছোট দোকানও থাকে এটা দোষের কিছু না। তবে দেশের ভেতরের প্রতিষ্ঠান গুলোর ভেতর প্রতিযোগিতা আর বাইরের প্রতিষ্ঠানের সাথে দেশীয় প্রতিষ্ঠান এর প্রতিযোগিতা এক বিষয় না।

একটা ছোট উদাহরণ দেই, শুরুতে যখন আমাদের দেশের মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করল তখন ফেসবুক ছিল না। দেশীয় অনেক ফোরাম, ব্লগ অনেক জনপ্রিয় ছিল। ফেসবুক আসার পর সেই সব ব্লগ, ফোরাম হারিয়ে গেছে। মিডিয়াম বর্তমানে একটা জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক কনটেন্ট লেখা এবং পড়ার ব্লগ। আপনি যদি বেশি বেশি পড়েন তাহলে ওরা আপনাকে আটকায়ে টাকা চায়। যদি ফেসবুক না আসত বাংলাদেশে বা শুরু থেকেই যদি দেশে ফেসবুক বন্ধ করে রাখা হত তাহলে দেশীয় ব্লগ, ফোরাম গুলো আজকে অন্য জায়গায় থাকত। আমি নিজে একটা ফোরাম প্রথমে শেয়ারড, এরপর আরো একটু ভালো রিসোর্স আলা শেয়ারড, এরপর ক্লাড হোস্টিং এ নিয়েও শেষ পর্যন্ত ছাত্র অবস্থায় আর হিট সামলাতে পারি নাই। পরে যখন ফেসবুক আসল তখন মানুষের আগ্রহ এই সব ব্লগ, ফোরাম থেকে ফেসবুকের গ্রুপ গুলো আর পেজে চলে গেল। চাইলে দেশীয় এই সব ছোট ছোট উদ্যোগ গুলো ফ্রি এবং কমার্শিয়াল দুইটাই অফার করত। মিডিয়ামে নিশ্চয় কেউ কেউ টাকা দিয়ে সব আর্টিকেল পড়ার সুযোগ পায়, খোঁজ নিলে দেখা যাবে দেশীয় অনেকের প্রোএকাউন্ট আছে। এখন কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ আন্তর্জাতিক অনেক সাইট থেকে অনলাইনে অনেক কিছু কেনে।

আমাজন আজকে যে অবস্থানে সেই অবস্থানে সে শুরুতে ছিল না। শুরুতে আমাদের দেশীয় “ব্যাঙের ছাতা” ইকমার্স এর মতই ছিল। আর হ্যাঁ আমাজনের মত অসংখ্য ইমার্স তখনও শুরু হয়েছিল আমাজন টিকে গেছে। তখন আমাজনের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল না। দেশীয় “ব্যাঙের ছাতা” ইকমার্স প্রতিষ্ঠান গুলো মাত্র ডানা মেলা শুরু করেছে তাকে বটবৃক্ষ টাইপ ইকমার্সের সাথে পাল্লা দিত বলা বা কমপেয়ার করা বোকামি।

আবার কোন কোন সময় দেশীয় গন্ডি পেরিয়ে দেশীয় কম্পানীকে আন্তজার্তিক পর্যায়েও প্রতিযোগিতা করতে হয় যদি আপনার প্রডাক্ট/সার্ভিস আন্তর্জাতিক মানের হয়।

এই বিষয় গুলো নিয়ে এত দ্রুত জেনেরালাইজড মন্তব্য করা উচিৎ না। অনেক সময় দেশীয় কম্পানীগুলো সার্ভিস নিয়ে আমরা অখুশি থাকি। কিন্তু আপনি নিজে যে প্রতিষ্ঠানে সার্ভিস দিচ্ছেন সেইখানে আপনি কি করছেন বা আপনার মত অন্য জনই অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে সে কি করে বা করছে সেইটার সার্বিক দিক বিবেচনা করলে আপনি বুঝতে পারবেন দেশীয় প্রতিষ্ঠান গুলোর সার্ভিস জাতিগত মূল্যবোধ এর সাথেও জড়িত। কেউ যখন দেশীয় ইকমার্স থেকে কিছু কিনে অখুশি হয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয় আমি বেশির ভাগ সময় মন্তব্য করি আমি খুব ভালো সার্ভিস এখন আশাই করি না, কেউ অনলাইনে কিছু বেচতেছে , ৫টা অর্ডার এর ভেতর ৩টা বাসায় সঠিক সময়ে, ২টা দেরিতে আর ১টা গরমিল করে দিতেই পারছে না এতেই আমি খুশি। কারণ আমাদের দেশীয় জাতিগত মূল্যবোধের যে জায়গাটা সেইটা ৫/৫ বা ৫/৪ এর মতও না। বরং আমাজনকে ঠেকিয়ে রেখে জাতিগত মূল্যবোধ বাড়ানোর চেস্টা করলেই হবে।

আমাদের দেশের অফলাইন মুরগির শপে কোণ ভাবেই আপনি ডিজিটাল স্কেল পাবেন না কারণ মুরগি ব্যবসায়ীর মুল্যবোধই হচ্ছে আপনাকে ঠকাবে। কতখানি ঠকাবে, এই যে ধরুন ১০০ থেকে ২৫০ গ্রাম। এক পাল্লায় দ্রুত মেপে দিবে, যদি ডিজিটাল স্কেল থাকে তাহলে স্কেলের উপর প্রচন্ড জোরে ফ্যানের বাতাস দিয়ে রাখবে। এই মূল্যবোধের সমস্যা খোঁজ নিলে দেখবেন যেখানে আমাজনের জন্ম সেখানেও ছিল, আমরা অদের থেকে অনেক বছর পিছিয়ে।

আমাদের নৈতিক মূল্যবোধের জায়গার সমস্যার কারণে অনেক দেশীয় ভালো উদ্যোগ আগাতে পারে না। ধরুন একটা ডিলের সাইট অর্ডার নিল। এখানে অনেক ভেন্ডর যুক্ত থাকে, স্টকে না থাকা সত্তেও ভেন্ডর অর্ডার নিবে, বা অর্ডার নিয়েও সঠিক পন্য দিবে না। আপনি কিন্তু ভেন্ডরকে দেখতে পাবেন না আপনি দেখতে পাবেন ডিল সাইটকে। আপনি বলতে পারেন তাহলে এই দুষ্ট ভেন্ডরকে বাদ দিলেই হয়। আমি বলব ঠগ বাছতে গাও উজার করে দিতে চান ?

নতুন টাকার গন্ধ শুকি

আমাকে ভাঁজ করে তোমার মানি ব্যাগের কচকচে নোট গুলোর পাশে রেখে দাও
আমি বুক ভরে নতুন নোটের গন্ধ নেব আর
ইদুরের মত দাঁত দিয়ে কুট কুট করে কাটব নতুন রঙ্গিন কাগজ গুলো।

তোমার ঘর্মাক্ত পাছার পেছনে,
প্যান্টের পকেটে,
পকেটের ভেতর রাখা মানি ব্যাগে নতুন টাকার নোট,
নোটের পাশে আমি শুয়ে থাকব নিশ্চিত যেন।

অথবা

তোমার সুগন্ধি বোগলের নিচে ভ্যানিটি ব্যাগ,
ব্যাগের ভেতর রাখা মানি ব্যাগে নতুন টাকার নোট,
নোটের পাশে আমি গুটিশুটি মেরে রইব মরার মত।

//১৯ সেপ্ট, ২০১৮, বীর উত্তম রোড, ঢাকা

ঐ লোকটার নাম হল ‘দেশ’ আর তার পরিবারের সদস্যদের সবার নাম ‘নাগরিক’

এক লোক দীর্ঘদিন রোগে শোকে ভুগার পর সে গেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য। বিভিন্ন রকম টেস্ট করার পর দেখা গেল লোকটার ব্লাড ক্যান্সার, স্কিন ক্যান্সার, মাথার ক্যান্সার, হাতের ক্যান্সার, পাছার কান্সার, পেটের ক্যান্সারএবং সর্বপরি তার চোখের ক্যান্সার হয়েছে। ডাক্তারবাবুরা হতাশ হয়ে বসে পড়লেন, আরে আপনারতো সারা শরীরে ক্যান্সার। তাও আবার কোন প্রকার বাদ রাখেননি। এত কিছু নিয়ে কিভাবে বেঁচে আছেন ? লোকটাকে তার নাম পরিচয় বলার জন্য সবাই খুব চাপাচাপি করল। প্রচন্ড চাপাচাপিতে নত স্বীকার করে লোকটা তার পরিচয় প্রকাশ করল।

ঐ লোকটার নাম হল ‘দেশ’ আর তার পরিবারের সদস্যদের সবার নাম ‘নাগরিক’।

আমরা কি আমাদের তারাদের ভালোবাসি না?

আমাদের ছোট ছোট তারারা জ্বলার আগেই নিভে যাচ্ছে,
তাদের নিভিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ওদের গাড়ি চাপা দিয়ে মারা হচ্ছে,
কারো গায়ে গরম খুন্তির ছ্যাকা দেওয়া হচ্ছে।
রোজ সকালে ওদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হয় শরীরের ওজনের সমান বইয়ের ভারি ব্যাগ।

আমাদের তারাদের মেরে ফেলা হচ্ছে।
বুঝতে শেখার আগেই কারো যৌনাঙ্গ হয়ে যাচ্ছে পাশবিক অত্যাচারে ছিন্নভিন্ন!
মিথ্যা চুরির অপরাধে পিটিয়ে মারা হচ্ছে ওদের।
ওরা জ্বলে উঠার আগেই দপ করে নিভে যাচ্ছে।

আমাদের তারাদের খেলার মাঠ ক্ষুধার্তরা খেয়ে ফেলছে।
ওদের শিক্ষা এবং পরীক্ষার পদ্ধতি চরম হাস্যকর।
আমাদের তারাদের জোর করে ইংলিশ খাওয়ানো হয়।
ওদের অনেকের স্কুলে মাঠ নাই, কারো মাঠ থাকলে সেই মাঠে কাঁদা জমে না, গরু চড়ে না। ওদের ঘাসের উপর হাটতে দেওয়া হয় না।

আমাদের তারাদের জন্য বিশুদ্ধ বায়ু নাই।
আমাদের তারাদের জন্য বিশুদ্ধ পানি নাই।
আমাদের তারাদের জন্য বিশুদ্ধ সবজি বাজারে বিক্রি হয় না।
আমাদের তারাদের খেতে দেওয়া মাছে ফরমালিন থাকে।
ওরা জ্বলে ওঠার আগেই নিভে যাচ্ছে। ওদের নিভিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

//আমরা কি আমাদের তারাদের ভালোবাসি না?
৩০.০৭.২০১৮

গরু, ঘাস এবং বৃত্তের গল্প

একদিন এক অংক ক্লাসে স্যার ছাত্রছাত্রিদের বৃত্ত সম্পর্কে পড়ানো শুরু করলেন। তিনি বিন্দু, বৃত্ত ইত্যাদি বিষয়ে পড়ালেন কিন্তু ছাত্রছাত্রিরা কিছুতেই বুঝতে পারছে না। স্যারও পড়লেন বিপদে। এমন সময় হঠাৎ করে ক্লাসের জানালাতে একটা গরু ফিক করে হেসে দিল। স্যার হুংকার দিয়ে বলল, কে ওখানে, কে হাসে রে ?

গরু মুখ কাচুমাচু করে স্কুলের জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে বলল, “স্যার আমি গরু !”

স্যার বল্লেন, “বুঝলাম তুই গ্রু কিন্তু মাঠে ঘাস না খেয়ে তুই এখানে কি করিস আর এমন ফিক করে হেসে দিলি ক্যান ?”

গরু বলল, “আজকে আমার মালিক ঠিক মত আমার গলার দড়ির সাথে যুক্ত খুটো মাটিতে পুতে দেয় নাই তাই আমি ছাড়া পেয়ে স্কুলে আসছি পড়ালেখা করতে। এসে জানালায় উকি দিতেই দেখি আপনি বৃত্ত পড়াচ্ছিলেন কিন্তু ছাত্রছাত্রিরা বুঝতে পারছে না দেখে হেসে দিলাম। এতো সহজ একটা বিষয় এরা বুঝতে পারছে না !”

স্যার কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বল্লেন, “বটে ! তা তুই কি পারবি বৃত্ত কি বুঝাতে ?”
গরুটা ঠিক এই সুযোগ এর অপেক্ষায় ছিল। প্রতিদিন মাঠে ঘাস খেতে খেতে সে ক্লান্ত। সে সমাজিক কর্মকান্ডে অংশ নিতে চায়। গরু বলল, “অবশ্যই পারব স্যার তবে তার জন্য সবাইকে যেতে হবে মাঠে।”

স্যার ছাত্রছাত্রিদের নিয়ে গরুর পেছন পেছন মাঠে গেলেন। মাঠের মাঝ খানে গিয়ে গরু বলল, ‘স্যার এবার আমার গলার দড়ির সাথে যুক্ত খুটোটা মাটিতে ভালো করে পুতে দেন’। স্যার তাই করলেন আর এবার গরু শুরু করল বৃত্ত পড়ানো।

… এই খুটোটা মাটিতে যে গর্ত তৈরি করল এটা হল বিন্দু। এখন আমি এই খুটো থেকে সবোর্চ দুরত্ব যতদূর দড়ি যাবে সেই বরাবর ঘাস খাব। দেখতে দেখতে গরু ঘাস খেতে খেতে মাটিতে পুতে রাখা খুটোর চারপাশে একটা পাক দিয়ে দিল। তৈরি হয়ে গেল বৃত্ত। গরু হাফাতে হাতে বলল, এই যে খুটো থেকে দড়ি টান টান রেখে আমি যে বরাবর খাস খেলাম এইটা একটা বৃত্ত তৈরি হল। আর আমার দড়ির দৈর্ঘ হল এই বৃত্তের ব্যাসার্ধ। এই রকম দৈর্ঘের দুইটা দড়ি মিলালে হবে ব্যাস। আর আমি যে বরাবর ঘাস খেলাম সেইটা হচ্ছে পরিধি …

ছাত্রছাত্রিরা হাত তালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করল। এখন বৃত্ত, বিন্দু, ব্যাসার্ধ, পরিধি সব স্বচ্ছ পানির মত পরিস্কার সবার কাছে। স্যারও গরুকে বাহবা দিল। “ঘাস খাওয়া থেকে যদি ভালো কিছু হয় হোক তবে …”

গরুকে বিদায় জানিয়ে স্যার যখন ছাত্রছাত্রিদের নিয়ে ক্লাসে ফিরে যাচ্ছিলেন, গরুটা তখন তার গলার দড়ির সাথে যুক্ত খুটোটা আবার উন্মক্ত করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করল। কিন্তু সেই অনুরোধ না রেখে সবাই আবার ক্লাসে ফিরে গেল।

উৎসর্গঃ যে সকল শিশুদের খেলার মাঠ নেই, যাদের স্কুলের মাঠে গরু চড়ে না, যারা স্কুলের জানালা দিয়ে মাঠে গরু চড়ানো দেখতে পারে না …

একদিন একটা লেংটি ইঁদুর একটা প্যান্ট পরা কচ্ছপকে বলল!

একদিন একটা লেংটি ইঁদুর একটা প্যান্ট পরা কচ্ছপকে বলল চল অমুক ইউনিভার্সিটির ক্যান্টিন/ডাইনিং এর ডালের গামলাতে জল কেলি করে আসি।

প্রতিবছর জন্মদিনে বেঁচে থাকার এক একটা মাইলস্টোন পূর্তির ফূর্তিটা খারাপ না

যারা জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যারা জানাতে ভুলে গেছেন, যারা ‘শুভেচ্ছা না জানালেও চলে’ স্টাইলে চুপচাপ বসে ছিলেন, যারা আগামী জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোর দৌড়ে বৌনি খাপ মারবেন সবাইকে ধন্যবাদ। প্রতিজনকে আলাদা ভাবে উত্তর না দিয়ে একবারে শর্টকাট মাইরে দিলাম। গিফট খুব বেশি পাইনি, লুকজন খুব কিপটা আর খারাপ, একটু বয়স বাড়লেই আর জন্মদিনে কিছু গিফট দিতে চায়না অথচ ছোট বেলায় যখন বাচ্চারা কিছুই বুঝে না তখন হাতি ঘোড়া নিয়ে হাজির হয়। আর ফেসবুক আসার পর বিষয়টা পানির উপর তেল ভাসার মত হালকা হয়েছে। কমেন্টে, মেসেঙজারে কিংবা টাইমলাইনে “শুভ জন্মদিন” লিখে খালাস। আরে বাবা ৩/৪ হাজার বন্ধু যদি সবাই এক প্যাকেট করে বিড়ি গিফট দিতেন তাহলে সেই বিড়ি ফুকে বছর পার করে দিতে পারতাম। আপসোস।

প্রতিবছর জন্মদিনের দুই একদিন আগে থেকে মনটা খুব নরম হয়ে যায়। মন নরম হলেই আমি ভাবতে শুরু করি। অফিসের চেয়ারে বসি ভাবি, টয়লেটের প্যানের উপর বসে ভাবি, রাতে ঘুমোতে যাবার আগে ভাবি, শুধু ভাবতেই থাকি। আর একটু পরপর মাথায় গল্প বা কবিতা বা কোন দুষ্টু বুদ্ধি এসে হাজির হয়। এবছর জন্মদিনের দুইদিন আগে থেকে শুধু “গরুর ঘাস খাওয়া আর বৃত্ত” বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় এসে মাথায় হাজির হচ্ছে। এই ধরনের বিষয় নিয়ে একটা দুই লাইন গান বেধে নিজে গেয়ে মানুষ হাসিয়ে, ভাবিয়ে সাউন্ডক্লাউড হয়ে ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছিলাম। এরপর থেকে আরো দুইটা গল্প গুচ্ছ এসে হাজির হয়েছে মাথায় যা আগামী দুই একদিনের ভেতর ফেসবুক বা অন্য কোন মাধ্যমে প্রসব করার ইচ্ছা রাখি।

মানুষের জন্ম, জন্মদিন পালন আর মৃত্যু আর মৃত্যুদিন পালন বিড়ি ফুকার মত। আপনি বিড়ি ফুকবেন, ধোয়া এনজয় করে আবার ছেড়ে দিবেন, অন্যদিকে বিড়ি আগুনে জ্বলে জ্বলে ছোট হতে হতে এক সময় আপনার হাত থেকে পরে রাস্তায় গড়িয়ে হারিয়ে যাবে। আপনি হিসাব করতে পারেন ‘আহা বিড়িটা যা টানলাম না !” অথবা “আহা বিড়িটা শেষ হয়ে গেল, আস্ত একটা বিড়ি টেনে শেষ করে দিলাম !” আমি কিভাবে চিন্তা করি সেটা আমার ভেতরে থাক।

বিঃ দ্রঃ অনেকে আছে লেখার শেষ অংশ পড়ে উজবুকের মত কমেন্ট করবে ‘দাদা আপনি বিড়ি খান ?’ … বেটা থাবড়ায়ে পাছা লাল করে দেব।

বিঃ দ্রঃ – ২ আমি বিড়ি পান করি না। কখনও একবার টেনে পরিক্ষাও করি নাই। বিড়ির গন্ধ আমার সহ্য হয় না, পারলে আমার সামনে বিড়ি টানবেন না।

সবাইকে ধন্যবাদ। বেঁচে থাকার ভেতর একটা আনন্দ আছে। প্রতিবছর জন্মদিনে বেঁচে থাকার এক একটা মাইলস্টোন পূর্তির ফূর্তিটা খারাপ না। সবাই দোয়া/আশীর্বাদ করবেন যেন সব সময় সুস্থ থাকি।

For the Sake of Bloody Story!

