তোমার জন্য

তুমি যখন ভূমিষ্ঠ হয়েছিলে যদি এক দূর্বিনীত চিল তোমাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যেত
সবাই করত হায় হায় 🙁

তুমি যখন শিশু ছিলে যদি কোন রূপকথার ডাইনী বুড়ি তোমাকে ভুলিয়ে নিয়ে যেত
সবাই কি কান্নাটাই না কাঁদত তাই না ?

একদিন তোমার জন্য লেখা হয়েছিল রুপকথা
আজ ও আগামী তোমাকে ঘিরে লেখা হবে অসংখ্য আধুনিক কবিতা,
তোমাকে ঘিরে কত আয়োজন, তোমার জন্যই যত আয়োজন।

তোমার জন্য চেয়ে আছে পথ, তোমার জন্য অফুরন্ত আগামী।
তুমি এগিয়ে যাও , ইতিহাসে যুক্ত হোক তোমার অস্থির চলাচল।

………………………………..
উৎসর্গঃ তোমাকে
০৭-১১-২০১৩
একজন মানচুমাহারা

চাঁদ

এক খানা চাঁদ ভাগ করে নেই,
আধেকটা আমার আধেকটা তোমার।

এক খানা চাঁদ ভাগ করে নেই,
এক পাশ আমার অন্য পাশ তোমার।

এক খানা চাঁদ ভাগ করে নেই,
পুরাটা তোমার, শুধু তোমার ছায়াটা আমার !

চাঁদকে নিয়ে ভাগাভাগি চাঁদের নাইকো লাজ,
চাঁদ নিয়ে বাড়াবাড়ি, দেখ তোমার কপালে ভাঁজ।

//১৯০৯২০১৩

বিঃ দ্রঃ যদি চাঁদাবাজি করে আপনি জীবন নির্বাহ করেন তাহলে আজই উত্তম দিন চাঁদের কাছা চাঁদা চাওয়ার কারণ চাঁদের সকল মুরিদরা আজ খুবই উচ্ছশিত !

ফড়িং , নুলো বাছুড় এবং প্রজাপ্রতির গল্প

একদিন আমি তোমার দেওয়ালে একটা ফড়িং এঁকে দিলাম,
পরের দিন ফড়িং লাফাতে শুরু করল,
তুমি বললে, চুপ কর হতচ্ছাড়া !

তারপর একদিন আমি তোমার গোয়ালে একটা নুলো বাছুড় ছেড়ে দিলাম,
পরের দিন সেটি তিরিং বিরিং ছুটতে লাগল,
তুমি বললে, চুপ কর পাজি !

আমি একদিন তোমার ক্যানভাসে একটা প্রজাপ্রতি এঁকে দেব,
তুমি পারলে তাড়িয়ে দিও !

//২১।০৮।২০১৩, কাঁটাবন

স্থির চলাচল

আমার মাঝে মাঝে কিছু একলা সময় কাটে,
এমন নয় যে আমার আশে পাশে দুটো মানুষ নেই কিংবা
হাত তিনেক দূরে একটা টিভি নিজে থেকে সম্প্রচার করে যাচ্ছে তুমুল টক শো।
এত কিছুর মাঝেও আমি একলা সময় কাটাই।

মাঝে মাঝে আমি আমার একার জন্য কিছু সময় কাটাই,
একান্তে তুলে রাখা কিছু সময়,
প্রচন্ড শব্দের ভেতর নিঃশব্দ,
অনেকগুলো গনগনে মনের আশেপাশে আনমনে,
দুরন্ত চলাচলের মাঝে কিছু নিশ্চল সময় আমার চাই ই চাই।

//মানচুমাহারা , ১৪০৭২০১৩ , বিকাল, কাটাবন(অফিসে)

আহা … আমি আমি !

এক যুগ আগে কোথায় ছিলাম মনে করতে পারি না , আমি গুনে রাখিনি।
এক যুগ পরে কোথায় যেতে চাই সেটা নিয়ে আমি ভাবি মাঝে মাঝে,
আমার ভাবনার ভেতর চলে আসে এমনি এমনি,
এই আজকের আমি কতখানি সত্যি, কতখানি বাস্তব, কতখানি অসত্য ?
আহা … আস্ত একটা আমি,
আমার ভেতরের আমি, আমার বাইরের আমি, আমি আমি !

আমার ছেলেমানুষীই আমি,
আমার পাগলামীই আমি,
আমার অভিমানই আমি, আহা… আমি আমি !
//০৯০৭২০১৩

প্রতিবেশী

বালিকা,

তোমার দারুকেশ্বর নদীর তীর ঘেঁষে এলোমেলো বৈঠা বেয়ে আমিইতো যাই
তুমি মাঝে মাঝে তাকাও আনমনে, আবার তাকাও না
বেসুরে গলায় গান গেয়ে আমিইতো বৈঠা বাই, তুমিকি শুনতে পাও না।
তোমায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে অনেক দূরে হারিয়ে যাই, তুমি স্পর্শ টের পাও না ?

