একটা নাটকের কাহিনী পরিকল্পনা করে ফেল্লাম !

সকাল থেকে অনেক উড়ামুড়া করেও কাজে মন বসাতে পারলাম না। যদিও কাজ শুরু করার আগের সময় টুকুকে আমি ইঞ্জিন গরম হবার সাথে তুলনা করি। মাথায় বেশ কিছু কাহিনী গুরপাক খাচ্ছে যেগুলোকে টেনে লম্বা বানালে একটা এক পর্বের নাটক বানিয়ে ফেলা যাবে। যাই হোক, এই মুহুর্তে যে চিন্তাটা মাথায় আসছে তা অনেকটা পরিচিত গল্পের মতো বা অনেকেই হয়তো বলবেন এটা নতুন কোন গল্প না।

আচ্ছা নাটকের কাহিনী বলার আগে একটা প্রশ্ন করি, কেউ কি কখনো মুরগীর স্বাভাবিক মৃত্যু দেখেছেন ? এই ব্যাপারটা গত দুই তিন ধরে মাঝে মাঝেই চিন্তা সীমানায় আছড়ে পড়ছে !

এখন নাটকে আসা যাক, কাহিনীর নায়ক বলেন আর কুশিলব বলেন, প্রধান চরিত্রে আছেন একজন কুকুর(দ্য ডগ )।

এটা একটা কুকুরের আত্মকাহিনী বা এই রকম কিছু না, এটা একটা কুকুরের জীবনের এক খাবলা কাহিনী মানে কাহিনীর আগে পরে আরো অনেক ঘটনা আছে যা আমার জানা নাই।

একটা কুকুর, খাবারের প্রতি তার অনেক লোভ। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সময়ের বৃহৎ যোগফলের একটা পর্যায়ে একদিন কুকুর পৌছালো একটি বাড়ির সামনে, বাড়িতে অনেক খাবার। কুকুর স্বপ্ন দেখা শুরু করলো… আজ সে অনেক খাবার খাবে। বাড়ির চারপাশে ঘুরাঘুরি করে, ফুঁটো খুঁজে। কিভাবে খাবারের কাছে পৌচ্ছানো যায়! অনেক চেস্টা করে পৌচ্ছে গেল খাবারের কাছে, চেয়ে রইলো অনেক আগ্রহের দৃষ্টি নিয়ে। আমি ঠিক পুরা ব্যাখ্যা করতে পারবো না খাবারের প্রতি তার কি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, কি আকাংখা ! কিন্তু যা হয় খাবারের মালিক কুকুরকে পাত্তাই দিলো, উপরন্তু একটা লাঠি দিয়ে দিলো আচ্ছা মতো ‘কষান আর ঘাপান’।
কুকুর ক্যা ক্যা ক্যা করতে করতে দিলো দৌড় ! হাপাতে হাপাতে দূরে গিয়ে করুন দৃষ্টি নিয়ে পেছনে ফিরে তাকালো। খাবার যে তার চাই ই চাই। অতঃপর পূর্বোক্ত ঠ্যাঙানির ব্যাথা সেরে গেলে কুকুর আবার সেই বাড়ির কাছে ! আলু ঢালু চোখে তাকায় ।। বাড়ির পাশে বসে বসে সে স্বপ্ন দেখে দিকবিদিক(বানানে ঝামেলা আছে মনে হচ্ছে ) …তার স্বপ্ন ভাঙলো পুনরায় ঠ্যাঙানি খেয়ে … ক্যা ক্যা ক্যা …। …………………………………………………………অতঃপর কুকুর আবার গেল সেই বাড়ির সামনে ।। এবার খাবারের মালিক কুকুরকে দেখে একটু ভাব জমালো। অনেক রং ঢং হইলো। খাবারের মালিক সুস্বাদু খাবারের তালা হাতে চ্যাং ব্যাং করে কিন্তু কুকুরকে খাইতে দেয় না। কুকুর যখন আবার স্বপ্নে বিভোর… আবার ঠ্যাঙানি …এই ভাবে চলে চলতে চলতে কুকুরের মনে অনেক অভিমান জমে গেল। সে খাবার খায়তে চায় না। সে আর যায় না ঐ বাড়ির কাছে। খাবারের মালিক কুকুরের অনুপস্থিতি বুঝতে পারলো, কুকুরের জন্য তার মায়া হওয়া শুরু হলো। মাঝে মাঝে এর ওর কাছে কুকুরের খবর জানতে চায়। কিন্তু কুকুর আর ঐ বাড়িতে দিকে ফিরে না। তার মানে জমে গেছে ‘খাদ্যাভিমান’ !

কুকুর আর ঐ বাড়ির সামনে যায় না, খাবারের মালিক কুকুরকে হাজার সাধলেও কুকুর আর খায় না। খায় না… এবং খায় না।

আমার গল্প শেষ। এখন সবাই ভাগেন। কাজ শুরু করার জন্য ইঞ্জিন এখন যথেষ্ট গরম। আমি এখন কাজে মন দেব ।

ধন্যবাদ।

11 Responses to “একটা নাটকের কাহিনী পরিকল্পনা করে ফেল্লাম !”

  1. স্বপ্ন দেখলেও দোষ !? তাই অভিমান করাই ঠিক আছে।

  2. খারাব => খাবার
    প্রধাণ => প্রধান
    পৌচ্ছালো => পৌছালো
    কুকুরে => কুকুরের

    দেখেন ফ্রি ফ্রি প্রুফ দেখে দিলাম 😉 এখন চকোলেট খাওয়ান 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *