কেন আমি ‘শাহবাগী’, ‘চেতনাবাজ’ এই শব্দ গুলো ঘৃনা করি

লেখার কিছু অংশ এক ছোট ভাইয়ের পোস্টে কমেন্ট আকারে লিখেছিলাম, সাথে আরো কিছু যুক্ত করে নিজের প্রোফাইলে পোস্ট করলাম।

সম্পর্কে আমার শালা নয় এই রকম কাউকে ‘শালা’ বললে সেইটা যাকে বলা হবে সে গালি হিসাবে নিবে। ‘শব্দ’ এর গুরুত্ব এমনই। শুধু ব্যক্তি ক্ষেত্র নয়, শব্দের ব্যবহার এর ক্ষেত্র অনুসারেও অর্থ পাল্টে যায় যেমন, ছোট বেলায় আমার বোন(দিদি) মা অসুস্থ থাকার জন্য একজন মা বাড়িতে রান্না বান্নাসহ গৃহস্থলী যেসব কাজ করেন তার সবই আমার দিদি করত। তো একদিন দিদিকে বললাম, দিদি তুইতো ভারি ‘কাজের মেয়ে’ রে ! আমার দিদি আমার বাবার কাছে নালিশ দিয়েছিল যে আমি তাকে ‘কাজের মেয়ে’ বলেছি। শব্দের গুরুত্ব এবং ক্ষমতা কতখানি বুঝতে পারছেন।

সচরাচর দুইটা শব্দ শুনতে আমার বেশ ঘেন্না লাগে।

একঃ “শাহবাগী”

শাহবাগী শব্দটা শুনতে আমার কাছে নোংরা লাগে। কারণ রাজাকারদের ফাঁসীর দাবী নিয়ে অনেকেই শাহবাগে গিয়েছিল কোন রকম রাজনৈতিক ফায়দা ছাড়াই, মানে প্রানের দাবী নিয়ে। এরপর থেকে এখনো যে কোন দাবী নিয়ে প্রায় মানুষ শাহবাগে আন্দোলন করে। বিশেষ করে রাজাকারদের ফাঁসীর দাবীর আন্দলোনের সময় এর বিরোধী যারা তারা “শাহবাগী” শব্দটা ব্যবহার করত। সহজ একটা উদাহরন, ধর্ম প্রতিষ্ঠানে কেউ প্রেয়ার এর জন্য যায় কেউ জুতা চুরি করতে যায় তার মানে ধর্ম প্রতিষ্ঠানমুখি মানুষকে খারাপ বলা ঠিক না কারণ কেউ কেউ জুতা চুরি করতে যায়। আমাদের দেশটা যেহেতু আদর্শ কোন ইকো সিস্টেমে চলে না তাই সব কিছুতেই ফায়দা লোটা লোক আছে। তবে শাহবাগে গিয়ে কেউ ফায়দা লুটতেছে তাদের নিয়ে কেউ যদি কিছু বলতে চায় সেইটা বলার জন্য অন্য পন্থা খুঁজে বের করা যেতে পারে।

দুইঃ “চেতনাবাজ বা চেতনাধারী”

সাধারণত এই শব্দটা বেশি ব্যবহার করে ৭১ এর পরাজিত শক্তির আদর্শধারণকারীরা আর কেউ কেউ না বুঝে তাদের ট্রেন্ড ফলো করে। চেতনা কি খারাপ কিছু? প্রতি ১০ জনের ভেতর ৮/৯ জন্য ধর্মীয় চেতনা ধারণা করে, এটা কি খারাপ কিছু ? এই যে বন্যা নিয়ে আমরা কত চেতনা দেখাচ্ছি এইটা কি খারাপ কিছু। কোন কিছু নিয়ে সজাগ হওয়া, সেইটার জন্য চিন্তা করা, সেই আদর্শ ধারণ করা এইটাই তো চেতনা, নাকি ? কেউ যদি ৭১, ধর্ম, আর্তমানবতার সেবা নিয়ে সজাগ থাকে তাহলে খারাপ কিছু দেখি না। যারা এটা নিয়ে ফায়দা লুটে তাদের জন্য অন্য কোন শব্দ ব্যবহার করুন।

আমি আবারও বলব, আমাদের দেশটা যেহেতু আদর্শ কোন ইকো সিস্টেমে চলে না তাই সব কিছুতেই ফায়দা লোটা লোক আছে। তাদের নিয়ে যদি আপনি ঘৃনা প্রকাশ করতে চান তাহলে স্পেসিফিক ভাবে করুন, জেনারালাইজড মন্তব্য করা উচিৎ না। শব্দ মানুষকে আঘাত করে বৈকি !

বিঃ দ্রঃ এই পোস্ট কোন রকম কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন। কমেন্ট মডারেশন বা উত্তর দেওয়ার সময় নাই। চাইলে লাইক লুইক দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে পারেন। এই লেখা আমার একান্ত নিজস্ব চিন্তা।

জন্মদিন ২০১৭

জন্মদিনে যারা শুভকামনা জানিয়েছেন এবং যারা জানাতে ভুলে গেছেন সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাদের এই শুভাশীস আমার জন্য চরম পাওয়া। একে একে সবাইকে উত্তর দেওয়ার চেস্টা করব তবে যদি কাউকে উত্তর দিতে ভুল হয়ে যায় তার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

বাসায় জন্মদিনের ছোটখাট কোল্ডড্রিংসের পার্টিতে এসেছিল বিবাহিত বন্ধু Pallab Das এবং অবিবাহিত বন্ধু Sujit Biswas কিন্তু ইদানিং জন্মদিনের পার্টিতে এসে অনেকেই বিপদে পড়ছেন তাই রাত বাড়ার আগেই ওরা কেটে পড়ছে ! Subrata Nag Partho ছোট ভাই তাই ওকে এই আলোচনার বাইরে রাখলাম।

এবছর একটা বিষয় খেয়াল করলাম যে, সামাজিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের ভার্চুয়াল মাধ্যম হিসাবে লিঙ্কডইন আগের থেকে এগিয়েছে অথবা লিঙ্কডইনে বাংলাদেশ থেকে ব্যবহারকারি বেড়েছে কারণ লিঙ্কডইনে এবছর আগের যেকোন সময় থেকে বেশি জন্মদিনের শুভেচ্ছা পেয়েছি।

আজকের দিন একটা বড় ঘটনা হল প্রথমবারের মত দরকারি কাজে আইফোনের ভার্চুয়াল এসিস্টেন্স ‘Siri’ র সাহায্য নিলাম যা আইফোন প্রায় নষ্ট হবার পরে। ‘Siri’ কে আপনি ভয়েস কমান্ড দিয়ে বলবেন বাছা ‘Siri’ তুমি আমার বউয়ের জন্মদিনের এক সপ্তাহ আগে, একদিন আগে, জন্মদিনের দিন সকালে, দুপুরে এবং রাত ১২ টার মনে করায়ে দিবা, একই রকম বিষয় বিয়ে বার্ষিকীতেও করবা বলে তোমার ক্যালেন্ডার যুক্ত করে নাও, ব্যাস, আপনি এবার নাকে তেল দিয়ে ঘুমান আপনার বউয়ের জন্মদিন, বিয়ে বার্ষিকী কিছুতেই মিছ যাবে না।

গতকাল সকাল থেকে আজকে এখন পর্যন্ত আমার কিছুটা নার্ভাসনেস যাচ্ছে কারণ গতকাল নাকি তার আগেরদিন সকালে একটা কম্পানীর মালবাহী ভ্যান টাইপ গাড়ি পেছন থেকে আমাকে ধাক্কা দিয়েছে, লেগেছে পিঠের মাংশপেশীতে, তাই সামান্য ব্যাথা আর যেখানে লেগেছে সেখানে লাল হয়ে আছে। তবে যদি আমি চার ইঞ্চি খাট হতাম লোহার রডের মত কিছু একটা ঠিক আমার ঘাড় বরাবর নিশ্চিৎ আঘাত করে খারাপ কিছু করে ফেলত, হতে পারত আমি ৩৩ তম জন্মদিনের আগেই কুপোকাত ! এই যে বেঁচে আছি, হাত পা ছুড়ছি, ফেসবুকে বড় বড় লেকচার দিচ্ছি এই গুলো জীবনের পরম প্রাপ্তি। রাগে ফুঁসে প্রথমে ভেবেছিলাম ভ্যানগাড়ির চালককে দুঘা বসিয়ে দেই কিন্তু নিজের রাগ সম্বরন করে তাকে মাপ করে দিলাম। তবে জীবনের সবক্ষেত্রে এই রকম রাগ চাপতে পারি না, কখনও কখনো রাগের মাথায় বন্ধু, পরিবার, বউ কিংবা অফিসের কলিগের সাথে চিৎকার চেচামেচি করে ফেলি, বেশির ভাগ সময় পরে খারাপ লাগে। এইতো সেদিন ফুটপাথের এক খারাব বিক্রেতাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে শেখাতে গিয়ে অপমানিত হলাম। সে আমাকে উত্তর দিল, আপনি আমাকে কি শেখাবেন। সেদিন রাত ৪টা পর্যন্ত আমার মাথার ভেতর শুধু এই অপমান বাক্যটি বার বার ঘুরঘুর করেছে। পরে মনে সান্তনা দিয়েছি যে, যেখানে মানুষ খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার থেকে খাওয়ার পরে হাত ধোয়াকে বেশি গুরুত্ব দেয় সেখানে ফুটপাতের খাবার বিক্রেতাকে শেখাতে যাওয়া আমারই ভুল। ইদানিং এই আমারই ভুল এই অনুভূতি আমি গিলতে শুরু করেছি। মাঝে মাঝেই আমার বউ অভিযোগ করে জানো আজকে বাসে একজন যাত্রী বা হেল্পার খারাপ ব্যবহার করল কিন্তু বাস ভর্তি কোন পুরুষ মানুষ একটা প্রতিবাদ করল না, পেছন থেকে কেউ কেউ আবার দাঁত কেলিয়ে হাসতেছিল আমি কি উত্তর দেব বুঝতে পারি না। মাঝে মাঝে খুব আশাবাদিদের মত উত্তর দেই, সম্ভবত দুই চারজন ভালো পুরুষ ছিল যারা এখন নুরুত্তাপ হয়ে গেছে।

Rajesh Saha এবং Abdullah Md Wasim কে ধন্যবাদ অফিসে (Codeboxr) এ আমার জন্মদিন উপলক্ষে কেক এবং মিষ্টির আয়োজন করার জন্য। অফিস আমার জন্য ২য় পরিবার যদিও আমার বউ মনে করে আমি বাসার থেকে অফিস নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকি(গোপন কথা হচ্ছে সবার বউই এক রকম চিন্তা করে আর যদি আপনি এন্ট্রাপ্রানার হন তাহলে আপনি আমার সাথেই তাল মিলিয়ে বলবেন, ‘ভাই আমিও সেইম টু সেইম’)।

বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ আমার একমাত্র বউ Supriti Nandi কে লুচি, তরকারি এটাসেটা রান্না বান্না করে খাওয়ানোর জন্য। আমার উচিৎ ছিল লেখার শুরতেই বউকে এই ধন্যবাদ জানানো, কারণ ঘরের লক্ষীকে খুশি রাখা সব পুরুষের প্রধান দ্বায়িত্ব।

আচ্ছা মা ছাড়া এটা আমার প্রথম না দ্বিতীয় জন্মদিন ঠিক মনে করতে পারছি না। আমার বউ হয়তো জানে, ‘আমার বউ সব জানে’।

সবাইকে শুভরাত্রি।

স্কুল শেষে রাস্তা কাঁদা দেখলেই দুইটা পলিথিন বের করে দুই পায়ে জড়িয়ে …

ছোটবেলায় আমি যে প্রাইমারি স্কুলে পড়েছি তার নাম সীতারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলে যাওয়ার জন্য তখন নড়াইল যশোর মেইন রোড থেকে কিছুটা পথ কাঁচা রাস্তা ছিল। তো কাঁচা রাস্তা যা হয় আরকি, সামান্য বৃষ্টিতে যাচ্ছেতা অবস্থা। তার উপর এঁটেলে মাটি। প্রতিদিন স্কুল শেষে স্কুল থেকে ঐ নড়াইল যশোর মেইন রোড পর্যন্ত ঐ কাঁচা রাস্তা দিয়ে হেটে এসে বাসে বা ভ্যানে উঠে বাসায় আসতে হত। আমার বাবা যেহেতু ঐ স্ক্লে শিক্ষকতা করতেন তাই আমি বাবার সাথে বাড়িতে ফিরতাম। স্কুল শেষে বাবাসহ অন্যান্য শিক্ষক এবং শিক্ষিকারাও এক সাথে বের হতেন এবং সবাই পায়ে হেটে । বৃষ্টি হলেই রাস্তায় কাঁদা হত আর খালি পায়ে ছাড়া চলা যেত না। অন্য দিকে কাঁদা রাস্তা পার হতে গুড়ালির উপরে কাঁদা লেগে যেত, মেইন রোডে পৌচ্ছে সবাই আবার রোডের পাশের খাল থেকে পা ধুয়ে নিতেন।

যেহেতু যে কোন দিন বৃষ্টি হতে পারে এবং রাস্তা কাঁদা হবে এবং খালি পায়ে কাঁদা মেখে স্কুল থেকে মেইন রোড পর্যন্ত যেতে হবে তাই আমি চিন্তা করলাম কি করা যেতে পারে। হঠাৎ মাথায় আইডিয়া আসল পলিথিন ব্যাগের। স্কুল ব্যাগের ভেতর সবসময় কিছু পলিথিন ব্যাগ রেখে দিতাম। স্কুল শেষে রাস্তা কাঁদা দেখলেই দুইটা পলিথিন বের করে দুই পায়ে জড়িয়ে স্যান্ডেল হাতে নিয়ে সবার আগে আগে হেঁটে যেতাম, মেইন রোডে পৌচ্ছে ময়লা পলিথিন ফেলে আমি দিব্যি রেডি হয়ে যেতাম বাড়ি যাবার জন্য। দুই একদিন পরে দেখি একজন শিক্ষক এবং দুইজন শিক্ষিতা আমার কৌশল নিজেরাও ফলো করা শুরু করেছে।

আমি যতদূর জানি আমার সেই প্রাইমারি স্কুলে যাবার সেই কাঁচা রাস্তা এখন পাকা বা আধাপাকা হয়েছে এবং রাস্তায় আর কাঁদা হয় না। নিশ্চয় এখন যারা ঐ স্কুলে পড়ছে তারা নতুন কোন সমস্যার খুব সহজ সমাধান নিয়ে ভাবে।

কাওরান বাজারে বিউটিপার্লারঃ নতুন ব্যবসা আইডিয়া

এই পোস্টের টাইটেল চিন্তা করে বউকে জানালাম, বউ বলল, “খেয়ে কাজ নাই তোমার ?” আমি কিঞ্চিৎ বিচলিত না হয়ে লেখায় হাত দিলাম। ডিজিটাল যুগ, কীবোর্ডের কালি শেষ হয় না, যত ইচ্ছা লেখা যায়।

প্রিকোয়েলঃ

সেদিন শাহীনা আপু বলতেছিল, জানো সবুজ এবার ইন্ডিয়াতে ইদের বাজার করতে গিয়ে দারুন এক অভিজ্ঞতা। দেখি অদ্ভুতশাড়ীজ এর মিজান ভাইও গেছে। জিজ্ঞাসা করলাম, আপনিও ইদের বাজার করতে আসছেন, ভাবী কই ? মিজান ভাই, তো তো করে চলে গেল অন্য দিকে। শাহীনা আপু বলল, জানো মিজান ভাই এর দোকান থেকে যে শাড়ি ৮ হাজার দিয়ে কিনতাম সেইটা ৪ হাজারে কিইন্যা আনলাম। আপুর চোখে মুখে জিতে যাবার হাসি চিক চিক করতেছিল, মনে হচ্ছিল উনি উদ্ভুৎশাড়ীজ এর মিজান ভাই এর মাথায় অনেক গুলো পচা ডিম ছুড়ে মেরেছেন আর মিজান ভাই ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন।

বর্তমান এবং বাস্তবতাঃ
আমি যেখানে থাকি সেখান থেকে কাওরান বাজার খুব বেশি দূর না। আমার বউ প্রায় বলে সকাল দশটা পর্যন্ত না ঘুমিয়ে একদিন সকালে উঠেতো কাওরান বাজারে যেতে পার। আমি প্রতিবার তাকে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলে দেখি ঘুমের সাইকেলটা ঠিক হোক। আমি ঠিক করেছি একদিন খুব ভোরে কাওরান বাজার থেকে বাজার করে এনে বউকে চমকে দেব। আমার ব্যক্তিগত ভাবে ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় থাকার সুবাদে অন্তত ৫/৬টা কাঁচাবাজারে বাজার করার অভিজ্ঞতা আছে। এর ভেতর পলাশী কাঁচা বাজারে গিয়ে আমি কোন সময় দামাদামি করিনা, কারণ আমি জানি যে দামাদামির কারণে দামতো কমবে না অন্যদিকে দামাদামির কারণে সম্ভোষন ‘স্যার’ থেকে ‘ভাই’ তে নেমে আসবে এবং যখন বুঝবে এই দামে আমি কিনব না তখন পেছন থেকে শুনতে হবে, ভাই এই দামে না কিনলে আর অমুক জিনিস খাওয়া লাগবে না ! পলাশী কাঁচাবাজার যদি হেড স্যার হয় তাহলে হাতিরপুল কাঁচাবাজার সেকেন্ড স্যার। বেশির ভাগ তরকারি বিক্রতা কাওরান বাজার থেকে ভোর বেলা মাছ এবং তরকারি কিনে দুই গুন দামে বেচা শুরু করে এবং দুপুরে দাম কমিয়ে দেড় গুন এবং সন্ধ্যার পর ৫-১০ টাকা কেজিতে বেশি রেখে বলে কেনা দামে দিয়ে দিচ্ছি স্যার, তারপরেও যদি কন দাম বেশি !

গ্রুপে বাজার করাঃ

ইলিশ মাছ বেশি বড় হলে স্বাদ থাকে না, মাঝারি গুলোরই স্বাদ বেশি, এরপরও কিছুলোক সারাজীবন বাজারে গিয়ে সবচেয়ে বড় ইলিশ মাছই কিনবে। কিন্ত একটা শ্রেনী আছে যারা মাছ বাজারের এপাশ থেকে ওপাশ ঘুরে দাম দেখে বুঝে শুনে এরপর মাছ কিনবে নাকি কিনবে না ঠিক করে। এই শ্রেনীর জন্য একটা ভালো ব্যাপার হতে পারে তাদের বউয়ের পরামর্শ শুনে কাওরান বাজার থেকে বাজার করা। এখন কাওরান বাজারে আপনি হাফ কেজি কিনতে পারবেন না, আপনাকে কিনতে হবে পাল্লা অনুসারে মানে ৫ কেজি , ১০ কেজি এই রকম। এতো বেশি মাছ বা তরকারি কেনাও সমস্যা। তাই ফেসবুকে গ্রুপ তৈরি করে ছোট ছোট গ্রুপে বাজার করা যেতে পারে।

কাওরান বাজারে বিউটিপার্লারঃ নতুন ব্যবসা আইডিয়াঃ

এবার আসি মূল টপিকে। কাওরান বাজারে মানুষ সবজি কিনতে যাইতে পারে, মাছ মাংস কিনতে যাইতে পারে কিন্তু বিউটিপার্লারে কি করবে। যেহেতু আমার বউ মাঝে মাঝে বলে, তুমিতো কাওরান বাজার থেকে একদিন ঘুরে আসতো পারো, আমার ধারণা কাওরান বাজারে অন্তত ২/৩ কিলোর মধ্যে যত বিবাহিত ভাবী আর আপুরা আছেন কমবেশি সবাই এই রকম ডায়গল দেন। আবার ভাবিদের আপুদের মাঝে মাঝে বিউটিপার্লারে যাওয়াই লাগে। তাই কাওরান বাজারের খুব কাকাকাছি একটা বিউটিপার্লার দেওয়া যায়, নামও আমি চিন্তা করছি, ব্রান্ড নেমঃ “আলমাছ”, ট্যাগ লাইনঃ ব্রু প্লাক করাতে করাতে পানির দামে মাছ কিনুন। বিভিন্ন প্যাকেজ থাকতে পারে, অমুক সার্ভিস+ ৫কেজি রুই মাছ = ৮০০ টাকা, ত্মুক সার্ভিস+১০ কেজি আলু = ২০০ টাকা। এর সাথে দেশী বাইক শেয়ারিং সার্ভিস যুক্ত করা যেতে পারে, ভোর বেলা ভাবীদের বাসা থেকে নিয়ে আসবে, পার্লার এর কাজ শেষ সাথে সপ্তাহের কাঁচাবাজার নিয়ে বাসায় দিয়ে আসবে। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, শুধু ভাবী আর আপুরা কেন, ভাইয়ারা কেন বাদ যাবে ? না, আইডিয়াটা সবার জন্যই হতে পারে, শুধু মেয়েদের বিউটিপার্লার কেন ছেলেদের সেলুনও হতে পারে।

বিঃ দ্রঃ যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হয়েছে সবই ছদ্মনাম।

How to Disable Scroll History Restoration in Browser using Javascript

It’s default feature of browser that it saves scroll history. Suppose you scroll half window, now refresh browser will load from the half window. But sometimes we need a custom arrangement for this behavior of browser and disable this scroll history. To manipulate history of browser there is history api. Also, there is a blog post in google developer blog to clear this.

I found two polyfill that helps to make this work in all most all modern browser except IE Edge.

  1. https://github.com/bfred-it/scroll-restoration-polyfill
  2. https://github.com/brigade/delayed-scroll-restoration-polyfill

Just include the polyfil and override the history restore behavior of browser

ভাবী জানে?

আমার ফেসবুকের বিবাহিত বন্ধুরা নিশ্চয়ই মাঝে মাঝে এই ধরনের মন্তব্য শুনে থাকে। যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই মন্তব্য দাতা এবং ভাবীর সাথে বাস্তব জীবনে পরিচয় হওয়া তো দূরের কথা, ভাইয়ার সাথেই হয়ত দেখা সাক্ষাৎ ফেসবুকের বন্ধুত্ব পর্যন্ত। কিন্তু এই “ভাবী জানে ?” এই ধরনের মন্তব্য কেন করা হয় এবং কেন করা উচিত না সেইটা নিয়ে আমাদের একটু চিন্তা করা উচিত।

অনেকে যেমন এটিএম বুথ থেকে একবারে ৫০০ টাকার বেশি তুলে না তেমন অনেকে ফেসবুকে বন্ধু হিসাবে যুক্ত করে জানা শোনা আছে এবং অনেক কিছু চেক করে, মানে অচেনা অজানা কাউকে ফেসবুকের বন্ধু হিসাবে একসেপ্ট করে না এবং তাদের অধিকাংশের ফেসবুক প্রোফাইলের প্রাইভেসি ফ্রেন্সড অনলি। ফ্রেন্ডস অনলি এর মানে হল তার প্রোফাইলের সব এক্টিভিটি শুধুমাত্র ফেন্ড ছাড়া অন্য কেউ দেখতে এবং শেয়ার দিলেও দেখতে পারবে না। কিন্তু আমাদের অনেকেই আছে যারা পেশাগত এবং কমিউনিটি ওয়ার্ক এর জন্য ফেসবুক প্রোফাইলে ১০০% পাবলিক। ৯৯% পোস্ট আমরা দেই পাবলিক। একারনে অনেকে সময় ব্যক্তিগত ছবি, পারিবারিক ছবি, বউ ছেলে মেয়ের ছবি শেয়ার করি। একদিকে যেমন প্রোফাইল ১০০% পাবলিক এবং অন্যদিকে ৯৯% বন্ধুই ভার্চুয়াল তাই কিছু সমস্যা প্রায় ফেস করি। এটা শুধুমাত্র আমার একার সমস্যা না, অনেকেই এই একই সমস্যা ফেস করছে।

কঃ ভাবী জানে?

ভাবী জানে? টাইপ এর মন্তব্য বেশ কমন। যাদের সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় আছে তারা সাধারণত এই ধরনের মন্তব্য করে না, যাদের সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় নেই তাদের এই ধরনের আগ্রহ বেশি। আমার পরামর্শ কেউ ব্যক্তিগত কিছু পোস্ট করলে বিষয়টা ব্যক্তিগত পর্যায়ে রাখা ভালো। এই ধরনের পোস্টে পোষ্ট দাতার বউ বা ছেলে মেয়েকে ট্যাগ করা বা তাদের উদ্দেশ্যে লেখা উচিত না যদি না আপনি ঐ ব্যক্তির সাথে বা তার পরিবারের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে যুক্ত না থাকেন। আপনাকে বন্ধু তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে মানে আপনি যা ইচ্ছা তা বলার অধিকার রাখেন না।

খঃ ভাইয়ার বিষয়ে ভাইয়ের প্রোফাইল থেকে খুঁজে ভাবীকে জানানো

সেদিন এক বড় ভাই ফেসবুকে কি কবিতা লিখেছে সেইটা নিয়ে একজন তার ওয়াইফকে ফেসবুকে মেসেজ করেছে। এটা অবশ্যই বেয়াদবি বা অনধিকার চর্চা। নিশ্চয় ঐ ভাইয়ার দরকার হলে তার ওয়াইফকে এটা দেখাবেন বা তার ওয়াইফ ফেসবুকে ঢুকলে এটা দেখতে পারবেন। এই ধরনের অনধিকার চর্চা থেকে বিরত থাকুন।

গঃ ভাইয়ার প্রোফাইল থেকে খুঁজে ভাবীকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানো

আবারও বলি, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে পরিচয় আছে তাদের জন্য এটা নয়। যাদের পরিচয় নাই তাদের জন্য। ‘লুল পুরুষ’ বলে একটা শব্দ আছে। এটার মানে সবাই জানে আশা করি। বাস্তব জীবনে মেয়ে দেখলেই যাদের লোল ঝরে এই ধরনের পুরুষেরা ফেসবুকেও আছে। এদের স্বভাব হচ্ছে, ভাইয়ার প্রোফাইল থেকে খুঁজে ভাবীকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানো এবং এরপর ভাবীকে এটা ওটা বলে মেসেজ পাঠানো। আজক জানলাম একজন ভাবী মনে করে ভাইয়াকেই মেসেজ পাঠিয়ে দিয়েছে।

ক, খ এবং গ এর মত অসংখ্য উদাহরন আছে কিন্তু এত লিখতে গেলে আরও সময় লাগবে যা অনেক দুর্লভ , তাই আজক এই টুকু।

বিঃ দ্রঃ এই নোটের শিরোনাম অনেক আকর্ষনীয়, তাই না ?
বিঃ দ্র ২ঃ বানান ভুল, শব্দ বিপর্যয় , বর্ণ বিপর্যয় ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

কুকুরের স্বপ্ন

একদিন স্বপ্নে দেখলাম, আমি একটা কুকুরের সাথে ডাস্টবিনের ময়লা থেকে খাবার খুটে খাচ্ছি।