ভরা বর্ষায় যখন নদীর পানি উপচে পড়ে তখনও ছিলাম,
চৈত্রে যখন নদীর জল শুকিয়ে খাল তখনও আমি ছিলাম, তুমি খেয়াল করনি।

সেই ছোট্ট বেলায় তুমি যখন নদীর পাড়ে পুতুল খেলতে-
তখন তোমার আশেপাশে আমিই তো ঘুড়ি উড়াতাম।
তুমি দেখেছ ঘুড়ি, লাটাই হাতে আমাকে দেখনি।

নদীর তীর ঘেঁষে তোমার বসতি, আমার বসতি, আমাদের বসতি।
আমরা একে অপরের প্রতিবেশী ছিলাম, কেউ কাউকে খেয়াল করিনি।

//০৫০৭২০১৩

ঠিকঠাক

যদি ভাংচুর হয়ে যায় চাঁদ
কিংবা কাটাকুটি হয়ে যায় রাত
শুধু স্বপ্নরা বেঁচে থাক ঠিকঠাক
ধরে রাতজাগা পাখিদের হাত।

যদি চুরি হয়ে যায় রোদ
কিংবা বোবা হয়ে যায় বোধ
আশারা জেগে থাক ঠিকঠাক
বহুপথ যেতে হবে, অপেক্ষা শুধু ভোর।

……………….. ২০।০৫।২০১৩
(অসম্পূর্ণ)

শুন্যতা

কতজন মানুষ মহাশুন্যে গিয়েছে ?
একটি তারা খসে গেলে কিংবা একটি আলো নিভে গেলে বড়জোড় নাসার একজন বিজ্ঞানী আহত হবেন।

যদি একজন পরিচিত মানুষ অনুপস্থিত থাকে,
একজন বন্ধু কিংবা ভালোবাসার মানুষ, ঘুরে ফিরে সেই শুন্য জায়গা চোখে পড়ে, মনে পড়ে।

মানুষকি শুন্যতাকে অস্বীকার করতে চায় ?
শুন্য আর শুন্যতার পার্থক্য কি মানুষ জানে ?
বৃত্তের কেন্দ্র আর পরিধির দুরত্ব কি মানুষ জানে ?
পরিধিতে দাঁড়িয়ে কি মানুষ কেন্দ্রের শুন্যতা অনুভব করে না ? কিংবা কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে কি মানুষ পরিধিকে আঁকড়ে ধরতে চায় না ?

মহাশুন্য আর মহাশুন্যতা এক জিনিস নয়।
মানুষ কি মহাশুন্যতা অনুভব করতে পারে?

প্রশ্ন আর উত্তরের মাঝেও কিছু শুন্যতা এবং অপূর্ণতা আছে।

শুন্যতার অস্থিত্ব আছে বলেই মানুষ বেঁচে থাকে,
মানুষ বেঁচে থাকে ভরাট এবং জমাট ভালোবাসার জন্য।

……………………………।।
মানচুমাহারা, ১৫।০৫।২০১৩
লালবাগ, ঢাকা।

ইরেজার

পেন্সিলের আঁকিবুকি মোছা সহজ
কিন্তু সাথে কাগজের গায়ে যে আঁচড় লাগে তার কি হবে ?

আরো একটু কাছে গিয়ে দেখলে বোঝা যায় আহা রাবারের ঘষায় কাগজের যে ক্ষয় হয়ে গেল,
বড্ড ক্ষতি হয়ে গেল !

………………………………
মানচুমাহারা, ১৬।০৫।২০১৩, লালবাগ, ঢাকা।

অচ্ছ্যুৎ

অচ্ছ্যুৎ এর দল চিরকাল সংখ্যাগুরু ছিল।

আকাশ মেঘকে ছুঁতে চায় না, মেঘ বৃষ্টিকে
সূর্যের আলো ছাড়া বাঁচা দায় কিন্তু প্রখর সূর্যকে ছোঁয়ার সাহস কেউ দেখায় না কিংবা ছুঁতে চায় না।
বৃষ্টির জন্য মানুষের সেকি প্রত্যাশা কিন্তু ঝড়কে মেনে নেয় কজনা।

অচ্ছ্যুৎ বলে ঝড়কে কেউ ঘেষতে চায় না, মেঝ দেখলেই পালিয়ে যায় !

সূর্য অচ্ছ্যুৎ,
মেঘ অচ্ছ্যুৎ,
বৃষ্টি অচ্ছ্যুৎ,
ঝড় অচ্ছ্যুৎ।

বোহেম অচ্ছ্যুৎ।

পথিক কিংবা তার পায়ে চলা পথ অচ্ছ্যুৎ।
আমি তোমাকে ছুই না, তুমি আমাকে ছোও না এবং আমরা একে অপরকে ছুই না, আমরা অচ্ছ্যুৎ।

মায়া অচ্ছ্যুৎ, ভালোবাসা অচ্ছ্যুৎ, ভুল অচ্ছ্যুৎ, শুদ্ধ অচ্ছ্যুৎ, মৃত্যু অচ্ছ্যুৎ ।

অচ্ছ্যুৎ এর দল চিরকাল সংখ্যাগুরু ছিল।
——————————–
মানচুমাহারা, ১৪।০৫।২০১৩
লালবাগ, ঢাকা, বাংলাদেশ