সিনেমায় ধর্ষনের দৃশ্য রসিয়ে রসিয়ে কেন দেখানো হয়? এই প্রশ্নের উত্তর সবাইকে খুঁজতে হবে। সিনেমায় ধর্ষনের দৃশ্য দেখানো বন্ধ করতে হবে। অবশ্যই এই ধরনের ঘটনা বুঝানোর জন্য বিকল্প উপায় বের করা যেতেই পারে এবং তা খুব বেশি কঠিন নয়।

অফিস থেকে বাসায় ফিরে টিভি দেখছিলাম, চ্যানেলের নাম মনে নেই, রিমোট চাপতে চাপতে সামনে যা আসে টুকটাক দেখি। জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার এর প্রস্তুতি নিয়ে একটা টিভি প্রতিবেদনে এফডিসি গিয়ে টিভি সাংবাদিক বেশ কয়েকজনের ছোট ছোট মন্তব্য নিলেন। এক নায়িকা বার বার জোর দিয়ে বলল, অবশ্যই যেন ভালো ভালো গল্প লেখা হয় এবং সেই গল্পে সিনেমা তৈরি হয়। বিষয়টা আমাকে বেশ ভাবালো। চিন্তা করে দেখলাম গল্পের প্রয়োজনে সাহসী শট গুলো নায়িকাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় অথচ গল্পটা সিনেমা সংশ্লীষ্ট কেউ না কেউ লেখে। এই বিষয়টা নিয়ে আমার মাথায় একটা দুষ্টু গল্প এসে হাজির হয়েছিল কিছুদিন আগে যা আমার এক বন্ধুর সাথে শেয়ার করেছিলাম যদি এটা দিয়ে একটা শর্টফিল্ম বানানো যায়। দেখি সময় সুযোগ পেলে আমিই বানাবো। তাহলে গল্পটা বলি।

গল্পঃ
নতুন একটা সিনেমা রিলিজ হয়েছে আর তা নিয়ে হৈচৈ পড়ে গেছে। রেডিও, টিভি, ফেসবুক সব জায়গায় বিরাট আলোচনা চলছে সিনেমার একটা দৃশ্য নিয়ে।

পরিচালক বিভিন্ন মাধ্যমে বক্তব্যে বলছেন, ” এটা আর্ট হিসাবে নিতে হবে, আর তা ছাড়া গল্পের প্রয়োজনে এই রকম কিছু হলে ক্ষতি কি? আমরাতো মানুষের জীবনের গল্পই দেখাচ্ছি … ”

নায়ক আর এক কাঠি সরেস, ” হ্যাঁ দৃশ্যটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল, নায়িকা বেশ হেল্প করেছে আমাকে আর আমি চেষ্টা করেছি পুরাটা দেবার জন্য … ”

নায়িকা বরাবরের মত, ” গল্পের প্রয়োজনে এই রকম সাহসী শটতো দিতে হয়। আমার পরিবার সব সময় আমার পাশে থাকে তাই গল্পের প্রয়োজনে যে কোন ধরনের অভিনয় করতে আমার কোন ভয় লাগে না। আমার হাজব্যান্ড এই ব্যাপারে আমার প্রতি বেশি সাপোর্টিভ … ”

প্রযোজক এড়িয়ে গেলেন, ” আমি এখনো সিনেমাটা দেখার সুযোগ পাইনি, আশা করি সব সমালোচনা পেছনে ফেলে সিনেমাটা দর্শকের মন জয় করতে পারবে … ”

অবশেষে অনেক খুঁজে বের করা হল সিনেমার গল্প যিনি লিখেছেন মানে কাহিনীকার। তার বক্তব্য, “আমিতো লিখেছিলাম বিদ্যুৎ না থাকায় লিফট বন্ধ ছিল , নায়ক নায়িকা সিড়ি বেয়ে হেঁটে উঠে ৬ তলায়, বাসায় ঢুকেই দুইজনের শ্বাসপ্রশ্বাস ঘন হয়ে আসে … ! ”

ধন্যবাদ