কিছুক্ষন পর দেখলাম পরিচিত অপরিচিত অনেকেই এসে যোগ দিল।

এক সময় খেয়াল করলাম, ঠেলাঠেলিতে বিরক্ত হয়ে কুকুরটি খাওয়া ফেলে চলে গেল। আর এদিকে কেউ কেউ খাওয়া নিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে বলতে শুরু করেছে এলাকার অমুক ভাই তার আপন চাচা ! খাওয়া বেশি হয়ে যাওয়ায় খেতে খেতেই আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।

হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল, খেয়াল করলাম, মুখের উপর সকালের আলো এসে পড়েছে।

//কুকুরের স্বপ্ন (Dreaming on behalf of a Dog)
//০২-০২-২০১৭

হালুম এবং মালুম

স্বপ্নে দেখলাম একটা বাঘের খাঁচায় জোড় পূর্বক আমাকে ফেলে দেওয়া হল।
বাঘটি আমাকে দেখে কিঞ্চিৎ বিরক্ত হল এবং কোন প্রকার হালুম মালুম করল না ! বাঘটি নিরামিষভোজি ছিল।
আমি অপমানিত বোধ করলাম এবং রেগে ক্ষেপে বাঘের ঘাড়ে কামড় দিয়ে হালুম এবং মালুম অনুভব করলাম।
দেখি ঘুম ভেঙে গেছে, জানালা দিয়ে ভোরের সাদা আলো আভা ঢুকছে রুমে।

অভিশাপ

//অভিশাপ

তুমি অভিশাপ দিলে, আমার ঘর পুড়ে যাক।

আমি ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখলাম, আমার ঘর পুড়ে যাচ্ছে, এরপর আমি ঘরপোড়া ছাই দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলাম।

ঘুম থেকে উঠে দেখলাম আমার ঘর পুড়ে নাই, কারণ কোন দিন আমার কোন ঘরই ছিল না।

আমি পরের দিন তোমার অভিশাপের অপেক্ষায় আবার ঘুমিয়ে পড়লাম, স্বপ্নে দেখলাম, তুমি আমার ঘর পোড়া আগুনের তাপে আঁচে অন্তত গতকালের শীতের রাত্রি ভালো কাটয়েছিলে। আগুনে আঁচ নেওয়ার জন্য পোড়ার মত আমার ঘর নাই কেন এটা ভেবে তুমি আমাকে আবার অভিশাপ দিলে। কি অভিশাপ দিলে আমি মনে করতে পারছি না, কারণ তার আগেই আমার ঘুম ভেঙে গেল।

কোন এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম, তুমি শীতে প্রচন্ড কাঁপছ। আমি তোমার দিকে অসহায়ের মত তাকিয়ে আছি, তোমাকে সামান্য গরমের আঁচ দেওয়ার জন্য পোড়ানোর মত আমার কোন ঘর নাই কারণ কোন দিন আমার কোন ঘরই ছিল না।

পরের দিন স্বপ্নে দেখলাম, তোমাকে শীত থেকে বাঁচাতে তোমাকে আমার বুকে জড়িয়ে রেখেছি।

//১৯.১২.২০১৬

RIP আলমগীর ভাই

অনন্ত যাত্রার যাত্রী আমরা সকলেই
কেউ কেউ বলে, যাত্রীকে ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্ন ট্রেনে পুনরায় নতুন পরিচয়ে ফিরতে হয়
কেউ কেউ বলে ফিরতে হয় না
রহস্যটা যাত্রা এবং যাত্রীর ভেতরই থাক।

আমরা সহযাত্রির সাথে কাছাকাছি, পাশাপাশি কিংবা সাংঘর্ষিক অবস্থানে থেকে যাত্রা পথের যহযাত্রী হই,
কেউ কেউ আগে আর কেউ পরে
শেষমেশ সেই অনন্ত যাত্রা।
হে অনন্ত পথের যাত্রি যেভাবে থাক ভালো থেক।

#RIP আলমগীর ভাই