রোদ

চিক চিকে রোদ, মিষ্টি রোদ, ফুটফুটে রোদ,
প্রকৃতির সব অন্ধকার গ্রাস করে মাথা তুলেছে।
প্রকৃতির সব সৌন্দর্য্য যেন ফিকে হয়ে গেছে. .
শির-বীর্যে রোদ -একাধিপতি-রাজপতি. . .
অদম্য রোদ , উদ্ভান্ত রোদ, একরোখা রোদ,
কর্মক্লান্ত মানুষের ঘাড়ে বসে সে তামাক ফুকে
মাটির ফেটে যাওয়া ধারে তার হাসি. . .
হুংকার দিয়ে ওঠে , ‘আমি রোদ –আমি রোদ’
সোনামাখা রোদ, আদুরে রোদ , ভ্রাম্যমান রোদ
চৌর্যবৃত্তে সে ভীষণ পারদর্শী, চুরি করে সব বোধ !
বর্ষাকে রুখে দেখা দেয় কিছু রোদ,
খেকশিয়ালের সাথে তার বুঝি বড় সন্ধি ! !
ঘুম রোদ-ঝিমুনি রোদ, ঘর্মাক্ত রোদ-ক্লান্ত রোদ
পীচ ঢালা রাস্তার ধো্যাটে রোদ, হিংস্র রোদ,
আশাবাদী রোদ ফুলে ফেপে ওঠে. . .
মধ্যগগনে সূর্যের সাথে খেলে মিতালী।
ভবঘুরে রোদ, পথ ভোলা রোদ, ভেংগে যাওয়া রোদ. . .
পথিক রোদ পথ দেখায় সব পিছিয়ে পড়াদের।

আমি অফুরন্ত এই রোদের সাথী হতে চাই,
রোদ গায়ে মেখে –রোদ স্নান করে আমি মরিয়া. . .
রোদ তুমি থাক চিরদিন মাথা তুলে,
আমি মানচুমাহারা রোদ কে ভাল বাসি সব ভুলে।।

বর্ষা বন্দনা

আমি তোমাকে আহ্বান করেছিলাম,
আকুল আবেদন করেছিলাম তোমার স্পর্শ পাবার জন্য ,
শূণ্যে দু’হাত তুলে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম. . . আমি।
অবশষে তুমি এলে,
আমি তোমার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেললাম !
তুমি শন-শন শব্দে আমার শরীরে শিহরণ জাগালে,
তুমি আমার মাথা স্পর্শ করলে,
তুমি আমার ঘাঢ় ছুঁয়ে দিলে নরম তুল-তুলে হাতে,
আমিও আলতো করে তোমায় স্পর্শ করে দিলাম. . . ।
নিঃশব্দে, নীরবে, সংগোপনে,
তোমার স্পর্শ নুয়ে পড়লো ঘাঢ় থেকে আমার সমস্ত শরীরে,
আমি তোমাতে সিক্ত হলাম,
আমি তোমাতে মত্ত হলাম।

কিছু অনুভূতি স্পশর্কে অনুভব করে
আর কিছু স্পর্শ অনুভবকে স্পর্শ করে ।’
তুমি আমাকে স্পর্শ করলে আর আমি তোমাকে অনুভব করলাম ।।
শাশ্বত হে বর্ষা,
তুমি বার বার আমায় ছুঁয়ে যাও
তোমার স্পর্শে আমি বাচঁবো. . .
পুনঃ পুনঃ স্পর্শের তৃষ্ণা নিয়ে. . . . ।

উৎসর্গঃ প্রিয় বন্ধু সুজিতকে . . . যাদের কে প্রেম করি ও তাদের ভেতর একজন।।
১২ ই আগস্ট, শনিবার, ২০০৬।